দেশের অর্থোপেডিক চিকিৎসা উন্নয়ন, জ্ঞান–বিনিময় ও গবেষণা সমৃদ্ধ করতে আগামী ৩০ নভেম্বর শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির (বসকন) ৩৮তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন। দুইদিনব্যাপী এই আয়োজনকে ঘিরে ঢাকায় জড়ো হচ্ছেন দেশি–বিদেশি প্রায় দুই হাজার চিকিৎসক।
একইমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আধুনিক চিকিৎসা উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিভিন্ন সেশন।শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব ডা. ইরফানুল হক সিদ্দিকী, বসকন–২৫ উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ওয়াকিল আহমেদ ও সেক্রেটারি ডা. মিজানুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের সম্মেলনে ভারত, জাপান, নেপাল, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ সার্জনরা যোগ দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকেই এক হাজার ২৫ জন অর্থোপেডিক সার্জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। দুইদিনে ৩০টি বৈজ্ঞানিক সেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উপস্থাপন করা হবে ২০২টি গবেষণা প্রবন্ধ।
সম্মেলনের আগে অনুষ্ঠিত হবে দুটি প্রি–কংগ্রেস ওয়ার্কশপ, যেখানে বিদেশি বিশেষজ্ঞরা হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেবেন দেশের চিকিৎসকদের।
অনুষ্ঠানটি প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিন সেশন চলবে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান। এছাড়া স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান, বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা দেশের চিকিৎসা সক্ষমতা বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার অযথা প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, টাইফয়েডের মতো সাধারণ রোগেও অনেক রোগী বিদেশ চলে যান। অনেকেই অজ্ঞতার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেন, অথচ এসব রোগের আধুনিক চিকিৎসা বাংলাদেশেই নিয়মিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে হাত–পা প্রতিস্থাপনসহ জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে হচ্ছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের গুরুতর অপারেশনও নিটোরে সম্পন্ন হয়েছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও নিটোরের কাজের প্রশংসা করেছেন।

অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান বলেন, উপজেলা পর্যায়েও অর্থোপেডিক সার্জন থাকলেও পর্যাপ্ত সুযোগ–সুবিধা নেই। প্রান্তিক পর্যায়ের অবকাঠামো দুর্বল হওয়ায় চিকিৎসকদের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয় না।
সদস্য সচিব ডা. ইরফানুল হক বলেন, দেশে দুই হাজার ২০০ জনে বেশি অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ থাকলেও আধুনিক দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ জরুরি। এই সম্মেলন চিকিৎসকদের জন্য অভিজ্ঞতা বিনিময় ও দক্ষতা উন্নয়নের বড় সুযোগ তৈরি করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























