ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

নাসিরনগরে ফিরছে সরিষা চাষের ঐতিহ্য মধু উৎপাদনে নতুন সম্ভবনা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৩:০১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া প্রতিনিধি: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রণোদনা এবং কৃষকদের আগ্রহে চলতি বছর নাসিরনগরের কৃষকদের মাঝে হারিয়ে যাওয়া সরিষা চাষের উৎসাহ ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে মধু উৎপাদন ঘিরেও নতুন স্বপ্ন দেখছেন এখানকার চাষিরা। এ বছর এলাকাজুড়ে কৃষকদের আলোচনা, অপেক্ষা আর আগ্রহ সেই পুরনো ফসলের নতুন সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে।

রবি শস্য চাষে কৃষকদের আগ্রহ এবং সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে চলতি বছর গ্রহণ করা হয়েছে ব্যাপক পরিকল্পনা। সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে ৪ হাজার কৃষককে। সর্বমোট প্রায় ৭ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে সরিষার বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ। উপজেলায় ৫ হাজার ৯০৮ হেক্টর জমিতে এ বছর সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন। অধিকাংশ জমিতে চাষ করা হয়েছে বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৭, বারি সরিষা-২০, বিনা-৯সহ বিভিন্ন জাতের সরিষা। বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সরিষার মাঠে স্থাপন করা হয়েছে ৩টি মধু সংগ্রহ খামার। আশা করা হচ্ছে, এসব খামারের ৫০০টিরও বেশি মৌবাক্স থেকে সংগ্রহ করা যাবে ১২৫ মণের বেশি বিশুদ্ধ মধু।

গত ২০ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন এবং নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ফান্দাউক ইউনিয়নের আতুকুড়া গ্রামের একটি মৌখামার ও পার্শ্ববর্তী সরিষার মাঠ। তারা উপস্থিত কৃষকদের বিভিন্ন সময়োপযোগী পরামর্শ দেন এবং সরিষার উৎপাদন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

উপ-পরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, “মৌমাছির মাধ্যমে পরাগরেণু এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পৌঁছে যায়। এতে সরিষার উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সরিষা উৎপাদন হতে পারে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনের উদ্যোগ ও আচরণেও সন্তুষ্ট কৃষকরা। পরিদর্শিত খামারের মৌচাষি সৈয়দ উদ্দিন বলেন, “কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত আমার খামারের খোঁজখবর রাখেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।” গোকর্ণ ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের কৃষক ভজন চন্দ্র দেব বলেন, “ইমরান স্যারের কৃষিবিষয়ক ভিডিওগুলো আমি নিয়মিত দেখি, যা আমার খুব উপকারে আসে। তাঁর কাছ থেকে আমি উৎসাহ ও সহযোগিতা পাই।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুমকিতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে কাবাডি ও দাবা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

নাসিরনগরে ফিরছে সরিষা চাষের ঐতিহ্য মধু উৎপাদনে নতুন সম্ভবনা

প্রকাশিত : ০৩:০১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া প্রতিনিধি: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রণোদনা এবং কৃষকদের আগ্রহে চলতি বছর নাসিরনগরের কৃষকদের মাঝে হারিয়ে যাওয়া সরিষা চাষের উৎসাহ ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে মধু উৎপাদন ঘিরেও নতুন স্বপ্ন দেখছেন এখানকার চাষিরা। এ বছর এলাকাজুড়ে কৃষকদের আলোচনা, অপেক্ষা আর আগ্রহ সেই পুরনো ফসলের নতুন সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে।

রবি শস্য চাষে কৃষকদের আগ্রহ এবং সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে চলতি বছর গ্রহণ করা হয়েছে ব্যাপক পরিকল্পনা। সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে ৪ হাজার কৃষককে। সর্বমোট প্রায় ৭ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে সরিষার বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ। উপজেলায় ৫ হাজার ৯০৮ হেক্টর জমিতে এ বছর সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন। অধিকাংশ জমিতে চাষ করা হয়েছে বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৭, বারি সরিষা-২০, বিনা-৯সহ বিভিন্ন জাতের সরিষা। বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সরিষার মাঠে স্থাপন করা হয়েছে ৩টি মধু সংগ্রহ খামার। আশা করা হচ্ছে, এসব খামারের ৫০০টিরও বেশি মৌবাক্স থেকে সংগ্রহ করা যাবে ১২৫ মণের বেশি বিশুদ্ধ মধু।

গত ২০ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন এবং নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ফান্দাউক ইউনিয়নের আতুকুড়া গ্রামের একটি মৌখামার ও পার্শ্ববর্তী সরিষার মাঠ। তারা উপস্থিত কৃষকদের বিভিন্ন সময়োপযোগী পরামর্শ দেন এবং সরিষার উৎপাদন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

উপ-পরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, “মৌমাছির মাধ্যমে পরাগরেণু এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পৌঁছে যায়। এতে সরিষার উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সরিষা উৎপাদন হতে পারে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনের উদ্যোগ ও আচরণেও সন্তুষ্ট কৃষকরা। পরিদর্শিত খামারের মৌচাষি সৈয়দ উদ্দিন বলেন, “কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত আমার খামারের খোঁজখবর রাখেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।” গোকর্ণ ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের কৃষক ভজন চন্দ্র দেব বলেন, “ইমরান স্যারের কৃষিবিষয়ক ভিডিওগুলো আমি নিয়মিত দেখি, যা আমার খুব উপকারে আসে। তাঁর কাছ থেকে আমি উৎসাহ ও সহযোগিতা পাই।