ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়ায় যশোরের শার্শা উপজেলায় শেষ মুহূর্তে বোরো ধান রোপনের ধুম

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৩:৫৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

বেনাপোল প্রতিনিধি:- কুয়াশার মোড়ক খুলে রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়ায় যশোরের শার্শা উপজেলায় বোরো ধান রোপনের শেষ মুহূর্তে ধুম পড়েছে। কৃষকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বোরো ধান রোপনের ব্যস্ততা। বীজতলার পাশাপাশি সার ও সেচের কোনো সংকট নেই এই মুহূর্তে।

বিগত তিন বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে উপজেলায় এবার বেশি জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

এদিকে কৃষকেরা জানান, বোরো মওসুমের শুরুতে শীত ও কুয়াশার দাপট থাকায় প্রথমদিকে ঠিকমত ধান লাগাতে পারেননি তারা। তবে, গত দুই সপ্তাহ আগে প্রকৃতির সেই বিরূপ পরিবেশ বদলে শার্শা উপজেলায় আকাশে রৌদ্রজ্জ্বল পরিবেশ বিরাজ করছে। এমন মিষ্টি-মধুর শীতের আমেজ পেয়ে কৃষকেরা বোরো ধান রোপন করছেন পুরোদমে।

উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের বারোপোতা গ্রামেরকৃষক জুলফিকার আলী বলেন, আমি ৩৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপন করছি। আপাতত ধানের চারা কোনো সংকট নেই।

ডিহি ইউনিয়নের গ্রামের কৃষক আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, তিন একর জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছি। শীতের শুরুতে সমস্যা হলেও এখন খুব ভালো পরিবেশ। ৭৫ বছরের বাদশা শেখ বলেন, জমি চাষাবাদ করে মই দিয়ে সমতল করে ধান লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। আরেক কৃষক মোহাম্মদ মোরাদ বলেন, আগেরদিনে গরু দিয়ে চাষাবাদ করা হলেও এখন পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে জমি চাষ করা হচ্ছে। এতে সময় কম লাগছে। তুলনামূলক খরচও কম। সাগর শেখ বলেন, ৭৫ বিঘা জমিতে রডমিনিকেট ধান রোপন করছি। এ জাতের ফলন ও দাম ভালো। ভাত খেতেও মজাদার। বিছালি বা খড় খুব ভালো হয়। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা বলেন, বোরো মওসুমের শুরুতে সার, কীটনাশক ও বিদ্যুৎচালিত সেচের তেমন সংকট নেই। মওসুমের শেষ পর্যন্ত এইভাবে সবকিছু ঠিকঠাক এবং আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষকদের কষ্ট সার্থক হবে। সোনালি ফসল ঠিকমত ঘরে উঠবে।

চলতি মৌসুমে শার্শায় ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ১৭৫ দশমিক ৫ হেক্টর।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ব্রি ধান-৫০, ৬৩, ৮৮, ১০০, ১০২, ১০৪, বিনাধান-২৫, রড মিনিকেট ও শুভলতা জাতের চাষ বেশি হয়।চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর। বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ১৭৫ দশমিক ৫ হেক্টর। এ পর্যন্ত রোপন করা হয়েছে ১৪০ হেক্টর জমিতে। এখনো রোপন চলমান রয়েছে।


যশোর যশোর কৃষি সম্প্রসারণ উপপরিচালক মোশারফ হোসেন জানান,এ বছর৷ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর। বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ১৭৫ দশমিক ৫ হেক্টর। এ পর্যন্ত রোপন করা হয়েছে ১৪০ হেক্টর জমিতে। আবাদ বেশি হয়েছে। তিনি বলেন, এ বছর ২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ আদর্শ বীজতলা রয়েছে। এক্ষেত্রে বীজতলারও কোনো সংকট নেই।

তিনি আরও বলেন, কৃষি অফিস হতে চাষিদের সর্বদা পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে, আমরা আশা করছি এ বছরও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়ায় যশোরের শার্শা উপজেলায় শেষ মুহূর্তে বোরো ধান রোপনের ধুম

প্রকাশিত : ০৩:৫৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বেনাপোল প্রতিনিধি:- কুয়াশার মোড়ক খুলে রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়ায় যশোরের শার্শা উপজেলায় বোরো ধান রোপনের শেষ মুহূর্তে ধুম পড়েছে। কৃষকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বোরো ধান রোপনের ব্যস্ততা। বীজতলার পাশাপাশি সার ও সেচের কোনো সংকট নেই এই মুহূর্তে।

বিগত তিন বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে উপজেলায় এবার বেশি জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

এদিকে কৃষকেরা জানান, বোরো মওসুমের শুরুতে শীত ও কুয়াশার দাপট থাকায় প্রথমদিকে ঠিকমত ধান লাগাতে পারেননি তারা। তবে, গত দুই সপ্তাহ আগে প্রকৃতির সেই বিরূপ পরিবেশ বদলে শার্শা উপজেলায় আকাশে রৌদ্রজ্জ্বল পরিবেশ বিরাজ করছে। এমন মিষ্টি-মধুর শীতের আমেজ পেয়ে কৃষকেরা বোরো ধান রোপন করছেন পুরোদমে।

উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের বারোপোতা গ্রামেরকৃষক জুলফিকার আলী বলেন, আমি ৩৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপন করছি। আপাতত ধানের চারা কোনো সংকট নেই।

ডিহি ইউনিয়নের গ্রামের কৃষক আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, তিন একর জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছি। শীতের শুরুতে সমস্যা হলেও এখন খুব ভালো পরিবেশ। ৭৫ বছরের বাদশা শেখ বলেন, জমি চাষাবাদ করে মই দিয়ে সমতল করে ধান লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। আরেক কৃষক মোহাম্মদ মোরাদ বলেন, আগেরদিনে গরু দিয়ে চাষাবাদ করা হলেও এখন পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে জমি চাষ করা হচ্ছে। এতে সময় কম লাগছে। তুলনামূলক খরচও কম। সাগর শেখ বলেন, ৭৫ বিঘা জমিতে রডমিনিকেট ধান রোপন করছি। এ জাতের ফলন ও দাম ভালো। ভাত খেতেও মজাদার। বিছালি বা খড় খুব ভালো হয়। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা বলেন, বোরো মওসুমের শুরুতে সার, কীটনাশক ও বিদ্যুৎচালিত সেচের তেমন সংকট নেই। মওসুমের শেষ পর্যন্ত এইভাবে সবকিছু ঠিকঠাক এবং আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষকদের কষ্ট সার্থক হবে। সোনালি ফসল ঠিকমত ঘরে উঠবে।

চলতি মৌসুমে শার্শায় ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ১৭৫ দশমিক ৫ হেক্টর।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ব্রি ধান-৫০, ৬৩, ৮৮, ১০০, ১০২, ১০৪, বিনাধান-২৫, রড মিনিকেট ও শুভলতা জাতের চাষ বেশি হয়।চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর। বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ১৭৫ দশমিক ৫ হেক্টর। এ পর্যন্ত রোপন করা হয়েছে ১৪০ হেক্টর জমিতে। এখনো রোপন চলমান রয়েছে।


যশোর যশোর কৃষি সম্প্রসারণ উপপরিচালক মোশারফ হোসেন জানান,এ বছর৷ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর। বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ১৭৫ দশমিক ৫ হেক্টর। এ পর্যন্ত রোপন করা হয়েছে ১৪০ হেক্টর জমিতে। আবাদ বেশি হয়েছে। তিনি বলেন, এ বছর ২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ আদর্শ বীজতলা রয়েছে। এক্ষেত্রে বীজতলারও কোনো সংকট নেই।

তিনি আরও বলেন, কৃষি অফিস হতে চাষিদের সর্বদা পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে, আমরা আশা করছি এ বছরও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।