ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন শিক্ষাবর্ষ শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি ৩০ লাখ বই, এখনও চলছে ছাপার কাজ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৮:৪৫:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি ৩০ লাখের বেশি পাঠ্যবই। পহেলা জানুয়ারি বই উৎসবের পর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণের যে প্রতিশ্রুতি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) দিয়েছিল, ২৫ জানুয়ারি পেরিয়েও তা পূরণ হয়নি। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই বিতরণ সম্পন্ন হলেও মাধ্যমিক স্তরে, বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে, সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখনো বই ছাপা ও বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যথাসময়ে বই বিতরণে ব্যর্থতার দায় কার— এ প্রশ্ন সামনে এসেছে। যদিও সংস্থাটির দাবি, চলতি মাসের মধ্যে শতভাগ পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে।

এনসিটিবি বলছে, এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে মোট ১০৫টি প্রেসের মাধ্যমে ৩০ কোটি ২৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৩ কপি পাঠ্যবই ছাপার পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ২৯ কোটি ৯১ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৪ কপি, যা শতকরা হিসাবে ৯৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

নথির তথ্য বলছে, ২৪ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে ২৯ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার ৮৫৯ কপি বই। ফলে, এখনো বিতরণ বাকি রয়েছে ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি পাঠ্যবই, যা মোট নির্ধারিত বইয়ের ১ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ কাগজে-কলমে প্রায় শতভাগ বিতরণ দেখালেও বাস্তবে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এখনো পাঠ্যবই হাতে পায়নি।

তবে স্বস্তির খবর হলো, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক (সাধারণ) স্তরে বই বিতরণ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৬৭টি প্রেসের মাধ্যমে মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি পাঠ্যবই নির্ধারিত ছিল। এই স্তরে মুদ্রণ, পিডিআই এবং ডেলিভারি— তিন ধাপেই শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। একইভাবে, প্রাথমিক (সাধারণ) স্তরে মোট ৩১ কোটি ১০ লাখ ৯ হাজার ৩৪৭ কপি বইয়ের মুদ্রণ ও বিতরণ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এই দুই স্তরে কোনো বই অবশিষ্ট নেই।

সংকট পুরোপুরি কেন্দ্রীভূত হয়েছে মাধ্যমিক স্তরে। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরে মোট বই নির্ধারিত ছিল ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৯২৭ কপি। এর মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫৮ কপি, যা শতকরা হিসাবে ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে, বিতরণ পর্যায়ে গিয়ে এই হার কমে দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে। ফলে মাধ্যমিক স্তরেই আটকে রয়েছে পুরো ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি বই, যা এই স্তরের মোট বইয়ের ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে টেন্ডারসহ ছাপা সংক্রান্ত কার্যক্রমগুলো আগে থেকেই শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের হাতে পহেলা জানুয়ারিতে বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করা হয়। শুরুতে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবতায় দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়সীমা পুরোপুরি ধরে রাখা সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ধানের শীষের প্রচারণা জার্মানিতে

নতুন শিক্ষাবর্ষ শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি ৩০ লাখ বই, এখনও চলছে ছাপার কাজ

প্রকাশিত : ০৮:৪৫:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি ৩০ লাখের বেশি পাঠ্যবই। পহেলা জানুয়ারি বই উৎসবের পর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণের যে প্রতিশ্রুতি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) দিয়েছিল, ২৫ জানুয়ারি পেরিয়েও তা পূরণ হয়নি। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই বিতরণ সম্পন্ন হলেও মাধ্যমিক স্তরে, বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে, সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখনো বই ছাপা ও বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যথাসময়ে বই বিতরণে ব্যর্থতার দায় কার— এ প্রশ্ন সামনে এসেছে। যদিও সংস্থাটির দাবি, চলতি মাসের মধ্যে শতভাগ পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে।

এনসিটিবি বলছে, এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে মোট ১০৫টি প্রেসের মাধ্যমে ৩০ কোটি ২৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৩ কপি পাঠ্যবই ছাপার পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ২৯ কোটি ৯১ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৪ কপি, যা শতকরা হিসাবে ৯৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

নথির তথ্য বলছে, ২৪ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে ২৯ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার ৮৫৯ কপি বই। ফলে, এখনো বিতরণ বাকি রয়েছে ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি পাঠ্যবই, যা মোট নির্ধারিত বইয়ের ১ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ কাগজে-কলমে প্রায় শতভাগ বিতরণ দেখালেও বাস্তবে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এখনো পাঠ্যবই হাতে পায়নি।

তবে স্বস্তির খবর হলো, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক (সাধারণ) স্তরে বই বিতরণ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৬৭টি প্রেসের মাধ্যমে মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি পাঠ্যবই নির্ধারিত ছিল। এই স্তরে মুদ্রণ, পিডিআই এবং ডেলিভারি— তিন ধাপেই শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। একইভাবে, প্রাথমিক (সাধারণ) স্তরে মোট ৩১ কোটি ১০ লাখ ৯ হাজার ৩৪৭ কপি বইয়ের মুদ্রণ ও বিতরণ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এই দুই স্তরে কোনো বই অবশিষ্ট নেই।

সংকট পুরোপুরি কেন্দ্রীভূত হয়েছে মাধ্যমিক স্তরে। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরে মোট বই নির্ধারিত ছিল ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৯২৭ কপি। এর মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫৮ কপি, যা শতকরা হিসাবে ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে, বিতরণ পর্যায়ে গিয়ে এই হার কমে দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে। ফলে মাধ্যমিক স্তরেই আটকে রয়েছে পুরো ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি বই, যা এই স্তরের মোট বইয়ের ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে টেন্ডারসহ ছাপা সংক্রান্ত কার্যক্রমগুলো আগে থেকেই শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের হাতে পহেলা জানুয়ারিতে বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করা হয়। শুরুতে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবতায় দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়সীমা পুরোপুরি ধরে রাখা সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।