ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজউকের নকশা অনুমোদন ওয়ান স্টপ করার নির্দেশ সংসদীয় কমিটির

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:০০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে ও সেবা দ্রুত নিশ্চিত করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রিতা দূর করে তা ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’-এ রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নকশা পাসের ক্ষেত্রে অনিয়ম দূর করা, স্বচ্ছতা আনা এবং আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দ্রুত সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এমপি। বৈঠকে কমিটির সদস্যবৃন্দ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি, প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পরিচিতি পর্ব শেষে মন্ত্রণালয়ের গত ১৮০ দিনের কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ২০২৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হতে যাওয়া অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের খাতওয়ারী বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। উপস্থাপিত তথ্য থেকে জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ৪৪টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার মোট বাজেট ৩৫১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীন ৬টি প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ১৩১৪.৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শহরাঞ্চলে খেলার মাঠ ও পার্কের তীব্র সংকট নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এ বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানান, দেশের তরুণ ও শিশুদের বিনোদন সুবিধা নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকাকে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মডেল সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশেষ করে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক ঐতিহ্য বজায় রেখে এটিকে পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন করার জন্য একটি বিশেষ পাইলটিং প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা জানানো হয়।

বৈঠকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ বর্গফুট ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে থাকা পরিত্যক্ত ও বিতর্কিত প্লট নিয়ে জটিলতা নিরসনে একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের সুপারিশ করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো ভুক্তভোগীদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের ভূমি দখলদারদের হাত থেকে জাতীয় সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা। ভূমি ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে মন্ত্রণালয় একটি সমন্বিত ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ বা ভূমি তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজ করছে এবং এই প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে দ্রুত অটোমেশন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন চলছে।

ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নিরসনে সরকারি ভবনসমূহের ভূমিকম্প সহনশীলতা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজের একটি চলমান প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হয়। এই পরিকল্পনাকে আরও বিস্তৃত করে দেশের ৪২টি জেলায় সরকারি ভবনগুলোর ভূমিকম্প ঝুঁকি যাচাই ও সহনশীলতা নির্ণয়ে নতুন প্রজেক্ট গ্রহণ করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। নাগরিক সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে রাজউকের প্ল্যান পাসের দীর্ঘসূত্রিতা পুরোপুরি দূর করে একে দ্রুত ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’-এ রূপান্তর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি চলমান কক্সবাজার মাস্টারপ্ল্যান যেন একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নমুখী রূপ পায়, সে বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকের বিবিধ আলোচনা অংশে সংসদ ভবনের অবকাঠামোগত সমস্যা উঠে আসে। বর্ষাকালে জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সভাপতি সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে নজর দেওয়ার এবং স্থায়ী সমাধানের নির্দেশনা দেন। সভাপতি বলেন, সরকারি কাজে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

রাজউকের নকশা অনুমোদন ওয়ান স্টপ করার নির্দেশ সংসদীয় কমিটির

প্রকাশিত : ১২:০০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে ও সেবা দ্রুত নিশ্চিত করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রিতা দূর করে তা ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’-এ রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নকশা পাসের ক্ষেত্রে অনিয়ম দূর করা, স্বচ্ছতা আনা এবং আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দ্রুত সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এমপি। বৈঠকে কমিটির সদস্যবৃন্দ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি, প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পরিচিতি পর্ব শেষে মন্ত্রণালয়ের গত ১৮০ দিনের কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ২০২৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হতে যাওয়া অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের খাতওয়ারী বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। উপস্থাপিত তথ্য থেকে জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ৪৪টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার মোট বাজেট ৩৫১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীন ৬টি প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ১৩১৪.৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শহরাঞ্চলে খেলার মাঠ ও পার্কের তীব্র সংকট নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এ বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানান, দেশের তরুণ ও শিশুদের বিনোদন সুবিধা নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকাকে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মডেল সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশেষ করে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক ঐতিহ্য বজায় রেখে এটিকে পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন করার জন্য একটি বিশেষ পাইলটিং প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা জানানো হয়।

বৈঠকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ বর্গফুট ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে থাকা পরিত্যক্ত ও বিতর্কিত প্লট নিয়ে জটিলতা নিরসনে একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের সুপারিশ করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো ভুক্তভোগীদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের ভূমি দখলদারদের হাত থেকে জাতীয় সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা। ভূমি ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে মন্ত্রণালয় একটি সমন্বিত ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ বা ভূমি তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজ করছে এবং এই প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে দ্রুত অটোমেশন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন চলছে।

ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নিরসনে সরকারি ভবনসমূহের ভূমিকম্প সহনশীলতা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজের একটি চলমান প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হয়। এই পরিকল্পনাকে আরও বিস্তৃত করে দেশের ৪২টি জেলায় সরকারি ভবনগুলোর ভূমিকম্প ঝুঁকি যাচাই ও সহনশীলতা নির্ণয়ে নতুন প্রজেক্ট গ্রহণ করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। নাগরিক সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে রাজউকের প্ল্যান পাসের দীর্ঘসূত্রিতা পুরোপুরি দূর করে একে দ্রুত ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’-এ রূপান্তর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি চলমান কক্সবাজার মাস্টারপ্ল্যান যেন একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নমুখী রূপ পায়, সে বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকের বিবিধ আলোচনা অংশে সংসদ ভবনের অবকাঠামোগত সমস্যা উঠে আসে। বর্ষাকালে জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সভাপতি সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে নজর দেওয়ার এবং স্থায়ী সমাধানের নির্দেশনা দেন। সভাপতি বলেন, সরকারি কাজে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।