ঢাকা ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

পাঞ্জিবাড়ি কমলগঞ্জে পাখিদের বাড়িতে পরিনত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১০:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম জফলারপার (পাঞ্জিবাড়ি)। প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় ঘেরা এই গ্রামটি এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘পাখিদের গ্রাম’ নামে। গ্রামের মানুষের আন্তরিকতায় এখানে নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি।
তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, গ্রামের প্রায় ১০ বিঘা কৃষিজমির পাশে একটি বড় বাঁশঝাড় ও আশপাশের উঁচু গাছে গাছে পাখির অসংখ্য বাসস্থান। লম্বা পা ও ঠোঁটের ধূসর বর্ণের বড় আকারের শামুকখোল পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে এখানে বাসা বেঁধে প্রজনন করছে। তাদের ডানা ঝাপটানি আর কিচিরমিচির শব্দে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
ভোর হলেই বাঁশঝাড়জুড়ে শুরু হয় পাখিদের কোলাহল। দলবদ্ধভাবে আকাশে উড়ে বেড়ানো, ডালে ডালে বসে থাকা আর নির্ভয়ে বিচরণ—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা গ্রামটিতে ভিড় করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শীতপ্রধান দেশ সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে খাদ্যের সন্ধানে এসব পরিযায়ী পাখি এখানে আসে। আগে শীতকালে দেখা মিললেও এখন প্রায় সারা বছরই তাদের উপস্থিতি রয়েছে। প্রায় এক যুগ ধরে পাখিগুলো এখানে অবস্থান করছে এবং ধীরে ধীরে স্থায়ী আবাস গড়ে তুলেছে।
গ্রামবাসীরা জানান, এখানে বক, সারস, বুনো হাঁস, বালি হাঁস, পানকৌড়ি, হড়িয়াল ও হাড়গিলা প্রজাতির পাখি দেখা যায়। তবে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি শামুকখোল ও হাড়গিলা। বাঁশঝাড় ও আশপাশের গাছের ডালে ডালে তৈরি হয়েছে অসংখ্য বাসা; অনেক বাসায় রয়েছে ডিম ও সদ্য ফুটে ওঠা বাচ্চা।
প্রতিদিন সকালে পাখিগুলো আশপাশের বিল, জলাশয় ও পুকুরে খাবারের সন্ধানে যায়। শামুক ও বিভিন্ন পোকামাকড় তাদের প্রধান খাদ্য। বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে আবার তারা ফিরে আসে নিজেদের বাসায়। এ সময় অন্য পাখিরা ডিম ও বাচ্চা পাহারা দেয়।
স্থানীয়রা জানান, পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে বিরক্ত না হয়ে বরং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছেন গ্রামের মানুষ। কেউ যাতে পাখি শিকার করতে না পারে, সে জন্য তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।
উপজেলার মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান বলেন, আগে শীতের শুরুতে পাখিগুলো আসত এবং গরমের শুরুতে চলে যেত। কিন্তু এলাকাবাসী তাদের বিরক্ত না করায় প্রায় এক যুগ ধরে পাখিগুলো এখানেই বাসস্থান তৈরি করে বসবাস করে যাচ্ছে। এখন তারা গাছে বাসা বেঁধে ডিম পাড়ছে এবং বাচ্চা ফোটাচ্ছে।
দর্শনার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, দেশের অনেক দেশীয় পাখি বিলুপ্তির পথে। এখানে এত পাখির সমাবেশ দেখে ভালো লাগছে। প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য সত্যিই বিরল।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু হাসনাথ স্বপন বলেন, পাখিগুলো দেখতে অনেকটা ঘরে পালা হাঁসের মতো। সারাদিন তাদের ওড়াউড়ি আর ডাক শুনে মন ভরে যায়। তবে মাঝে মাঝে রাতে কেউ বাচ্চাসহ পাখি চুরি করে নিয়ে যায়। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ালে এখানে পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলা সম্ভব।
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সরোয়ার বলেন, স্থানীয়দের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সেখানে সভা-সেমিনার আয়োজন ও বিলবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখিগুলোর নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। কেউ পাখি শিকার করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঞ্জিবাড়ি কমলগঞ্জে পাখিদের বাড়িতে পরিনত

প্রকাশিত : ১০:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম জফলারপার (পাঞ্জিবাড়ি)। প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় ঘেরা এই গ্রামটি এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘পাখিদের গ্রাম’ নামে। গ্রামের মানুষের আন্তরিকতায় এখানে নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি।
তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, গ্রামের প্রায় ১০ বিঘা কৃষিজমির পাশে একটি বড় বাঁশঝাড় ও আশপাশের উঁচু গাছে গাছে পাখির অসংখ্য বাসস্থান। লম্বা পা ও ঠোঁটের ধূসর বর্ণের বড় আকারের শামুকখোল পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে এখানে বাসা বেঁধে প্রজনন করছে। তাদের ডানা ঝাপটানি আর কিচিরমিচির শব্দে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
ভোর হলেই বাঁশঝাড়জুড়ে শুরু হয় পাখিদের কোলাহল। দলবদ্ধভাবে আকাশে উড়ে বেড়ানো, ডালে ডালে বসে থাকা আর নির্ভয়ে বিচরণ—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা গ্রামটিতে ভিড় করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শীতপ্রধান দেশ সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে খাদ্যের সন্ধানে এসব পরিযায়ী পাখি এখানে আসে। আগে শীতকালে দেখা মিললেও এখন প্রায় সারা বছরই তাদের উপস্থিতি রয়েছে। প্রায় এক যুগ ধরে পাখিগুলো এখানে অবস্থান করছে এবং ধীরে ধীরে স্থায়ী আবাস গড়ে তুলেছে।
গ্রামবাসীরা জানান, এখানে বক, সারস, বুনো হাঁস, বালি হাঁস, পানকৌড়ি, হড়িয়াল ও হাড়গিলা প্রজাতির পাখি দেখা যায়। তবে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি শামুকখোল ও হাড়গিলা। বাঁশঝাড় ও আশপাশের গাছের ডালে ডালে তৈরি হয়েছে অসংখ্য বাসা; অনেক বাসায় রয়েছে ডিম ও সদ্য ফুটে ওঠা বাচ্চা।
প্রতিদিন সকালে পাখিগুলো আশপাশের বিল, জলাশয় ও পুকুরে খাবারের সন্ধানে যায়। শামুক ও বিভিন্ন পোকামাকড় তাদের প্রধান খাদ্য। বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে আবার তারা ফিরে আসে নিজেদের বাসায়। এ সময় অন্য পাখিরা ডিম ও বাচ্চা পাহারা দেয়।
স্থানীয়রা জানান, পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে বিরক্ত না হয়ে বরং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছেন গ্রামের মানুষ। কেউ যাতে পাখি শিকার করতে না পারে, সে জন্য তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।
উপজেলার মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান বলেন, আগে শীতের শুরুতে পাখিগুলো আসত এবং গরমের শুরুতে চলে যেত। কিন্তু এলাকাবাসী তাদের বিরক্ত না করায় প্রায় এক যুগ ধরে পাখিগুলো এখানেই বাসস্থান তৈরি করে বসবাস করে যাচ্ছে। এখন তারা গাছে বাসা বেঁধে ডিম পাড়ছে এবং বাচ্চা ফোটাচ্ছে।
দর্শনার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, দেশের অনেক দেশীয় পাখি বিলুপ্তির পথে। এখানে এত পাখির সমাবেশ দেখে ভালো লাগছে। প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য সত্যিই বিরল।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু হাসনাথ স্বপন বলেন, পাখিগুলো দেখতে অনেকটা ঘরে পালা হাঁসের মতো। সারাদিন তাদের ওড়াউড়ি আর ডাক শুনে মন ভরে যায়। তবে মাঝে মাঝে রাতে কেউ বাচ্চাসহ পাখি চুরি করে নিয়ে যায়। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ালে এখানে পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলা সম্ভব।
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সরোয়ার বলেন, স্থানীয়দের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সেখানে সভা-সেমিনার আয়োজন ও বিলবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখিগুলোর নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। কেউ পাখি শিকার করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।