পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। শুক্রবার সকালে এ অগ্নিকান্ডে আরও অন্তত ৩টি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বেরিবাঁধের বাইরের সৈকতসংলগ্ন সীকুইন হোটেল ও শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির এর পাশের এলাকায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে এলাকার ব্যবসায়ী দোকানগুলোতে।
খবর পেয়ে কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এরই মধ্যে আগুনে ব্যবসায়ীদের ২টি খাবার হোটেল, ২টি কাপড়ের দোকান, ১টি মুদি-মনোহারী দোকান, ১টি ঝিনুকের দোকান, ১টি জেনারেটরের দোকান ও ১টি চায়ের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন,সালমা বেগম (হোটেল ‘তিন কন্যা’),নাসির হাওলাদার (বিসমিল্লাহ হোটেল),শহীদ সিকদার (ঝিনুকের দোকান), বেল্লাল হোসেন (কাপড়ের দোকান),মিলন মিয়া (মুদি-মনোহারী দোকান),মিলন আকন (জেনারেটরের দোকান) ও একটি চায়ের দোকান রয়েছে। এই দোকানের মালিকের নাম জানা য়ায়নি। এদিকে কিভাবে আগুনের সুত্রপাত এর সঠিক তথ্য সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা নানা কথা বলছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অগ্নিকান্ডের ঘটনার সময় অধিকাংশ দোকানই তালাবদ্ধ ছিল। একটি কক্ষে কয়েকজন লোক অবস্থান করলেও তারা দ্রুত বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন এবং পাশের দোকানগুলোর মালামাল সরিয়ে নেন।
ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, পর্যটননগরী কুয়াকাটায় এখনো কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই। কলাপাড়া থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। আগুনের খবর দেওয়ার পর সেখানে থেকে দমকল বাহিনী আসতে আসতেই অধিকাংশ দোকান পুড়ে যায়। তাই কুয়াকাটায় দ্রুত একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সকালেই আগুনেরস্থল পরিদর্শন করেছেন কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং আগুনের উৎস শনাক্তে কাজ চলছে।
কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আবুল হোসেন জানান, ‘খবর পাওয়ার পর সকাল আটটার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।’

ডেস্ক রিপোর্ট 






















