ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্ষতিপূরণ দিয়েও ঠেকানো গেল না কুয়াকাটার বেড়িবাঁধে ফের শতাধিক স্থাপনা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৪:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: কয়েক বছর আগে সরকারি অর্থে ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বসতঘর ও নানা স্থাপনা। প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছিল ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। সাগরের ভাঙন ঠেকাতে বসানো হয়েছিল কংক্রিটের ব্লক, জিওব্যাগ ও জিওটিউব। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে বাঁধের সাগরঘেঁষা অংশকে মেরিন ড্রাইভের আদলে গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই বেড়িবাঁধের ঢালেই আবার ফিরে এসেছে স্থাপনা।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় গত তিন মাসে প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধের স্লোপে গড়ে উঠেছে শতাধিক ছোট দোকান ও স্থাপনা। এতে একদিকে যেমন পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য আড়ালে পড়ছে, অন্যদিকে বাঁধের কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন-যে স্থাপনা সরিয়ে নিতে সরকার কোটি কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিল, কয়েক বছর পর একই জায়গায় আবার কীভাবে স্থাপনা গড়ে উঠল?
কুয়াকাটা সৈকত ও আশপাশের মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮-২০১৯ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ করা হয়।
বাঁধের স্লোপে থাকা বসতঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ৬৭৩টি পরিবারকে দেওয়া হয় ৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ।

এরপর বাঁধের উন্নয়নকাজ শেষ হয়। কুয়াকাটা চৌরাস্তা থেকে পশ্চিম দিকে লেম্বুরবন মোহনা পর্যন্ত সাগরের অব্যাহত ভাঙন থেকে বাঁধ রক্ষায় বসানো হয় কংক্রিটের ব্লক।
সাগরঘেঁষা প্রায় ২২ কিলোমিটার অংশকে মেরিন ড্রাইভের আদলে গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল একদিকে উপকূলীয় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা, অন্যদিকে কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা।
কিন্তু কয়েক বছর না যেতেই সেই বাঁধের স্লোপে ফের স্থাপনা নির্মাণ শুরু হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌর এলাকার ঝাউবাগান থেকে মিড়াবাড়ি প্রেসিডেন্ট পার্ক হোটেল পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে এখন দেখা যাচ্ছে সারি সারি ছোট দোকান ও স্থাপনা।
চৌরাস্তা এলাকায় নেমে পর্যটকেরা যখন সমুদ্রের দিকে তাকান, তখন তাঁদের চোখে প্রথমেই পড়ে এসব স্থাপনা। ফলে সমুদ্রের খোলা দৃশ্য অনেকটা আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের জায়গা দখল করে একের পর এক দোকান নির্মাণ করা হলেও শুরুতেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত তিন মাসে স্থাপনার সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, কুয়াকাটার বেড়িবাঁধ শুধু পর্যটন এলাকার সৌন্দর্যের অংশ নয়। এটি উপকূলীয় জনপদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
তাঁদের আশঙ্কা, বাঁধের স্লোপে স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কাঠামো তৈরি হলে বাঁধের স্বাভাবিক কাঠামো দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট এলাকাতেও এখন ভাঙনের চিহ্ন স্পষ্ট। প্রবল সাগরভাঙনে বিভিন্ন জায়গায় জিওব্যাগ ও জিওটিউব ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে। কোথাও কোথাও শ্যাওলা ধরা এসব প্রতিরক্ষা উপকরণ পড়ে থাকায় পর্যটকদের চলাচলেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ভাঙনের কারণে ছড়িয়ে থাকা কংক্রিটের ভগ্নাংশেও আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফলে অনেক পর্যটক মূল পর্যটন পয়েন্টের বদলে সৈকতের পশ্চিম দিকে চলে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখছেন, সমুদ্রের ঢেউয়ে গোসল করছেন এবং তুলনামূলক খোলা পরিবেশে সময় কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে মূল পর্যটন পয়েন্ট ও বাঁধসংলগ্ন এলাকায় নতুন করে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো পর্যটকদের স্বস্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা নাজিয়া রহমান বলেন, সৈকত রক্ষায় দায়িত্বশীলদের উদাসীনতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তাঁর ভাষায়, পর্যটকেরা কুয়াকাটায় আসেন সাগরের সৌন্দর্য দেখতে। কিন্তু বাঁধের ওপর ও পাশে সারি সারি স্থাপনা থাকলে সেই সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ কমে যায়।
অধিকাংশ পর্যটকেরও দাবি, বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে হাঁটা কিংবা যানবাহনে চলাচলের সময় যেন নির্বিঘেœ সমুদ্র দেখা যায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁদের মতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বাঁধের স্লোপে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি।
নতুন করে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা কীভাবে নির্মিত হলো এবং এর পেছনে কারা রয়েছেন-এ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে।
বিশেষ করে যে এলাকায় কয়েক বছর আগে সরকারি অর্থে ক্ষতিপূরণ দিয়ে স্থাপনা সরানো হয়েছিল, সেখানে আবার নতুন স্থাপনা গড়ে ওঠায় প্রশ্ন উঠছে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিয়েও।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে কি সমস্যার সমাধান হবে, নাকি পুনরায় দখল ঠেকাতে স্থায়ী নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব স্থাপনা অবৈধ এবং সেগুলো উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য ইতোমধ্যে মাইকিং করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে না নিলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহআলম বলেন, এসব স্থাপনা অপসারণে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কুয়াকাটার বেড়িবাঁধে নতুন করে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা তাই শুধু অবৈধ দখলের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারি অর্থে নির্মিত উপকূলীয় প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ সৌন্দর্যের প্রশ্নও।

পাঁচ বছর ভাঙা সেতু, এখন ভাসমান পথেই চার গ্রামের স্বস্তি

ক্ষতিপূরণ দিয়েও ঠেকানো গেল না কুয়াকাটার বেড়িবাঁধে ফের শতাধিক স্থাপনা

প্রকাশিত : ০৪:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: কয়েক বছর আগে সরকারি অর্থে ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বসতঘর ও নানা স্থাপনা। প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছিল ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। সাগরের ভাঙন ঠেকাতে বসানো হয়েছিল কংক্রিটের ব্লক, জিওব্যাগ ও জিওটিউব। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে বাঁধের সাগরঘেঁষা অংশকে মেরিন ড্রাইভের আদলে গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই বেড়িবাঁধের ঢালেই আবার ফিরে এসেছে স্থাপনা।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় গত তিন মাসে প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধের স্লোপে গড়ে উঠেছে শতাধিক ছোট দোকান ও স্থাপনা। এতে একদিকে যেমন পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য আড়ালে পড়ছে, অন্যদিকে বাঁধের কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন-যে স্থাপনা সরিয়ে নিতে সরকার কোটি কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিল, কয়েক বছর পর একই জায়গায় আবার কীভাবে স্থাপনা গড়ে উঠল?
কুয়াকাটা সৈকত ও আশপাশের মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮-২০১৯ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ করা হয়।
বাঁধের স্লোপে থাকা বসতঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ৬৭৩টি পরিবারকে দেওয়া হয় ৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ।

এরপর বাঁধের উন্নয়নকাজ শেষ হয়। কুয়াকাটা চৌরাস্তা থেকে পশ্চিম দিকে লেম্বুরবন মোহনা পর্যন্ত সাগরের অব্যাহত ভাঙন থেকে বাঁধ রক্ষায় বসানো হয় কংক্রিটের ব্লক।
সাগরঘেঁষা প্রায় ২২ কিলোমিটার অংশকে মেরিন ড্রাইভের আদলে গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল একদিকে উপকূলীয় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা, অন্যদিকে কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা।
কিন্তু কয়েক বছর না যেতেই সেই বাঁধের স্লোপে ফের স্থাপনা নির্মাণ শুরু হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌর এলাকার ঝাউবাগান থেকে মিড়াবাড়ি প্রেসিডেন্ট পার্ক হোটেল পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে এখন দেখা যাচ্ছে সারি সারি ছোট দোকান ও স্থাপনা।
চৌরাস্তা এলাকায় নেমে পর্যটকেরা যখন সমুদ্রের দিকে তাকান, তখন তাঁদের চোখে প্রথমেই পড়ে এসব স্থাপনা। ফলে সমুদ্রের খোলা দৃশ্য অনেকটা আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের জায়গা দখল করে একের পর এক দোকান নির্মাণ করা হলেও শুরুতেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত তিন মাসে স্থাপনার সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, কুয়াকাটার বেড়িবাঁধ শুধু পর্যটন এলাকার সৌন্দর্যের অংশ নয়। এটি উপকূলীয় জনপদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
তাঁদের আশঙ্কা, বাঁধের স্লোপে স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কাঠামো তৈরি হলে বাঁধের স্বাভাবিক কাঠামো দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট এলাকাতেও এখন ভাঙনের চিহ্ন স্পষ্ট। প্রবল সাগরভাঙনে বিভিন্ন জায়গায় জিওব্যাগ ও জিওটিউব ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে। কোথাও কোথাও শ্যাওলা ধরা এসব প্রতিরক্ষা উপকরণ পড়ে থাকায় পর্যটকদের চলাচলেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ভাঙনের কারণে ছড়িয়ে থাকা কংক্রিটের ভগ্নাংশেও আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফলে অনেক পর্যটক মূল পর্যটন পয়েন্টের বদলে সৈকতের পশ্চিম দিকে চলে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখছেন, সমুদ্রের ঢেউয়ে গোসল করছেন এবং তুলনামূলক খোলা পরিবেশে সময় কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে মূল পর্যটন পয়েন্ট ও বাঁধসংলগ্ন এলাকায় নতুন করে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো পর্যটকদের স্বস্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা নাজিয়া রহমান বলেন, সৈকত রক্ষায় দায়িত্বশীলদের উদাসীনতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তাঁর ভাষায়, পর্যটকেরা কুয়াকাটায় আসেন সাগরের সৌন্দর্য দেখতে। কিন্তু বাঁধের ওপর ও পাশে সারি সারি স্থাপনা থাকলে সেই সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ কমে যায়।
অধিকাংশ পর্যটকেরও দাবি, বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে হাঁটা কিংবা যানবাহনে চলাচলের সময় যেন নির্বিঘেœ সমুদ্র দেখা যায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁদের মতে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বাঁধের স্লোপে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি।
নতুন করে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা কীভাবে নির্মিত হলো এবং এর পেছনে কারা রয়েছেন-এ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে।
বিশেষ করে যে এলাকায় কয়েক বছর আগে সরকারি অর্থে ক্ষতিপূরণ দিয়ে স্থাপনা সরানো হয়েছিল, সেখানে আবার নতুন স্থাপনা গড়ে ওঠায় প্রশ্ন উঠছে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিয়েও।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে কি সমস্যার সমাধান হবে, নাকি পুনরায় দখল ঠেকাতে স্থায়ী নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব স্থাপনা অবৈধ এবং সেগুলো উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য ইতোমধ্যে মাইকিং করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে না নিলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহআলম বলেন, এসব স্থাপনা অপসারণে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কুয়াকাটার বেড়িবাঁধে নতুন করে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা তাই শুধু অবৈধ দখলের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারি অর্থে নির্মিত উপকূলীয় প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ সৌন্দর্যের প্রশ্নও।