ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ডিজিটাল ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি চালু হলো চট্টগ্রামে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

বই এখন আর কেবল শেলফে বন্দি নয়, বরং পাঠকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে প্রযুক্তির ছোঁয়ায়। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় শিক্ষাবান্ধব এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়েছে। ‘বর্ণগ্রাম’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে চালু হয়েছে ডিজিটাল ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সাতকানিয়া উপজেলা অফিস চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই লাইব্রেরির উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান এবং প্রবীণ শিক্ষক মাস্টার আবদুচ ছালাম ফিতা কেটে ও পর্দা উন্মোচনের মাধ্যমে লাইব্রেরিটির উদ্বোধন করেন। সাতকানিয়ার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও প্রবীণ শিক্ষক মাস্টার আবদুচ ছালামের নামেই এই লাইব্রেরির নামকরণ করা হয়েছে। তরুণ শিক্ষানুরাগী ও সমাজকর্মী জাহেদুল ইসলামের ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বর্ণগ্রামের ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

আয়োজকদের দাবি, এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি। এই লাইব্রেরির বিশেষত্ব হলো, পাঠকেরা ঘরে বসেই অনলাইনে বইয়ের তালিকা দেখতে পারবেন এবং পছন্দের বইটি বুকিং দিতে পারবেন। নির্ধারিত সময় ও রুট অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ ভ্যানটি সরাসরি পাঠকের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দেবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই লাইব্রেরি দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে, যা গ্রামীণ এলাকায় বইয়ের সহজপ্রাপ্যতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি প্রান্তে বই পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। স্মার্টফোনে অতিরিক্ত আসক্তি থেকে শিশু ও নারীদের দূরে রেখে তাদের বইমুখী করতে চাই। মাস্টার আবদুচ ছালাম স্যারের আদর্শ অনুসরণ করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

প্রাথমিকভাবে সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নসহ আশপাশের ৭ থেকে ৮টি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম চালানো হবে। ভ্রাম্যমাণ ভ্যানটি নিয়মিতভাবে প্রধান বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যাবে। কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রতিটি স্কুলে একজন করে ‘বুক ক্যাপ্টেন’ ও একজন সমন্বয়ক শিক্ষক থাকবেন। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বছর শেষে পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে যাত্রা শুরু করা এই লাইব্রেরিটি ভবিষ্যতে দাতা ও শিক্ষানুরাগীদের সহায়তায় আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

আগৈলঝাড়ায় অপারেশন ডেভিল হান্টে আ.লীগ নেতা হান্নান গ্রেফতার

ডিজিটাল ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি চালু হলো চট্টগ্রামে

প্রকাশিত : ০৭:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বই এখন আর কেবল শেলফে বন্দি নয়, বরং পাঠকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে প্রযুক্তির ছোঁয়ায়। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় শিক্ষাবান্ধব এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়েছে। ‘বর্ণগ্রাম’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে চালু হয়েছে ডিজিটাল ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সাতকানিয়া উপজেলা অফিস চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই লাইব্রেরির উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান এবং প্রবীণ শিক্ষক মাস্টার আবদুচ ছালাম ফিতা কেটে ও পর্দা উন্মোচনের মাধ্যমে লাইব্রেরিটির উদ্বোধন করেন। সাতকানিয়ার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও প্রবীণ শিক্ষক মাস্টার আবদুচ ছালামের নামেই এই লাইব্রেরির নামকরণ করা হয়েছে। তরুণ শিক্ষানুরাগী ও সমাজকর্মী জাহেদুল ইসলামের ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বর্ণগ্রামের ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

আয়োজকদের দাবি, এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি। এই লাইব্রেরির বিশেষত্ব হলো, পাঠকেরা ঘরে বসেই অনলাইনে বইয়ের তালিকা দেখতে পারবেন এবং পছন্দের বইটি বুকিং দিতে পারবেন। নির্ধারিত সময় ও রুট অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ ভ্যানটি সরাসরি পাঠকের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দেবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই লাইব্রেরি দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে, যা গ্রামীণ এলাকায় বইয়ের সহজপ্রাপ্যতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি প্রান্তে বই পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। স্মার্টফোনে অতিরিক্ত আসক্তি থেকে শিশু ও নারীদের দূরে রেখে তাদের বইমুখী করতে চাই। মাস্টার আবদুচ ছালাম স্যারের আদর্শ অনুসরণ করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

প্রাথমিকভাবে সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নসহ আশপাশের ৭ থেকে ৮টি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম চালানো হবে। ভ্রাম্যমাণ ভ্যানটি নিয়মিতভাবে প্রধান বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যাবে। কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রতিটি স্কুলে একজন করে ‘বুক ক্যাপ্টেন’ ও একজন সমন্বয়ক শিক্ষক থাকবেন। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বছর শেষে পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে যাত্রা শুরু করা এই লাইব্রেরিটি ভবিষ্যতে দাতা ও শিক্ষানুরাগীদের সহায়তায় আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।