ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

নতুন চরম সীমায় ইরাকের তাপমাত্রা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৬:১০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

গত ছয় দশকে ইরাকজুড়ে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখন ৪৪ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার ইরাকি আবহাওয়া ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার জলবায়ু ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

গত ২৫ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত আবহাওয়ার সাপ্তাহিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে ১৯৬৬ ও ১৯৯৬ সালের জলবায়ুর রেকর্ডের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণাঞ্চলে একসময় দিনের বেলা যেখানে ৩৬ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকত, তা এখন প্রায় দেখাই যায় না। তীব্র গরমের এই প্রভাব দেশজুড়ে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে তা শুধুমাত্র পশ্চিমাঞ্চলের কিছু সীমিত এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে।

রাতের তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ১৯৬৬ সালে ইরাকের বেশিরভাগ অংশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতো। তবে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটির কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর বেশিরভাগ এলাকায় তা বেড়ে ২৮ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য ১৯৯৬ সালের তুলনায় কেন্দ্রীয় ও উত্তরাঞ্চলের কিছু অংশে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে।

দীর্ঘমেয়াদি এই উষ্ণায়নের জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্রমবর্ধমান নিঃসরণ, নগরায়ণ এবং গাছপালা বা বনায়ন কমে যাওয়াকে দায়ী করেছে গবেষণা কেন্দ্রটি। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, এই গবেষণার ফল জলবায়ু অভিযোজন, কৃষি, পানিসম্পদ এবং নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়তা করবে।

জলবায়ুর চরম ভাবাপন্নতার কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচটি দেশের তালিকায় ইরাককে অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। পরিবেশবিষয়ক সংস্থা গ্রিন ইরাক অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৯ কোটি ৬৫ লাখ দুনাম (৯৬ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর) বা মোট ভূমির ৫৫.৫ শতাংশ এলাকা বর্তমানে মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এরই মধ্যে দেশটির ৪ কোটি ৪ লাখ দুনাম (৪০ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর) বা ২৩.২ শতাংশ ভূমি পুরোপুরি মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে—যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৪৯ শতাংশ বেশি।

সংস্থাটির হিসাব মতে, লবণাক্ততা এবং ভূমি ক্ষয়ের কারণে ইরাকে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ দুনাম (১০ হাজার হেক্টর) কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে দেশটির ধি কার, মাইসান, আল-মুথান্না এবং আল-দিওয়ানিয়াহ প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুমকিতে মতবিনিময় সভায় নূর—কোটা আন্দোলন থেকেই নতুন বাংলাদেশের সূচনা

নতুন চরম সীমায় ইরাকের তাপমাত্রা

প্রকাশিত : ০৬:১০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

গত ছয় দশকে ইরাকজুড়ে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখন ৪৪ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার ইরাকি আবহাওয়া ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার জলবায়ু ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

গত ২৫ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত আবহাওয়ার সাপ্তাহিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে ১৯৬৬ ও ১৯৯৬ সালের জলবায়ুর রেকর্ডের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণাঞ্চলে একসময় দিনের বেলা যেখানে ৩৬ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকত, তা এখন প্রায় দেখাই যায় না। তীব্র গরমের এই প্রভাব দেশজুড়ে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে তা শুধুমাত্র পশ্চিমাঞ্চলের কিছু সীমিত এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে।

রাতের তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ১৯৬৬ সালে ইরাকের বেশিরভাগ অংশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতো। তবে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটির কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর বেশিরভাগ এলাকায় তা বেড়ে ২৮ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য ১৯৯৬ সালের তুলনায় কেন্দ্রীয় ও উত্তরাঞ্চলের কিছু অংশে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে।

দীর্ঘমেয়াদি এই উষ্ণায়নের জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্রমবর্ধমান নিঃসরণ, নগরায়ণ এবং গাছপালা বা বনায়ন কমে যাওয়াকে দায়ী করেছে গবেষণা কেন্দ্রটি। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, এই গবেষণার ফল জলবায়ু অভিযোজন, কৃষি, পানিসম্পদ এবং নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়তা করবে।

জলবায়ুর চরম ভাবাপন্নতার কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচটি দেশের তালিকায় ইরাককে অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। পরিবেশবিষয়ক সংস্থা গ্রিন ইরাক অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৯ কোটি ৬৫ লাখ দুনাম (৯৬ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর) বা মোট ভূমির ৫৫.৫ শতাংশ এলাকা বর্তমানে মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এরই মধ্যে দেশটির ৪ কোটি ৪ লাখ দুনাম (৪০ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর) বা ২৩.২ শতাংশ ভূমি পুরোপুরি মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে—যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৪৯ শতাংশ বেশি।

সংস্থাটির হিসাব মতে, লবণাক্ততা এবং ভূমি ক্ষয়ের কারণে ইরাকে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ দুনাম (১০ হাজার হেক্টর) কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে দেশটির ধি কার, মাইসান, আল-মুথান্না এবং আল-দিওয়ানিয়াহ প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।