আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। তার বার্ষিক আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৩ কোটি টাকা। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া তার হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, এক সময়ের কলেজ অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বর্তমানে তার পেশা হিসেবে ‘কৃষি ও ব্যবসা’ উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রী লায়লা হাবিব পেশায় একজন ব্যবসায়ী, বিশেষ করে পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দুলুর দুই সন্তানের মধ্যে আহনাফ হাবিব ইনতেসার বর্তমানে বেসরকারি চাকরিতে নিয়োজিত এবং ছোট ছেলে আহমিক হাবিব ইয়ারদান ছাত্র। দুই ছেলের নামে কোনো সম্পদ বা ব্যাংক জমার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ নেই।
আসাদুল হাবিব দুলুর বার্ষিক আয়ের বড় অংশ আসে কৃষি খাত থেকে। কৃষি খাতে বাৎসরিক আয় ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭০ টাকা। বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান ভাড়া থেকে ১৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে ৫ লাখ ২৩ হাজার ৩৫৫ টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৭০২ টাকা। শেয়ার ও ব্যাংক আমানত রয়েছে ৪৬ হাজার ৪৩৪ টাকা।

নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য খোলা নতুন অ্যাকাউন্টে ১০ লাখ ৮২ হাজার ৮২০ টাকাসহ তার হাতে ও বিভিন্ন ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকে ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬৮৬ টাকা এবং ৩৮ হাজার ৭৬৯ টাকা (দুটি পৃথক হিসাব)। ব্যাংক এশিয়ায় ২৬ হাজার ৬৭৭ টাকা, এবি ব্যাংকে ৪৭ হাজার ৬৭৭ টাকা, প্রাইম ব্যাংকে ৩৫ হাজার ৬০৬ টাকা , ডাচ-বাংলা ব্যাংক ৩৮ হাজার ৭৬৯ টাকা, সিটি ব্যাংকে ২ হাজার ১৫৬ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকে নামমাত্র স্থিতি ২৬ টাকা রয়েছে।
বিনিয়োগ ও বাহন হিসেবে দুলুর রয়েছে তালিকাভুক্ত নয়- এমন কোল্ড স্টোরেজ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার এবং ব্যাংকের শেয়ার, যার ক্রয়মূল্য ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪০ টাকা। যানবাহন হিসেবে তার মালিকানায় রয়েছে দুটি মাইক্রোবাস, দুটি বাস, একটি ট্রাক এবং একটি নতুন গাড়ি। এর মধ্যে মাইক্রোবাস দুটির বর্তমান বাজারমূল্য ৬২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং বাস দুটির বর্তমান মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক্স পণ্য, আসবাবপত্র ও একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯৯ হাজার ১২০ টাকা।
আসাদুল হাবিব দুলুর স্থাবর সম্পদের মধ্যে জমির পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে কৃষি জমি ৩৬.৫১২ একর (সরকারি গড় মূল্য ২২ কোটি ৮৭ লাখ ১২ হাজার ৮৫৯ টাকা)। অকৃষি জমি ৪.৫৮৫৭ একর (সরকারি গড় মূল্য ২২ কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫৯১ টাকা)। ঢাকার বনানীতে ৩ কোটি টাকা মূল্যের একটি ভবন, লালমনিরহাটে ২০ লাখ ৬৪ হাজার টাকার সম্পদ এবং চা বাগান, রাবার বাগান ও মৎস্য খামার বাবদ ৩ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার ৫০ টাকার সম্পদ রয়েছে। সব মিলিয়ে তার স্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫২ কোটি ৯৩ লাখ ৫৮ হাজার ২৩২ টাকা।
স্ত্রী লায়লা হাবিবের নামে পরিবহন ব্যবসা, টিনশেড বাড়ি ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। তার মোট সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৮৭ লাখ ৪১ হাজার ৭৮৭ টাকা।
আসাদুল হাবিব দুলু ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর বাঁধ নির্মাণ, আন্তঃনগর ট্রেন চালু, টিটিসি ও যুব উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন এবং ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের মতো উল্লেখযোগ্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট 























