ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

বাবার শেষ আশ্রয় পাঁচ কন্যা, পাশে দাঁড়াল প্রশাসন ও মানবিক মানুষ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৬:৫০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • ৭৭ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ, অসুস্থতা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবন কাটছিল পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের মোসলেম ফরায়জির পরিবারের। একদিকে অসুস্থ শরীর, অন্যদিকে স্ত্রী ও পাঁচ কন্যাকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা—সব মিলিয়ে যেন অন্ধকারেই ডুবে ছিল পরিবারটি। তবে অবশেষে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন ও সমাজের মানবিক মানুষ। এতে পরিবারটির জীবনে দেখা দিয়েছে নতুন আশার আলো।
শুক্রবার সকালে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা এবং দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম সরেজমিনে মোসলেম ফরায়জির বাড়ি পরিদর্শন করেন। তারা অসুস্থ মোসলেম ফরায়জি, তার স্ত্রী ও কন্যাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্দশার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জীবনের শেষ বয়সে এসে নিজের প্রাপ্য পৈত্রিক সম্পত্তি স্ত্রী ও পাঁচ কন্যার নামে লিখে দেন মোসলেম ফরায়জি। এরপর থেকেই শুরু হয় পারিবারিক বিরোধ। অভিযোগ রয়েছে, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে কিছু স্বজন বিভিন্ন সময়ে পরিবারটির ওপর মানসিক চাপ, হয়রানি এবং নির্যাতন চালিয়েছেন। এমনকি বসতঘর দখল ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
অসহায় এই পরিবারের করুণ অবস্থার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। পরে প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “মানবিক দিক বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন সবসময় পরিবারটির পাশে থাকবে। তাদের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দশমিনা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মেসার্স জামাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব জামাল হোসেন। তিনি মোসলেম ফরায়জির পরিবারের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঘর নির্মাণের জন্য টিনসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যখন অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা। জামাল হোসেনের এমন উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারকে সাহস জুগিয়েছে তা নয়, সমাজের বিত্তবানদের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে প্রশাসনের তদারকি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। পরিবারটির প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে তারা আবারও শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।
অসুস্থ মোসলেম ফরায়জির চোখে এখন নতুন স্বপ্ন। পাশে আছে স্ত্রী, পাঁচ কন্যা, প্রশাসন এবং কিছু মানবিক মানুষ। আর সেই আশাতেই হয়তো লড়াই করে যেতে চান তিনি—একটি নিরাপদ ছাদের নিচে পরিবারের সঙ্গে শান্তিতে বেঁচে থাকার জন্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার শেষ আশ্রয় পাঁচ কন্যা, পাশে দাঁড়াল প্রশাসন ও মানবিক মানুষ

প্রকাশিত : ০৬:৫০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ, অসুস্থতা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবন কাটছিল পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের মোসলেম ফরায়জির পরিবারের। একদিকে অসুস্থ শরীর, অন্যদিকে স্ত্রী ও পাঁচ কন্যাকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা—সব মিলিয়ে যেন অন্ধকারেই ডুবে ছিল পরিবারটি। তবে অবশেষে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন ও সমাজের মানবিক মানুষ। এতে পরিবারটির জীবনে দেখা দিয়েছে নতুন আশার আলো।
শুক্রবার সকালে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা এবং দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম সরেজমিনে মোসলেম ফরায়জির বাড়ি পরিদর্শন করেন। তারা অসুস্থ মোসলেম ফরায়জি, তার স্ত্রী ও কন্যাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্দশার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জীবনের শেষ বয়সে এসে নিজের প্রাপ্য পৈত্রিক সম্পত্তি স্ত্রী ও পাঁচ কন্যার নামে লিখে দেন মোসলেম ফরায়জি। এরপর থেকেই শুরু হয় পারিবারিক বিরোধ। অভিযোগ রয়েছে, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে কিছু স্বজন বিভিন্ন সময়ে পরিবারটির ওপর মানসিক চাপ, হয়রানি এবং নির্যাতন চালিয়েছেন। এমনকি বসতঘর দখল ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
অসহায় এই পরিবারের করুণ অবস্থার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। পরে প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “মানবিক দিক বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন সবসময় পরিবারটির পাশে থাকবে। তাদের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দশমিনা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মেসার্স জামাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব জামাল হোসেন। তিনি মোসলেম ফরায়জির পরিবারের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঘর নির্মাণের জন্য টিনসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যখন অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা। জামাল হোসেনের এমন উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারকে সাহস জুগিয়েছে তা নয়, সমাজের বিত্তবানদের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে প্রশাসনের তদারকি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। পরিবারটির প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে তারা আবারও শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।
অসুস্থ মোসলেম ফরায়জির চোখে এখন নতুন স্বপ্ন। পাশে আছে স্ত্রী, পাঁচ কন্যা, প্রশাসন এবং কিছু মানবিক মানুষ। আর সেই আশাতেই হয়তো লড়াই করে যেতে চান তিনি—একটি নিরাপদ ছাদের নিচে পরিবারের সঙ্গে শান্তিতে বেঁচে থাকার জন্য।