ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

কুয়াকাটা ভ্রমণ হলো না শেষ পর্যন্ত বাসের চাকায় থামল জাহিদের জীবনের পথচলা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৩:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্র দেখার স্বপ্ন নিয়ে মোটরসাইকেলে করে মাদারীপুর থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন ২৩ বছরের জাহিদ হাওলাদার। দুইদিন আগে সকালে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছেও বন্ধুদের সঙ্গে কাটিয়েছেন কিছুটা সময়। কিন্তু আজ শুক্রবার ভোরে ফেরার পথেই সব শেষ। ভোরের আলো ফোটার আগেই পটুয়াখালীর শিয়ালী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান এই তরুণ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের শিয়ালী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহিদ হাওলাদার (২৩) মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাছামারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলার শহর এলাকায় একটি ফলের দোকান পরিচালনা করতেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে জাহিদ ছিল সবার বড় এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।

জাহিদের বন্ধু রিফাত জানান, ছয় বন্ধু তিনটি মোটরসাইকেলে করে বুধবার সকালে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসেন তারা। দুইদিন সেখানে অবস্থান শেষে আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তারা মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে পটুয়াখালী শহর অতিক্রম করে শিয়ালী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা গ্রীনলাইন পরিবহনের একটি বাস জাহিদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। বন্ধুরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর বন্ধুদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে বন্ধুর সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে ছবি তুলেছিলেন, সেই বন্ধুর নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তারা।
জাহিদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিবচরে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সকালেই স্বজনরাও ছুটে আসেন পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সমুদ্র ভ্রমণের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল যে তরুণের, নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। জাহিদের অসমাপ্ত সেই যাত্রা এখন কেবলই পরিবারের আজীবনের বেদনার স্মৃতি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কে ভোর ও গভীর রাতে অনেক বাস অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করে। ফলে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা হওয়ার আশংকা থাকে। সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়াকাটা ভ্রমণ হলো না শেষ পর্যন্ত বাসের চাকায় থামল জাহিদের জীবনের পথচলা

কুয়াকাটা ভ্রমণ হলো না শেষ পর্যন্ত বাসের চাকায় থামল জাহিদের জীবনের পথচলা

প্রকাশিত : ০৩:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্র দেখার স্বপ্ন নিয়ে মোটরসাইকেলে করে মাদারীপুর থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন ২৩ বছরের জাহিদ হাওলাদার। দুইদিন আগে সকালে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছেও বন্ধুদের সঙ্গে কাটিয়েছেন কিছুটা সময়। কিন্তু আজ শুক্রবার ভোরে ফেরার পথেই সব শেষ। ভোরের আলো ফোটার আগেই পটুয়াখালীর শিয়ালী এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান এই তরুণ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের শিয়ালী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহিদ হাওলাদার (২৩) মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাছামারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলার শহর এলাকায় একটি ফলের দোকান পরিচালনা করতেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে জাহিদ ছিল সবার বড় এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।

জাহিদের বন্ধু রিফাত জানান, ছয় বন্ধু তিনটি মোটরসাইকেলে করে বুধবার সকালে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসেন তারা। দুইদিন সেখানে অবস্থান শেষে আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তারা মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে পটুয়াখালী শহর অতিক্রম করে শিয়ালী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা গ্রীনলাইন পরিবহনের একটি বাস জাহিদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। বন্ধুরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার পর বন্ধুদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে বন্ধুর সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে ছবি তুলেছিলেন, সেই বন্ধুর নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তারা।
জাহিদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিবচরে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সকালেই স্বজনরাও ছুটে আসেন পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সমুদ্র ভ্রমণের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল যে তরুণের, নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। জাহিদের অসমাপ্ত সেই যাত্রা এখন কেবলই পরিবারের আজীবনের বেদনার স্মৃতি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কে ভোর ও গভীর রাতে অনেক বাস অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করে। ফলে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা হওয়ার আশংকা থাকে। সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।