ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নারীদের অধিকার কোনো দয়া নয়, এটি সাংবিধানিক অধিকার: মীর হেলাল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১০:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে জনসম্পদে রূপান্তর এবং তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রথাগত বা অপ্রথাগতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, নারীদের অধিকার কোনো করুণা বা দয়া নয়, বরং এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার।

সোমবার (২ মার্চ) জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অদম্য নারী পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সফল চারজন সংগ্রামী নারীকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় নারীদের উন্নয়নে কাজ করেছে।

বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার আলোকে নারীদের ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রথা চালু করা হবে, যেখানে পরিবারের প্রধান হিসেবে নারী এই কার্ড পাবেন। এই তালিকা প্রণয়নে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা থাকবে না এবং এটি সরাসরি প্রশাসনের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৪ কোটি কর্মক্ষম মানুষ অর্থনীতির বাইরে রয়েছে। নারীদের এই বিশাল অংশকে যদি আমরা উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে পারি, তবে দেশের অর্থনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নারীরা হাঁস-মুরগি পালনসহ নানা কাজের মাধ্যমে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।

নিজের জীবনের সফলতার পেছনে মায়ের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীরা নিরলস ত্যাগ স্বীকার করলেও অনেক সময় তারা প্রাপ্য স্বীকৃতি পান না।

নারীদের অধিকার কোনো করুণা বা দয়া নয়, বরং এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার।

এ অনুষ্ঠানে বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচিত ৩ ক্যাটাগরিতে ৪ জন অদম্য নারীকে ফুল, ক্রেস্ট ও সনদপত্রসহ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি।

সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা হলেন- শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল হালিমের মেয়ে আসমা আকতার রুনা, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের শামসুল ইসলামের মেয়ে শমলা বেগম, সফল জননী নারী ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর গ্রামের আমিন আহমদ ভূঁঞার স্ত্রী বেগম তাজকেরা চৌধুরী ও সফল জননী নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার চান্দনপুর পাখাচং গ্রামের আবদুল কাদেরের মেয়ে বিলকিছ বেগম। অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা তাদের জীবন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিনের সভপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন) মো. নাজিমুল হক ও জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অদম্য নারী পুরস্কার কর্মসূচির অতিরিক্ত পরিচালক ও কর্মসূচি পরিচালক মো. মনির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিচালক (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত অদম্য নারীগণ, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের অধিকার কোনো দয়া নয়, এটি সাংবিধানিক অধিকার: মীর হেলাল

প্রকাশিত : ১০:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে জনসম্পদে রূপান্তর এবং তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রথাগত বা অপ্রথাগতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, নারীদের অধিকার কোনো করুণা বা দয়া নয়, বরং এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার।

সোমবার (২ মার্চ) জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অদম্য নারী পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সফল চারজন সংগ্রামী নারীকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় নারীদের উন্নয়নে কাজ করেছে।

বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার আলোকে নারীদের ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রথা চালু করা হবে, যেখানে পরিবারের প্রধান হিসেবে নারী এই কার্ড পাবেন। এই তালিকা প্রণয়নে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা থাকবে না এবং এটি সরাসরি প্রশাসনের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৪ কোটি কর্মক্ষম মানুষ অর্থনীতির বাইরে রয়েছে। নারীদের এই বিশাল অংশকে যদি আমরা উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে পারি, তবে দেশের অর্থনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নারীরা হাঁস-মুরগি পালনসহ নানা কাজের মাধ্যমে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।

নিজের জীবনের সফলতার পেছনে মায়ের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীরা নিরলস ত্যাগ স্বীকার করলেও অনেক সময় তারা প্রাপ্য স্বীকৃতি পান না।

নারীদের অধিকার কোনো করুণা বা দয়া নয়, বরং এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার।

এ অনুষ্ঠানে বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচিত ৩ ক্যাটাগরিতে ৪ জন অদম্য নারীকে ফুল, ক্রেস্ট ও সনদপত্রসহ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি।

সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা হলেন- শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল হালিমের মেয়ে আসমা আকতার রুনা, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের শামসুল ইসলামের মেয়ে শমলা বেগম, সফল জননী নারী ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর গ্রামের আমিন আহমদ ভূঁঞার স্ত্রী বেগম তাজকেরা চৌধুরী ও সফল জননী নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার চান্দনপুর পাখাচং গ্রামের আবদুল কাদেরের মেয়ে বিলকিছ বেগম। অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা তাদের জীবন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিনের সভপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন) মো. নাজিমুল হক ও জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অদম্য নারী পুরস্কার কর্মসূচির অতিরিক্ত পরিচালক ও কর্মসূচি পরিচালক মো. মনির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিচালক (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত অদম্য নারীগণ, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।