ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ছাদ চুঁইয়ে পানি, মাথায় ছাতা—তবু থামেনি পরীক্ষা: গলাচিপার এক মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখছে শিক্ষার্থীরা। তবে হাতে শুধু কলম নয়, মাথার ওপর ধরা ছাতাও। কারণ শ্রেণিকক্ষের ছাদ ভেদ করে টপটপ করে পড়ছে বৃষ্টির পানি। এমনই এক দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসা।

রোববার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের ছাদের বিভিন্ন স্থান দিয়ে বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়ছে। পানি এড়িয়ে বসার সুযোগ না থাকায় কয়েকজন ছাত্রী এক হাতে ছাতা ধরে অন্য হাতে উত্তরপত্র লিখে পরীক্ষা দিচ্ছেন। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পরীক্ষা চালিয়ে যেতে হয় তাদের।

মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মো. কাওসার আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ইবতেদায়ী প্রথম শ্রেণি থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত পাঠদান পরিচালনার জন্য অন্তত ২০টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য কক্ষ রয়েছে মাত্র ছয়টি। ফলে সীমিত অবকাঠামোর মধ্যেই পাঠদান ও পরীক্ষা নিতে হচ্ছে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজির আহমেদ জানান, ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসার ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদের বিভিন্ন অংশ দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ায় পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ নিয়মিতভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়কেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাদ্রাসার নতুন একটি একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ চললেও অগ্রগতি ধীর। ভবনটি সম্পূর্ণ হয়ে হস্তান্তর হতে আরও প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। এ কারণে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দুরবস্থাই নয়, বরং শিক্ষা অবকাঠামোর দীর্ঘদিনের সংকটকেও সামনে নিয়ে এসেছে। দ্রুত ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিকরা হচ্ছে সমাজের দর্পন-ভিসি ড.এস.এম হেমায়েত জাহান

ছাদ চুঁইয়ে পানি, মাথায় ছাতা—তবু থামেনি পরীক্ষা: গলাচিপার এক মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতা

প্রকাশিত : ০৭:১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখছে শিক্ষার্থীরা। তবে হাতে শুধু কলম নয়, মাথার ওপর ধরা ছাতাও। কারণ শ্রেণিকক্ষের ছাদ ভেদ করে টপটপ করে পড়ছে বৃষ্টির পানি। এমনই এক দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসা।

রোববার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের ছাদের বিভিন্ন স্থান দিয়ে বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়ছে। পানি এড়িয়ে বসার সুযোগ না থাকায় কয়েকজন ছাত্রী এক হাতে ছাতা ধরে অন্য হাতে উত্তরপত্র লিখে পরীক্ষা দিচ্ছেন। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পরীক্ষা চালিয়ে যেতে হয় তাদের।

মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মো. কাওসার আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ইবতেদায়ী প্রথম শ্রেণি থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত পাঠদান পরিচালনার জন্য অন্তত ২০টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য কক্ষ রয়েছে মাত্র ছয়টি। ফলে সীমিত অবকাঠামোর মধ্যেই পাঠদান ও পরীক্ষা নিতে হচ্ছে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজির আহমেদ জানান, ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসার ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদের বিভিন্ন অংশ দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ায় পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ নিয়মিতভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়কেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাদ্রাসার নতুন একটি একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ চললেও অগ্রগতি ধীর। ভবনটি সম্পূর্ণ হয়ে হস্তান্তর হতে আরও প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। এ কারণে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দুরবস্থাই নয়, বরং শিক্ষা অবকাঠামোর দীর্ঘদিনের সংকটকেও সামনে নিয়ে এসেছে। দ্রুত ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।