ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশাল বাকেরগঞ্জ আগাম ভালো মানের তরমুজ চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন চাষীরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৬:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নদীর চরে মাঠের পর মাঠ বিস্তৃত তরমুজ ক্ষেত। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ছোট বড় আগাম জাতের তরমুজ। ফলে তরমুজ চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন বাকেরগঞ্জের চাষিরা।

জানা যায়, চলতি বছর বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ টি  ইউনিয়নে আগাম জাতের তরমুজসহ বিভিন্ন জাতের  তরমুজ চাষ করা হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে তরমুজ চাষীরা তাদের মাঠ থেকে তরমুজ বিক্রয় শুরু করেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকার আসতে শুরু করেছেন। ভালো দাম পাওয়ায় খুশি তরমুজ চাষিরা। ক্ষেত থেকেই পাইকারি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন কৃষকেরা। আবার কেউবা ট্রলার ও ট্রাক ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ভালো দামে বিক্রি করছেন তরমুজ। এখন তরমুজ চাষীরা তাদের মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে। রমজানের শুরু থেকেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত তরমুজ বিক্রয় শুরু করেছেন। উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভবান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ বেশি হওয়ায় ফলন নিয়ে সন্তুষ্ট কৃষকেরা।


সড়ক ব্যবস্থার উন্নতি ও বাজারজাতকরণে সুবিধাজনক স্থান নির্ধারণ করে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার শতাধিক তরমুজ চাষিরা বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা,গারুড়িয়ার, কবাই, নলুয়া, ফরিদপুর, দুর্গাপাশা ইউনিয়নের নদীর চরাঞ্চলের জমি লিজ নিয়ে ৬৫০ হেক্টর জমিতে এই বছর বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ করে সাড়া ফেলেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও চরাঞ্চলের উর্বর মাটিতে তরমুজের বাম্পার ফলন পাওয়ায় প্রতিবছর এই অঞ্চলে ঝুঁকছে তরমুজ চাষিরা।
চলতি মৌসুমে বাকেরগঞ্জে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ভিক্টর সুগার, ওশেন সুগার, ব্লাক বেরী ও দেশীয় জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চরাঞ্চলে যুগের পর যুগ অনাবাদি অবস্থায় থাকা জনমানবশূন্য বিস্তীর্ণ ভূমি এখন তরমুজ চাষে সবুজে পরিণত হয়েছে। কৃষকরা তাদের মাঠ থেকেই তরমুজ বিক্রয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। তরমুজ খেতে পাঁচ কেজি থেকে শুরু করে ১০ কেজি ওজনের তরমুজ রয়েছে। আর তরমুজ ক্ষেতের পরিচর্যায় তরমুজ চাষী ও শ্রমিকরা দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছে।
গলাচিপা উপজেলা থেকে তরমুজ চাষ করতে আসা কৃষক তামিম জনকণ্ঠকে জানান, এই বছর আমরা বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের পাণ্ডব নদীর চরে প্রায় ২০ কানি জমির নগদ টাকায় লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছি। এখানে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা আমরা খরচ করেছি। রমজানের শুরু থেকেই তরমুজ বিক্রয় শুরু করেছি। ঈদের পরেও আমাদের মাঠে তরমুজ থাকবে। এই বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ২০ লক্ষ টাকা লাভবান হব।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনীতি কুমার সাহা জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষাবাদ হয়েছে। আমরা সব সময় কৃষকদের পাশে থেকে খোঁজ খবর নিয়েছি। সব সময় তাদের পরামর্শ দিয়েছি। এই বছর ফলন ভালো হলে আগামীতে আরো বেশি তরমুজ আবাদের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র নিজ নাগরিকদের দ্রুত ইসরায়েল ছাড়তে বলল

বরিশাল বাকেরগঞ্জ আগাম ভালো মানের তরমুজ চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন চাষীরা

প্রকাশিত : ০৬:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নদীর চরে মাঠের পর মাঠ বিস্তৃত তরমুজ ক্ষেত। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ছোট বড় আগাম জাতের তরমুজ। ফলে তরমুজ চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন বাকেরগঞ্জের চাষিরা।

জানা যায়, চলতি বছর বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ টি  ইউনিয়নে আগাম জাতের তরমুজসহ বিভিন্ন জাতের  তরমুজ চাষ করা হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে তরমুজ চাষীরা তাদের মাঠ থেকে তরমুজ বিক্রয় শুরু করেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকার আসতে শুরু করেছেন। ভালো দাম পাওয়ায় খুশি তরমুজ চাষিরা। ক্ষেত থেকেই পাইকারি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন কৃষকেরা। আবার কেউবা ট্রলার ও ট্রাক ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ভালো দামে বিক্রি করছেন তরমুজ। এখন তরমুজ চাষীরা তাদের মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে। রমজানের শুরু থেকেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত তরমুজ বিক্রয় শুরু করেছেন। উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভবান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ বেশি হওয়ায় ফলন নিয়ে সন্তুষ্ট কৃষকেরা।


সড়ক ব্যবস্থার উন্নতি ও বাজারজাতকরণে সুবিধাজনক স্থান নির্ধারণ করে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার শতাধিক তরমুজ চাষিরা বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা,গারুড়িয়ার, কবাই, নলুয়া, ফরিদপুর, দুর্গাপাশা ইউনিয়নের নদীর চরাঞ্চলের জমি লিজ নিয়ে ৬৫০ হেক্টর জমিতে এই বছর বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ করে সাড়া ফেলেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও চরাঞ্চলের উর্বর মাটিতে তরমুজের বাম্পার ফলন পাওয়ায় প্রতিবছর এই অঞ্চলে ঝুঁকছে তরমুজ চাষিরা।
চলতি মৌসুমে বাকেরগঞ্জে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ভিক্টর সুগার, ওশেন সুগার, ব্লাক বেরী ও দেশীয় জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চরাঞ্চলে যুগের পর যুগ অনাবাদি অবস্থায় থাকা জনমানবশূন্য বিস্তীর্ণ ভূমি এখন তরমুজ চাষে সবুজে পরিণত হয়েছে। কৃষকরা তাদের মাঠ থেকেই তরমুজ বিক্রয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। তরমুজ খেতে পাঁচ কেজি থেকে শুরু করে ১০ কেজি ওজনের তরমুজ রয়েছে। আর তরমুজ ক্ষেতের পরিচর্যায় তরমুজ চাষী ও শ্রমিকরা দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছে।
গলাচিপা উপজেলা থেকে তরমুজ চাষ করতে আসা কৃষক তামিম জনকণ্ঠকে জানান, এই বছর আমরা বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের পাণ্ডব নদীর চরে প্রায় ২০ কানি জমির নগদ টাকায় লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছি। এখানে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা আমরা খরচ করেছি। রমজানের শুরু থেকেই তরমুজ বিক্রয় শুরু করেছি। ঈদের পরেও আমাদের মাঠে তরমুজ থাকবে। এই বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ২০ লক্ষ টাকা লাভবান হব।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনীতি কুমার সাহা জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষাবাদ হয়েছে। আমরা সব সময় কৃষকদের পাশে থেকে খোঁজ খবর নিয়েছি। সব সময় তাদের পরামর্শ দিয়েছি। এই বছর ফলন ভালো হলে আগামীতে আরো বেশি তরমুজ আবাদের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।