ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশালের বাকেরগঞ্জের শ্রীমন্ত নদী এখন মরা খাল উন্নয়নের নামে নদী দখল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৮:৫৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে
বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা শ্রীমন্ত নদীর এখন অস্তিত্ব পাওয়া কঠিন। বিলীন হওয়া শ্রীমন্ত নদীর দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা আর ঘরবাড়ির স্যুয়ারেজ লাইন মিলে এটি রীতিমতো একটি নালায় পরিণত হয়েছে। ২০-২৫ বছর আগেও নদীটি ছিল এ অঞ্চলের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। এখন পলি জমে নাব্য সংকটের কারণে বছরের অধিকাংশ সময় নদীটিতে থাকে হাঁটু সমান পানি। খনন না করায় নদীটি এখন বালুচরে রূপ নিয়েছে।
এতে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছে কৃষকেরা। নদীর পানি সেচকাজে ব্যবহার করতে না পারায় ফসল উৎপাদনে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে স্থানীয় চাষিদের। উন্নয়নের নামে বিভিন্ন সময়ে বলি হয়েছে নদীটি। শ্রীমন্ত নদীর দু’পাড়ে অবাধে অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে নদী দখল করে। এলাকাবাসী এটিকে এখন মরা খালই ধরে নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তুলাতলা নদী থেকে শুরু হয়ে উপজেলা শহরের মধ্য দিয়ে শ্রীমন্ত নদীটির সংযোগ হয়েছে পায়রা নদীর সঙ্গে। ২২ কিলোমিটার নদীটির পৌর শহরের তিন কিলোমিটার অংশ পাড় দখল হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন চলছে মাঝখানের অংশ দখলের প্রতিযোগিতা। নদীর মাঝখানে পৌর কর্তৃপক্ষ দুটি সেতু নির্মাণ করেছে। কোনোপ্রকার অনুমোদন ছাড়া অবৈধ এই সেতু অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করায় শ্রীমন্ত নদীপথে নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পৌর এলাকার হাট- বাজারসহ নদীর দুই তীরের আবাসিক এলাকার বর্জ্য প্রতিনিয়ত শ্রীমন্ত নদীতেই ফেলছেন স্থানীয়রা। যে কারণে নদীর বিভিন্ন স্থান এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। যে কারণে নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। এই বিষয়ে যেন কোনো গুরুত্বই নেই পৌর কর্তৃপক্ষের।
ম্যাপ অনুযায়ী শ্রীমন্ত নদীর প্রশস্ততা স্থানভেদে সর্বনি¤œ ১৫০ থেকে ৬০০ ফুট পর্যন্ত। দুই যুগ আগেও এই প্রশস্ততা বহাল ছিল। তখন বাতাসে ঢেউয়ের শব্দ ভেসে বেড়াত। বাহারী পানসি, লঞ্চ, ট্রলার, নৌকা ছুটত নদীর বুক চিড়ে। এ অঞ্চলে বড় বন্দর ও হাট-বাজার নলছিটির মোল্লারহাট, মীর্জাগঞ্জের সুবিদখালী, চান্দুখালী এবং বেতাগী ও পাথরঘাটা উপজেলার পণ্যবাহী নৌযানের প্রধান রুট ছিল শ্রীমন্ত নদী। এসব এখন শুধুই স্মৃতি। দখলের কবলে পড়ে শ্রীমন্ত নদীর উত্তাল ঢেউ আর স্রোত হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। এখন আর নদী আগের অবস্থায় উদ্ধার নয়, দখলদারের কবল থেকে বর্তমান খালটি বাঁচিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বাকেরগঞ্জবাসী।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নদীর তালিকায় এখনো বাকেরগঞ্জের ‘শ্রীমন্ত নদী’ নামটি রয়েছে। দু’পাশের তীর দখল ও দূষণে ‘শ্রীমন্ত’ নদীর ‘শ্রী’ হারিয়েছে বহু বছর আগে। এখন সেটি অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রভাবশালী সবাই আছেন দখলদারের তালিকায়। মাত্র দুই দশক সময়ের মধ্যে শ্রীমন্ত নদীর এমন মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌর শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর দু’পাশে ১, ২, ৩ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জনপথ। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তুলাতলী নদীতে উৎসমুখ থেকেই দখল শুরু। এই ওয়ার্ডের মরহুম আবদুর রশিদ পৌর কাউন্সিলর থাকাকালীন শ্রীমন্ত নদীর উৎসমুখ দখল করে ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এরপরে সামনের দিকে যতই অগ্রসর হয়েছে দখলে সরু হয়ে মৃত খালে পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির আওতায় একটি প্রকল্পে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৪৮ মিটার নদী খনন করেন সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া।
যেখানে নদী খননের নামে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎসহ নদীর দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেন। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানা ভবন নির্মাণেও ওই সময় নদী তীরের জমি অনেকেই দখল করেছে সাবেক পৌর মেয়রকে ম্যানেজ করার মাধ্যমে। শ্রীমন্ত নদীর উত্তরপাশে নদীর তীরে একাধিক ভবন মালিককে নদীর তীর দখলে দিয়ে সাবেক মেয়র ও পৌর কর্তৃপক্ষ হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এখন পৌর শহরে তিন কিলোমিটার শ্রীমন্ত নদীর তীর পুরোটা দখলদারদের কবলে।
বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে দেখা গেছে, নদীর দুই তীর ভরাট করে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় পাকা-আধাপাকা অসংখ্য ভবন। সেতুর পশ্চিমে আল আমিন মসজিদ থেকে শুরু হয়ে পূর্বে থানা ভবন পর্যন্ত এক কিলেমিটারে আফসার উদ্দিন মার্কেট, গাজী মঞ্জিলসহ অর্ধশত ভবন নির্মিত হয়েছে শ্রীমন্ত নদীর তীর দখল করে। আর এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে সহায়তা করেছেন সাবেক মেয়র লোকমানসহ পৌর কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়াও ২০২২ সালে মেয়রসহ পৌর কর্তৃপক্ষ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সেতুর নিচে হকার মার্কেট নির্মাণ করেছে নদী দখল করে। ওই হকার মার্কেটের অধিকাংশ দোকান এখনো আওয়ামী লীগ নেতাদের দখলে।
স্থানীয়রা জানান, শ্রীমন্ত নদী দখলদারের দলে আছেন স্থানীয় শীর্ষ জনপ্রতিনিধি সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া থেকে শুরু করে প্রভাবশালী অনেক আওয়ামী লীগ নেতা। ভাঙন ঠেকানোর অজুহাত তুলে ব্লক ফেলে সৌন্দর্য বর্ধনসহ নানা ফন্দিতে নদী দখল করা হয়েছে, পাশাপাশি বিভিন্ন সময় কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করেছেন সাবেক পৌর মেয়র ও পৌর কর্তৃপক্ষ। বাকেরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী হাসনাইন আহমেদ বলেন, শ্রীমন্ত নদী তাদের আওতাধীন নয়।
তারপরও নদীর পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য এর আগে একটি প্রকল্পর আওতায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৪৮ মিটার নদীর অংশ খনন করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি নতুন কোনো পরিকল্পনার মাধ্যমে শ্রীমন্ত নদী পূর্ণ খননের। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্রীমন্ত নদীতে পৌর কর্তৃপক্ষ মার্কেট ও সেতু নির্মাণ করেছে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সরেজমিনে পরিদর্শন করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
বাকেরগঞ্জ পৌর প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জমির ওপর পৌর কর্তৃপক্ষ মার্কেট ও সেতু নির্মাণ করতে পারে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি যারা নদীর তীর অবৈধভাবে দখল করেছে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

দুমকিতে বসন্তের শুরুতে শিমুল ফুলে রাঙ্গিয়ে তুলছে প্রকৃতি

বরিশালের বাকেরগঞ্জের শ্রীমন্ত নদী এখন মরা খাল উন্নয়নের নামে নদী দখল

প্রকাশিত : ০৮:৫৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা শ্রীমন্ত নদীর এখন অস্তিত্ব পাওয়া কঠিন। বিলীন হওয়া শ্রীমন্ত নদীর দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা আর ঘরবাড়ির স্যুয়ারেজ লাইন মিলে এটি রীতিমতো একটি নালায় পরিণত হয়েছে। ২০-২৫ বছর আগেও নদীটি ছিল এ অঞ্চলের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। এখন পলি জমে নাব্য সংকটের কারণে বছরের অধিকাংশ সময় নদীটিতে থাকে হাঁটু সমান পানি। খনন না করায় নদীটি এখন বালুচরে রূপ নিয়েছে।
এতে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছে কৃষকেরা। নদীর পানি সেচকাজে ব্যবহার করতে না পারায় ফসল উৎপাদনে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে স্থানীয় চাষিদের। উন্নয়নের নামে বিভিন্ন সময়ে বলি হয়েছে নদীটি। শ্রীমন্ত নদীর দু’পাড়ে অবাধে অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে নদী দখল করে। এলাকাবাসী এটিকে এখন মরা খালই ধরে নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তুলাতলা নদী থেকে শুরু হয়ে উপজেলা শহরের মধ্য দিয়ে শ্রীমন্ত নদীটির সংযোগ হয়েছে পায়রা নদীর সঙ্গে। ২২ কিলোমিটার নদীটির পৌর শহরের তিন কিলোমিটার অংশ পাড় দখল হয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন চলছে মাঝখানের অংশ দখলের প্রতিযোগিতা। নদীর মাঝখানে পৌর কর্তৃপক্ষ দুটি সেতু নির্মাণ করেছে। কোনোপ্রকার অনুমোদন ছাড়া অবৈধ এই সেতু অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করায় শ্রীমন্ত নদীপথে নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পৌর এলাকার হাট- বাজারসহ নদীর দুই তীরের আবাসিক এলাকার বর্জ্য প্রতিনিয়ত শ্রীমন্ত নদীতেই ফেলছেন স্থানীয়রা। যে কারণে নদীর বিভিন্ন স্থান এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। যে কারণে নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। এই বিষয়ে যেন কোনো গুরুত্বই নেই পৌর কর্তৃপক্ষের।
ম্যাপ অনুযায়ী শ্রীমন্ত নদীর প্রশস্ততা স্থানভেদে সর্বনি¤œ ১৫০ থেকে ৬০০ ফুট পর্যন্ত। দুই যুগ আগেও এই প্রশস্ততা বহাল ছিল। তখন বাতাসে ঢেউয়ের শব্দ ভেসে বেড়াত। বাহারী পানসি, লঞ্চ, ট্রলার, নৌকা ছুটত নদীর বুক চিড়ে। এ অঞ্চলে বড় বন্দর ও হাট-বাজার নলছিটির মোল্লারহাট, মীর্জাগঞ্জের সুবিদখালী, চান্দুখালী এবং বেতাগী ও পাথরঘাটা উপজেলার পণ্যবাহী নৌযানের প্রধান রুট ছিল শ্রীমন্ত নদী। এসব এখন শুধুই স্মৃতি। দখলের কবলে পড়ে শ্রীমন্ত নদীর উত্তাল ঢেউ আর স্রোত হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। এখন আর নদী আগের অবস্থায় উদ্ধার নয়, দখলদারের কবল থেকে বর্তমান খালটি বাঁচিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বাকেরগঞ্জবাসী।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নদীর তালিকায় এখনো বাকেরগঞ্জের ‘শ্রীমন্ত নদী’ নামটি রয়েছে। দু’পাশের তীর দখল ও দূষণে ‘শ্রীমন্ত’ নদীর ‘শ্রী’ হারিয়েছে বহু বছর আগে। এখন সেটি অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রভাবশালী সবাই আছেন দখলদারের তালিকায়। মাত্র দুই দশক সময়ের মধ্যে শ্রীমন্ত নদীর এমন মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌর শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর দু’পাশে ১, ২, ৩ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জনপথ। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তুলাতলী নদীতে উৎসমুখ থেকেই দখল শুরু। এই ওয়ার্ডের মরহুম আবদুর রশিদ পৌর কাউন্সিলর থাকাকালীন শ্রীমন্ত নদীর উৎসমুখ দখল করে ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এরপরে সামনের দিকে যতই অগ্রসর হয়েছে দখলে সরু হয়ে মৃত খালে পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির আওতায় একটি প্রকল্পে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৪৮ মিটার নদী খনন করেন সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া।
যেখানে নদী খননের নামে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎসহ নদীর দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেন। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানা ভবন নির্মাণেও ওই সময় নদী তীরের জমি অনেকেই দখল করেছে সাবেক পৌর মেয়রকে ম্যানেজ করার মাধ্যমে। শ্রীমন্ত নদীর উত্তরপাশে নদীর তীরে একাধিক ভবন মালিককে নদীর তীর দখলে দিয়ে সাবেক মেয়র ও পৌর কর্তৃপক্ষ হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এখন পৌর শহরে তিন কিলোমিটার শ্রীমন্ত নদীর তীর পুরোটা দখলদারদের কবলে।
বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে দেখা গেছে, নদীর দুই তীর ভরাট করে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় পাকা-আধাপাকা অসংখ্য ভবন। সেতুর পশ্চিমে আল আমিন মসজিদ থেকে শুরু হয়ে পূর্বে থানা ভবন পর্যন্ত এক কিলেমিটারে আফসার উদ্দিন মার্কেট, গাজী মঞ্জিলসহ অর্ধশত ভবন নির্মিত হয়েছে শ্রীমন্ত নদীর তীর দখল করে। আর এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে সহায়তা করেছেন সাবেক মেয়র লোকমানসহ পৌর কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়াও ২০২২ সালে মেয়রসহ পৌর কর্তৃপক্ষ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সেতুর নিচে হকার মার্কেট নির্মাণ করেছে নদী দখল করে। ওই হকার মার্কেটের অধিকাংশ দোকান এখনো আওয়ামী লীগ নেতাদের দখলে।
স্থানীয়রা জানান, শ্রীমন্ত নদী দখলদারের দলে আছেন স্থানীয় শীর্ষ জনপ্রতিনিধি সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া থেকে শুরু করে প্রভাবশালী অনেক আওয়ামী লীগ নেতা। ভাঙন ঠেকানোর অজুহাত তুলে ব্লক ফেলে সৌন্দর্য বর্ধনসহ নানা ফন্দিতে নদী দখল করা হয়েছে, পাশাপাশি বিভিন্ন সময় কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করেছেন সাবেক পৌর মেয়র ও পৌর কর্তৃপক্ষ। বাকেরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী হাসনাইন আহমেদ বলেন, শ্রীমন্ত নদী তাদের আওতাধীন নয়।
তারপরও নদীর পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য এর আগে একটি প্রকল্পর আওতায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৪৮ মিটার নদীর অংশ খনন করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি নতুন কোনো পরিকল্পনার মাধ্যমে শ্রীমন্ত নদী পূর্ণ খননের। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্রীমন্ত নদীতে পৌর কর্তৃপক্ষ মার্কেট ও সেতু নির্মাণ করেছে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সরেজমিনে পরিদর্শন করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
বাকেরগঞ্জ পৌর প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জমির ওপর পৌর কর্তৃপক্ষ মার্কেট ও সেতু নির্মাণ করতে পারে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি যারা নদীর তীর অবৈধভাবে দখল করেছে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে।