ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড়গামী ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ চলন্ত ট্রেন থেকে কনডেন্সার কয়েল চুরি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:১৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি এসি কোচের কনডেন্সার কয়েল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কোচটি পঞ্চগড় রেলস্টেশনে রেখে কম সংখ্যক কোচ নিয়ে ট্রেনটি ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই রেকে একটি কোচ কম নিয়ে ট্রেন চলাচল করবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেনটি আসার পর ইলেকট্রিক বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত ‘গ’ নম্বরের এসি কোচটি বাতিল ঘোষণা করে। কোচটিতে থাকা কনডেন্সার কয়েল (যা কম্প্রেসার থেকে আসা গরম গ্যাসকে ঠান্ডা তরলে রূপান্তর করে) চুরি হয়েছে বলে জানা যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোচটির ছাদের ওপর কনডেন্সার কয়েলের ঢাকনা খোলা অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কোচটি মূল রেক থেকে আলাদা করে স্টেশনে রাখা হয়েছে। কোচটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত ১৩টির পরিবর্তে ১২টি কোচ নিয়ে ট্রেন চলাচল করবে। প্রয়োজনে কোচটিকে স্পেয়ার কোচ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্টেশন সূত্র জানায়, কোচটিতে ৭৮টি এসি চেয়ার ছিল। কনডেন্সার কয়েল না থাকায় এসির কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। ফলে ওই কোচের যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বিক্রি হওয়া টিকিটের অর্থ সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে ওই কোচের টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের ইলেকট্রিক বিভাগের শ্রমিক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মাঝে মধ্যে এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটছে। ঢাকা থেকে আসার পথেই এসব ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইলেকট্রিক অফিসের ইনচার্জ পাভেল মাহমুদ বলেন, ট্রেনটি ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে আসার সময় পথিমধ্যে ওপর থেকে কেউ কনডেন্সার কয়েল খুলে নিয়ে গেছে। এসির কার্যকারিতা কমে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। কীভাবে চুরি হয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্টদের তলব করা হয়েছে।

স্টেশন মাস্টার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছানোর পর ইলেকট্রিক বিভাগ থেকে একটি কোচ বাতিল ঘোষণা করা হয়। মেসেজে জানানো হয়, একটি কনডেন্সার কয়েল অনুপস্থিত। ক্ষতিগ্রস্ত কোচের টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং যারা টিকিট কিনেছিলেন, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

রেল সূত্র আরও জানায়, এর আগে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বরের পর ৮ ফেব্রুয়ারি এবং সর্বশেষ ১৮ ফেব্রুয়ারি তিন দফায় একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়গামী ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ চলন্ত ট্রেন থেকে কনডেন্সার কয়েল চুরি

পঞ্চগড়গামী ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ চলন্ত ট্রেন থেকে কনডেন্সার কয়েল চুরি

প্রকাশিত : ১২:১৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি এসি কোচের কনডেন্সার কয়েল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কোচটি পঞ্চগড় রেলস্টেশনে রেখে কম সংখ্যক কোচ নিয়ে ট্রেনটি ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই রেকে একটি কোচ কম নিয়ে ট্রেন চলাচল করবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেনটি আসার পর ইলেকট্রিক বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত ‘গ’ নম্বরের এসি কোচটি বাতিল ঘোষণা করে। কোচটিতে থাকা কনডেন্সার কয়েল (যা কম্প্রেসার থেকে আসা গরম গ্যাসকে ঠান্ডা তরলে রূপান্তর করে) চুরি হয়েছে বলে জানা যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোচটির ছাদের ওপর কনডেন্সার কয়েলের ঢাকনা খোলা অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কোচটি মূল রেক থেকে আলাদা করে স্টেশনে রাখা হয়েছে। কোচটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত ১৩টির পরিবর্তে ১২টি কোচ নিয়ে ট্রেন চলাচল করবে। প্রয়োজনে কোচটিকে স্পেয়ার কোচ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্টেশন সূত্র জানায়, কোচটিতে ৭৮টি এসি চেয়ার ছিল। কনডেন্সার কয়েল না থাকায় এসির কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। ফলে ওই কোচের যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বিক্রি হওয়া টিকিটের অর্থ সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে ওই কোচের টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের ইলেকট্রিক বিভাগের শ্রমিক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মাঝে মধ্যে এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটছে। ঢাকা থেকে আসার পথেই এসব ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইলেকট্রিক অফিসের ইনচার্জ পাভেল মাহমুদ বলেন, ট্রেনটি ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে আসার সময় পথিমধ্যে ওপর থেকে কেউ কনডেন্সার কয়েল খুলে নিয়ে গেছে। এসির কার্যকারিতা কমে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। কীভাবে চুরি হয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্টদের তলব করা হয়েছে।

স্টেশন মাস্টার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছানোর পর ইলেকট্রিক বিভাগ থেকে একটি কোচ বাতিল ঘোষণা করা হয়। মেসেজে জানানো হয়, একটি কনডেন্সার কয়েল অনুপস্থিত। ক্ষতিগ্রস্ত কোচের টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং যারা টিকিট কিনেছিলেন, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

রেল সূত্র আরও জানায়, এর আগে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বরের পর ৮ ফেব্রুয়ারি এবং সর্বশেষ ১৮ ফেব্রুয়ারি তিন দফায় একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।