নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনায় গাছে গাছে ফুটছে আমের সোনালী মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে ম ম গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে তুলে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা দিচ্ছে আমের মুকুল। নেত্রকোনায় বেশ কয়েকটি উপজেলার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,প্রতিটি গ্রামের মধ্যে খালী জায়গায়, পুকুর পাড়, রাস্তার ধারে ও বাড়ির আঙ্গিনার গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে কেবলই আমের মুকুল। মুকুলে মুকুলে ছেঁয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। তবে এই আমের ফলন নির্ভর করছে শুধুই আবহাওয়ার ওপর। নেত্রকোনায় বসন্তের প্রকৃতিতে এখন ছড়িয়ে পড়েছে আমের মুকুলের মনমাতানো সুবাস। আম গাছগুলোতে নতুন মুকুলে ভরে উঠেছে ডালপালা। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা মুকুলের সৌরভে চারপাশে তৈরি হয়েছে এক অনন্য প্রাকৃতিক আবহ।জেলার গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে বাড়ির আঙিনায় এখন চোখে পড়ছে সোনালি-সবুজ রঙের মুকুল। সকালবেলা শিশিরভেজা মুকুলের গন্ধে পরিবেশ হয়ে উঠছে আরও স্নিগ্ধ।

এদিকে গ্রামগঞ্জের অনেকেই জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও সময়মতো মুকুল আসায় তারা আশাবাদী ভালো ফলনের। অনেকেই বলছেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। তবে তারা আশঙ্কা করছেন, অকাল ঝড়-বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি হলে মুকুল ঝরে পড়তে পারে। তাই অনেকেই গাছের পরিচর্যায় বাড়তি নজর দিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম হয়,তবে এবছর আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে,আমের মুকুলের সুবাসে নেত্রকোনা এখন এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবরণে মোড়ানো। প্রকৃতির এই অপূর্ব রূপ উপভোগ করতে অনেকেই বিকেলে বিভিন্ন আম বাগানে ঘুরতে যাচ্ছেন। বসন্তের এই সৌন্দর্য যেন মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করছে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলোতে। বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মানুষের চোখে ভাসছে স্বপ্ন।
এদিকে জেলার বিভিন্ন বাগান মালিকরা জানান, মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঔষুধ স্প্রে করছেন তারা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বিভিন্ন জাতের আমের চাষাবাদ হয় যেমন আমরুপালী, বারি-৪, কাটিমন, বারি-১১ ফজলীসহ স্থানীয় জাতের আম চাষ করেছেন অনেকেই। ক্ষুদ্র আম চাষী নজরুল বলেন, “বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে আর আমের মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন। মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। এবছর ভালো পরিমাণে আম পাওয়া যাবে বলে আশা করি।” নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “এ জেলায় অনেক আম চাষী আছে তাছাড়া সব বাড়িতেই আমগাছ রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে সবাইকে আমের উৎপাদন বৃদ্ধি ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি আমিসহ আমাদের সকল উপজেলা কৃষি অফিসার সহ বিভিন্ন ব্লকে থাকা উপসহকারী কৃষি অফিসাররা।

ডেস্ক রিপোর্ট 












