ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি বন্ধ করা হবে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

শেরপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে যদি কেউ সন্ত্রাস চালাতে চায়, তাহলে আল্লাহর নাম নিয়ে সমান পরিমাণ জবাব দিয়ে দেবেন, বেশি দেওয়ার দরকার নাই। তবে নিজে জবাব দেওয়ার আগে অবশ্যই প্রশাসনকে জানাবেন। যদি দেখেন প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এটা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে গেছে, তাহলে সেটা প্রতিহত করা ওয়াজিব হয়ে যাবে। তিনি ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শেরপুর শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমীর বলেন, যতদিন পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা না হবে ততদিন চব্বিশ চলবে। আপনারা জেগে থাকবেন, পাহারা দেবেন। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি বন্ধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। তাদের হালাল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে চাই। আমরা যুবকদের বাংলাদেশ নামে উড়োজাহাজের ককপিটে বসিয়ে দেব, আমরা বসব প্যাসেঞ্জার সিটে। তোমরাই আমাদের অহংকার। তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি কঠিন বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে, ১২ তারিখ সেই বাঁক পরিবর্তনের দিন। আল্লাহতায়ালার গোলামি যারা করে, তারা কালো মেঘ দেখলে ভয় পায় না। আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে তুচ্ছ শান্তির জন্য হানাহানি হবে না, নোংরা ঘটনা ঘটবে না। রাজনীতির নাম যদি মানুষ খুন হয় সেই রাজনীতি আমরা ঘৃণা করি।
তিনি বলেন, আমাদের কেউ চাঁদাবাজ বলতে পারবে না। আমরা কোথাও চাঁদাবাজি করি না। বাংলাদেশে মোট মামলা করেছি ১ হাজার ২শ। এর মধ্যে ৮টি মামলায় আসামি একজন করে। দ্বিতীয় কাউকে অপরাধী পাইনি, তাদের নাম লিখব কি করে। আমরা এটা করিনি। কিন্তু অনেকেই হাজার হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা করেছেন। তারপর তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু গ্রহণ করেছেন। এসব হারাম।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি মায়েদের অত্যন্ত সম্মান করি। আমার এক্স একাউন্ট হ্যাক করে মায়েদের নামে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য পোস্ট করা হয়েছে। একটা দল সেটি নিয়ে হইহই রইরই করে মিছিল শুরু করে দিয়েছে। যারা মায়েদের সম্মান করে না তারাই এখন মিছিল করছে। সাত ঘণ্টা পর আমার এডমিন একাউন্টের এক্সেস ফিরে পেয়েছে। এই সাময়িক সময়টুকুতে যদি কোন মা ওদের অপতথ্যের কারণে মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তাদের কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, বহু জায়গায় মায়েদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। কোন কোন উন্মাদ বলেছে, বোরকা-হিজাব পরে কেউ ভোট চাইতে গেলে তাদের কাপড় খুলে ফেলা হবে। যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে নিতে চায়, তারা পশুর চেয়েও খারাপ। আমি স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, মায়ের গায়ে হাত উঠলে বাংলাদেশ বিস্ফোরিত হবে।
শেরপুরের উন্নয়নের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা যেহেতু কৃষিপ্রধান এলাকা, এখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হলে ভালো হবে। এ জেলায় মেডিকেল কলেজ না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে দেশের কোন জেলাই মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না। আর যেখানে যে ইন্ডাস্ট্রিজ প্রয়োজন সেটি গড়ে তোলা হবে।
বক্তব্য শেষে জামায়াতের আমীর শেরপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া ভিপি, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. ছামিউল হক ফারুকী, জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ডা. শাহাদাৎ হোসাইন, সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা জাকারিয়া মো. আব্দুল বাতেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রিয়াদ হোসাইন, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ সম্পাদক ইউসুফ ইলাহী, জেলা এবি পার্টির সভাপতি জাহান মল্লিক, খেলাফত মজলিস শেরপুর জেলা শাখার আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা শফিকুল ইসলাম, জেলা এনসিপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক মামুনুর রহমান, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুজ্জামান মাসুম, জুলাই যোদ্ধা খোকন চন্দ্র বর্মণ প্রমুখ। সমাবেশে জেলা, উপজেলা ও ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমীরে জামায়াতের জনসভা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াতের সাংবাদিক সম্মেলন

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি বন্ধ করা হবে

প্রকাশিত : ০৯:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শেরপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে যদি কেউ সন্ত্রাস চালাতে চায়, তাহলে আল্লাহর নাম নিয়ে সমান পরিমাণ জবাব দিয়ে দেবেন, বেশি দেওয়ার দরকার নাই। তবে নিজে জবাব দেওয়ার আগে অবশ্যই প্রশাসনকে জানাবেন। যদি দেখেন প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এটা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে গেছে, তাহলে সেটা প্রতিহত করা ওয়াজিব হয়ে যাবে। তিনি ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শেরপুর শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমীর বলেন, যতদিন পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা না হবে ততদিন চব্বিশ চলবে। আপনারা জেগে থাকবেন, পাহারা দেবেন। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি বন্ধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। তাদের হালাল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে চাই। আমরা যুবকদের বাংলাদেশ নামে উড়োজাহাজের ককপিটে বসিয়ে দেব, আমরা বসব প্যাসেঞ্জার সিটে। তোমরাই আমাদের অহংকার। তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি কঠিন বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে, ১২ তারিখ সেই বাঁক পরিবর্তনের দিন। আল্লাহতায়ালার গোলামি যারা করে, তারা কালো মেঘ দেখলে ভয় পায় না। আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে তুচ্ছ শান্তির জন্য হানাহানি হবে না, নোংরা ঘটনা ঘটবে না। রাজনীতির নাম যদি মানুষ খুন হয় সেই রাজনীতি আমরা ঘৃণা করি।
তিনি বলেন, আমাদের কেউ চাঁদাবাজ বলতে পারবে না। আমরা কোথাও চাঁদাবাজি করি না। বাংলাদেশে মোট মামলা করেছি ১ হাজার ২শ। এর মধ্যে ৮টি মামলায় আসামি একজন করে। দ্বিতীয় কাউকে অপরাধী পাইনি, তাদের নাম লিখব কি করে। আমরা এটা করিনি। কিন্তু অনেকেই হাজার হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা করেছেন। তারপর তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু গ্রহণ করেছেন। এসব হারাম।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি মায়েদের অত্যন্ত সম্মান করি। আমার এক্স একাউন্ট হ্যাক করে মায়েদের নামে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য পোস্ট করা হয়েছে। একটা দল সেটি নিয়ে হইহই রইরই করে মিছিল শুরু করে দিয়েছে। যারা মায়েদের সম্মান করে না তারাই এখন মিছিল করছে। সাত ঘণ্টা পর আমার এডমিন একাউন্টের এক্সেস ফিরে পেয়েছে। এই সাময়িক সময়টুকুতে যদি কোন মা ওদের অপতথ্যের কারণে মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তাদের কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, বহু জায়গায় মায়েদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। কোন কোন উন্মাদ বলেছে, বোরকা-হিজাব পরে কেউ ভোট চাইতে গেলে তাদের কাপড় খুলে ফেলা হবে। যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে নিতে চায়, তারা পশুর চেয়েও খারাপ। আমি স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, মায়ের গায়ে হাত উঠলে বাংলাদেশ বিস্ফোরিত হবে।
শেরপুরের উন্নয়নের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা যেহেতু কৃষিপ্রধান এলাকা, এখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হলে ভালো হবে। এ জেলায় মেডিকেল কলেজ না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে দেশের কোন জেলাই মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না। আর যেখানে যে ইন্ডাস্ট্রিজ প্রয়োজন সেটি গড়ে তোলা হবে।
বক্তব্য শেষে জামায়াতের আমীর শেরপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া ভিপি, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. ছামিউল হক ফারুকী, জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ডা. শাহাদাৎ হোসাইন, সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা জাকারিয়া মো. আব্দুল বাতেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রিয়াদ হোসাইন, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ সম্পাদক ইউসুফ ইলাহী, জেলা এবি পার্টির সভাপতি জাহান মল্লিক, খেলাফত মজলিস শেরপুর জেলা শাখার আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা শফিকুল ইসলাম, জেলা এনসিপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক মামুনুর রহমান, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুজ্জামান মাসুম, জুলাই যোদ্ধা খোকন চন্দ্র বর্মণ প্রমুখ। সমাবেশে জেলা, উপজেলা ও ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।