ঢাকা ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬

এবার ঈদে জিন্স আর পাঞ্জাবিতে নজর পুরুষের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০২:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

বেনাপোল প্রতিনিধি: আধুনিক পুরুষ সময়ের সাথে তাল মেলাতে তার পোশাক আশাকের খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে আজকাল মেকওভারেও নজর দেন। তাইতো উৎসবের ফ্যাশন ভাবনা ও সাজসজ্জায় নারীরা এগিয়ে থাকলেও পুরুষরাও কম যান না। ফ্যাশন সচেতনতা বা সাজপোশাক নিয়ে ভাবনা এবং উৎসবের কেনাকাটার তোড়জোড় নিতান্তই মেয়েলি ব্যাপার, এ ধারণা এখন অচল। সুন্দর হয়ে ওঠার ভাবনা মানুষের আজন্মকালের। মার্জিত ও সুন্দর একটি পোশাক সামাজিক মর্যাদা এবং গুরুত্ব বহন করে, আত্মবিশ্বাস তৈরি করে।

আধুনিক রুচিশীল পুরুষ যখন উৎসব আসে তখন নিজেকে সাজাতে, সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে ভালোবাসেন। আর সে উৎসব যদি হয় ঈদুল ফিতরের মতো বড় উৎসব তবে প্রয়োজন পড়ে বাড়তি প্রস্তুতির। পুরুষের উৎসবের সাজ মানেই পাঞ্জাবী। চিরাচরিত এ সাজেই পুরুষ পরিপূর্ণ। ঈদের সকালে নামাজ থেকে শুরু করে দিনভর উৎসব উদযাপনে পুরুষ তাই প্রথমেই বেছে নেন পাঞ্জাবী। এর পাশাপাশি চলে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্টও।

ঈদ উপলক্ষে যশোর শহরের বিভিন্ন বিপনীবিতান পুরুষের পোশাকে সেজে উঠেছে। সকাল সাড়ে ৯টার পরপরই খুলে যাচ্ছে শহরের বিভিন্ন বিপণীবিতান। কেনাকাটা চলছে রাত ১২টা বা একটা পর্যন্ত। রোজার প্রথম থেকেই পুরুষ ক্রেতারা আসছেন তবে ১০রোজার পর থেকে পুরুষদের পোশাকের বিক্রি বেড়েছে বলছেন বিভিন্ন বিপনীবিতানের বিক্রেতা ও সত্ত্বাধিকারীরা। মধ্যবিত্তের বাজার হিসেবে পরিচিত জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, কালেক্টরেট মার্কেট, অভিজাত ক্রেতাদের বিপনীবিতান জেস টাওয়ার, সিটি প্লাজা, মুজিব সড়কের ফ্যাশন হাউজসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে ঈদের কেনাকাটা। তবে পোশাকের দাম এবারেও বেশি বলছেন ক্রেতারা। সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের পছন্দের পোশাকটি বেছে নিচ্ছেন পুরুষরা।

কোথায় কেমন দাম যশোর কালেক্টরেট মার্কেটে পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে ৫০০থেকে চার হাজার ৫০০টাকায়। শার্ট ৪০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। টি-শার্ট ৪০০ এক হাজার ২০০ টাকা। জিন্স প্যান্ট ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকা। গ্যাবাডিন প্যান্ট ৫০০থেকে এক হাজার ৪০০টাকা। জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটে পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে ৫০০থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। জেস টাওয়ারে পুরুষদের শার্ট পাওয়া যাবে ৬০০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকায়। প্যান্ট ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা। টি-শার্ট ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিটি প্লাজায় পুরুষদের পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকায়। টি-শার্ট ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকা। জিন্স প্যান্ট এক হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার ৫০০ টাকা। গ্যাবাডিন এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার টাকা। মুজিব সড়কের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৯৮০ থেকে তিন হাজার ২৫০টাকায়। শার্ট এক হাজার ৪৫০থেকে তিন হাজার ১৯০টাকা। টি-শার্ট ৩৯০থেকে দুই হাজার ৮৮০টাকা। জিন্স প্যান্ট দুই হাজার ৪৯০থেকে চার হাজার ৯০০টাকা। গ্যাবাডিন প্যান্ট এক হাজার ৯৯০থেকে দুই হাজার ৮৮০টাকা।

যা বলছেন ক্রেতারা
পালবাড়ি এলাকার আবু সাঈদ বলেন, পাঞ্জাবী ছাড়া আজ পর্যন্ত কোন ঈদ করিনি, তাই এবারেও কিনতে আসলাম। সাতক্ষীরা থেকে আসা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অনেকগুলো পাঞ্জাবী দেখেছি পছন্দও হয়েছে, তবে দাম বেড়েছে মনে হচ্ছে। ঈদ বলে কথা, না কিনে উপায়ও নেই। নীলগঞ্জ এলাকার মোহম্মদ হোসেন বলেন, পাঞ্জাবী ছাড়া ঈদ ভাবাই যায় না, তবে এবারে গতবারের চেয়ে দাম বেশি মনে হচ্ছে। রেল রোড এলাকার শাহেদুজ্জামান বলেন, পাঞ্জাবী এবারে গতবারের চেয়ে দুই তিনশো টাকা বা দোকানভেদে ৫০০টাকা পর্যন্ত বেশি মনে হলো। বাড়তি দাম না রাখা উচিত।

যা বলছেন বিক্রেতারা
জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের এস.কে ফ্যাশনের সত্ত্বাধিকারী আকবর মোল্লা বলেন, রোজার প্রথম দিকে ফাঁকা গেছে, বসে থেকেছি। এক সপ্তাহ হচ্ছে বেচাবিক্রি বেড়েছে। কালেক্টরেট মার্কেটের রয়েল পাঞ্জাবী’র ম্যানেজার রবিউল ইসলাম বলেন, রোজার প্রথম থেকেই কাস্টমাররা আসছেন। তবে বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে ১০রোজার পর থেকে। সিটি প্লাজার জিনস্ বাজার এর সত্ত্বাধিকারী ফিরোজ মৃধা বলেন, বেচাকেনা মোটামুটি হচ্ছে। পুরুষরা সাধারণত পরিবারের সবার জন্য কিনে শেষের দিকে নিজের কেনাকাটা করেন। ২০রোজার পর থেকে বেচাবিক্রি বাড়বে মনে হচ্ছে। মুজিব সড়কের ফ্যাশন হাউজ ইজি’র বিক্রয়কর্মী ইমন মিয়া বলেন, আমাদের বেচাকেনা ভালো হচ্ছে, প্রথম রোজা থেকেই কাস্টমাররা আসছেন।

এবার ঈদে জিন্স আর পাঞ্জাবিতে নজর পুরুষের

প্রকাশিত : ০২:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

বেনাপোল প্রতিনিধি: আধুনিক পুরুষ সময়ের সাথে তাল মেলাতে তার পোশাক আশাকের খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে আজকাল মেকওভারেও নজর দেন। তাইতো উৎসবের ফ্যাশন ভাবনা ও সাজসজ্জায় নারীরা এগিয়ে থাকলেও পুরুষরাও কম যান না। ফ্যাশন সচেতনতা বা সাজপোশাক নিয়ে ভাবনা এবং উৎসবের কেনাকাটার তোড়জোড় নিতান্তই মেয়েলি ব্যাপার, এ ধারণা এখন অচল। সুন্দর হয়ে ওঠার ভাবনা মানুষের আজন্মকালের। মার্জিত ও সুন্দর একটি পোশাক সামাজিক মর্যাদা এবং গুরুত্ব বহন করে, আত্মবিশ্বাস তৈরি করে।

আধুনিক রুচিশীল পুরুষ যখন উৎসব আসে তখন নিজেকে সাজাতে, সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে ভালোবাসেন। আর সে উৎসব যদি হয় ঈদুল ফিতরের মতো বড় উৎসব তবে প্রয়োজন পড়ে বাড়তি প্রস্তুতির। পুরুষের উৎসবের সাজ মানেই পাঞ্জাবী। চিরাচরিত এ সাজেই পুরুষ পরিপূর্ণ। ঈদের সকালে নামাজ থেকে শুরু করে দিনভর উৎসব উদযাপনে পুরুষ তাই প্রথমেই বেছে নেন পাঞ্জাবী। এর পাশাপাশি চলে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্টও।

ঈদ উপলক্ষে যশোর শহরের বিভিন্ন বিপনীবিতান পুরুষের পোশাকে সেজে উঠেছে। সকাল সাড়ে ৯টার পরপরই খুলে যাচ্ছে শহরের বিভিন্ন বিপণীবিতান। কেনাকাটা চলছে রাত ১২টা বা একটা পর্যন্ত। রোজার প্রথম থেকেই পুরুষ ক্রেতারা আসছেন তবে ১০রোজার পর থেকে পুরুষদের পোশাকের বিক্রি বেড়েছে বলছেন বিভিন্ন বিপনীবিতানের বিক্রেতা ও সত্ত্বাধিকারীরা। মধ্যবিত্তের বাজার হিসেবে পরিচিত জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, কালেক্টরেট মার্কেট, অভিজাত ক্রেতাদের বিপনীবিতান জেস টাওয়ার, সিটি প্লাজা, মুজিব সড়কের ফ্যাশন হাউজসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে ঈদের কেনাকাটা। তবে পোশাকের দাম এবারেও বেশি বলছেন ক্রেতারা। সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের পছন্দের পোশাকটি বেছে নিচ্ছেন পুরুষরা।

কোথায় কেমন দাম যশোর কালেক্টরেট মার্কেটে পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে ৫০০থেকে চার হাজার ৫০০টাকায়। শার্ট ৪০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। টি-শার্ট ৪০০ এক হাজার ২০০ টাকা। জিন্স প্যান্ট ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকা। গ্যাবাডিন প্যান্ট ৫০০থেকে এক হাজার ৪০০টাকা। জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটে পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে ৫০০থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। জেস টাওয়ারে পুরুষদের শার্ট পাওয়া যাবে ৬০০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকায়। প্যান্ট ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা। টি-শার্ট ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিটি প্লাজায় পুরুষদের পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকায়। টি-শার্ট ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকা। জিন্স প্যান্ট এক হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার ৫০০ টাকা। গ্যাবাডিন এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার টাকা। মুজিব সড়কের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৯৮০ থেকে তিন হাজার ২৫০টাকায়। শার্ট এক হাজার ৪৫০থেকে তিন হাজার ১৯০টাকা। টি-শার্ট ৩৯০থেকে দুই হাজার ৮৮০টাকা। জিন্স প্যান্ট দুই হাজার ৪৯০থেকে চার হাজার ৯০০টাকা। গ্যাবাডিন প্যান্ট এক হাজার ৯৯০থেকে দুই হাজার ৮৮০টাকা।

যা বলছেন ক্রেতারা
পালবাড়ি এলাকার আবু সাঈদ বলেন, পাঞ্জাবী ছাড়া আজ পর্যন্ত কোন ঈদ করিনি, তাই এবারেও কিনতে আসলাম। সাতক্ষীরা থেকে আসা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অনেকগুলো পাঞ্জাবী দেখেছি পছন্দও হয়েছে, তবে দাম বেড়েছে মনে হচ্ছে। ঈদ বলে কথা, না কিনে উপায়ও নেই। নীলগঞ্জ এলাকার মোহম্মদ হোসেন বলেন, পাঞ্জাবী ছাড়া ঈদ ভাবাই যায় না, তবে এবারে গতবারের চেয়ে দাম বেশি মনে হচ্ছে। রেল রোড এলাকার শাহেদুজ্জামান বলেন, পাঞ্জাবী এবারে গতবারের চেয়ে দুই তিনশো টাকা বা দোকানভেদে ৫০০টাকা পর্যন্ত বেশি মনে হলো। বাড়তি দাম না রাখা উচিত।

যা বলছেন বিক্রেতারা
জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের এস.কে ফ্যাশনের সত্ত্বাধিকারী আকবর মোল্লা বলেন, রোজার প্রথম দিকে ফাঁকা গেছে, বসে থেকেছি। এক সপ্তাহ হচ্ছে বেচাবিক্রি বেড়েছে। কালেক্টরেট মার্কেটের রয়েল পাঞ্জাবী’র ম্যানেজার রবিউল ইসলাম বলেন, রোজার প্রথম থেকেই কাস্টমাররা আসছেন। তবে বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে ১০রোজার পর থেকে। সিটি প্লাজার জিনস্ বাজার এর সত্ত্বাধিকারী ফিরোজ মৃধা বলেন, বেচাকেনা মোটামুটি হচ্ছে। পুরুষরা সাধারণত পরিবারের সবার জন্য কিনে শেষের দিকে নিজের কেনাকাটা করেন। ২০রোজার পর থেকে বেচাবিক্রি বাড়বে মনে হচ্ছে। মুজিব সড়কের ফ্যাশন হাউজ ইজি’র বিক্রয়কর্মী ইমন মিয়া বলেন, আমাদের বেচাকেনা ভালো হচ্ছে, প্রথম রোজা থেকেই কাস্টমাররা আসছেন।