ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক, হামলা চালিয়ে লুটপাট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১১:২০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

বরিশাল প্রতিনিধি: বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়কার আধিপত্য প্রদর্শন করতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে তার সহযোগিরা প্রতিপক্ষের বাড়িতে অসংখ্য হাতবোমার বিস্ফোরন ঘটিয়ে হামলা চালিয়ে তিনটি বসত ঘর ভাঙচুর করে লুটপাট ও কুপিয়ে নারীসহ ১০জনকে গুরুত্বর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামের ছালাম মুন্সীর বাড়িতে শনিবার বেলা এগারোটার দিকে।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত এক আসামিকে আটক করে থানায় নেয়ার সময় ট্রলার থেকে হ্যান্ডকাপসহ ওই আসামিকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে।

রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ হাতকড়া উদ্ধারসহ আসামিদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্র ও আহতরা জানিয়েছেন, মৃধারহাট-ভেদুরিয়া খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরধরে আধিপত্য বিস্তার করতে ভেদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসী মজনু খানের ভাতিজা ও চরকালেখান ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলো খান এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা বাচ্চু খানের নেতৃত্বে তাদের শতাধিক সহযোগিরা হাতবোমা, রামদা, লেজা, লাঠিসোঁটা নিয়ে ভেদুরিয়া গ্রামের সালাম মুন্সীর বাড়িতে হামলা চালায়।

 

আহত সালাম মুন্সীর ছেলে রাজিব মুন্সী অভিযোগ করে বলেন, অসংখ্য অপকর্মের হোতা আলো খান, বাচ্চু খান, আলমগীর হাওলাদার, বাদল খান, বাবু

ল খান, মোস্তফা খানের নেতৃত্বে তাদের শতাধিক সহযোগিরা সশস্ত্র অবস্থায় বাড়িতে হামলা চালিয়ে তিনটি বসত ঘর ভাঙচুর করে ব্যাপক লুটপাট করে।

হামলাকারীরা বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করেই ২৫-৩০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে তারা ঘরে ঢুকে সালাম মুন্সী, সজল মুন্সী, কালু মুন্সী, কালাম মুন্সী, জহির মুন্সী, রাশিদা বেগম, ফাতেমা বেগম, মীম আক্তার ও সুমাইয়া আক্তারকে এলোপাথারি পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এরমধ্যে চারজনকে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ও অন্যান্যদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী বলেন, হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাতকড়াসহ আসামি এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুত্বর আহত বিএনপি কর্মী আব্দুস সালাম মুন্সীর ছেলে সজল মুন্সী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী যুবলীগের ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলো খান মৃধারহাট-ভেদুরিয়া খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে তার সহযোগিদের মাধ্যমে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছিলো।

এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় প্রায়ই তাদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর আলো খান দীর্ঘদিন থেকে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করে। এরইমধ্যে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চলতি বছর ওই খেয়াঘাটের ইজারা পেয়েছেন তাদের স্বজন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক নুরুল ইসলাম খান।

সালাম মুন্সী আরও বলেন, অতিসম্প্রতি নিষিদ্ধ সংগঠনের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা একই ওয়ার্ডের ষোলঘর গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা বাচ্চু খানকে ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরে আসে। এরমধ্যে নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা আলো খান চলতি বছর খেয়াঘাটের ইজারা না পেয়ে নুরুল ইসলামসহ আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলো।

তার হুমকির প্রতিবাদ করায় আলো খান ও বাচ্চু খানের নেতৃত্বে তাদের সহযোগি আলমগীর হাওলাদার, মস্তফা খান, বাবুল খান, বাদল খানসহ তাদের সহযোগিরা সশস্ত্র অবস্থায় আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আলো খান র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসী মজনু খানের ভাতিজা। তার (আলো খান) বিরুদ্ধে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে আলো খান একই এলাকার বিএনপি নেতা বাচ্চু খানের সহযোগিতায় পূর্বের ন্যায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু করেছে বলে এলাকায় বিস্তার অভিযোগ রয়েছে।


স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বাচ্চু খান, আলমগীর হাওলাদার, মোস্তফা খান, আলো খান ভেদুরিয়া তথা চরকালেখান ইউনিয়নের আতঙ্ক। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, চুরি ডাকাতির বিস্তার অভিযোগ রয়েছে।

এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিত্বে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

হামলার ব্যাপারে জানতে চরকালেখান ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলো খানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বাচ্চু খান হামলার সাথে নিজেকে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, আমার মাধ্যমে কোন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এলাকায় ফিরে আসেনি। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার করছে।

হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক, হামলা চালিয়ে লুটপাট

প্রকাশিত : ১১:২০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

বরিশাল প্রতিনিধি: বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়কার আধিপত্য প্রদর্শন করতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে তার সহযোগিরা প্রতিপক্ষের বাড়িতে অসংখ্য হাতবোমার বিস্ফোরন ঘটিয়ে হামলা চালিয়ে তিনটি বসত ঘর ভাঙচুর করে লুটপাট ও কুপিয়ে নারীসহ ১০জনকে গুরুত্বর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামের ছালাম মুন্সীর বাড়িতে শনিবার বেলা এগারোটার দিকে।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত এক আসামিকে আটক করে থানায় নেয়ার সময় ট্রলার থেকে হ্যান্ডকাপসহ ওই আসামিকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে।

রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ হাতকড়া উদ্ধারসহ আসামিদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্র ও আহতরা জানিয়েছেন, মৃধারহাট-ভেদুরিয়া খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরধরে আধিপত্য বিস্তার করতে ভেদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসী মজনু খানের ভাতিজা ও চরকালেখান ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলো খান এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা বাচ্চু খানের নেতৃত্বে তাদের শতাধিক সহযোগিরা হাতবোমা, রামদা, লেজা, লাঠিসোঁটা নিয়ে ভেদুরিয়া গ্রামের সালাম মুন্সীর বাড়িতে হামলা চালায়।

 

আহত সালাম মুন্সীর ছেলে রাজিব মুন্সী অভিযোগ করে বলেন, অসংখ্য অপকর্মের হোতা আলো খান, বাচ্চু খান, আলমগীর হাওলাদার, বাদল খান, বাবু

ল খান, মোস্তফা খানের নেতৃত্বে তাদের শতাধিক সহযোগিরা সশস্ত্র অবস্থায় বাড়িতে হামলা চালিয়ে তিনটি বসত ঘর ভাঙচুর করে ব্যাপক লুটপাট করে।

হামলাকারীরা বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করেই ২৫-৩০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে তারা ঘরে ঢুকে সালাম মুন্সী, সজল মুন্সী, কালু মুন্সী, কালাম মুন্সী, জহির মুন্সী, রাশিদা বেগম, ফাতেমা বেগম, মীম আক্তার ও সুমাইয়া আক্তারকে এলোপাথারি পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এরমধ্যে চারজনকে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ও অন্যান্যদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী বলেন, হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাতকড়াসহ আসামি এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুত্বর আহত বিএনপি কর্মী আব্দুস সালাম মুন্সীর ছেলে সজল মুন্সী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী যুবলীগের ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলো খান মৃধারহাট-ভেদুরিয়া খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে তার সহযোগিদের মাধ্যমে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছিলো।

এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় প্রায়ই তাদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর আলো খান দীর্ঘদিন থেকে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করে। এরইমধ্যে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চলতি বছর ওই খেয়াঘাটের ইজারা পেয়েছেন তাদের স্বজন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক নুরুল ইসলাম খান।

সালাম মুন্সী আরও বলেন, অতিসম্প্রতি নিষিদ্ধ সংগঠনের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা একই ওয়ার্ডের ষোলঘর গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা বাচ্চু খানকে ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরে আসে। এরমধ্যে নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা আলো খান চলতি বছর খেয়াঘাটের ইজারা না পেয়ে নুরুল ইসলামসহ আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলো।

তার হুমকির প্রতিবাদ করায় আলো খান ও বাচ্চু খানের নেতৃত্বে তাদের সহযোগি আলমগীর হাওলাদার, মস্তফা খান, বাবুল খান, বাদল খানসহ তাদের সহযোগিরা সশস্ত্র অবস্থায় আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আলো খান র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসী মজনু খানের ভাতিজা। তার (আলো খান) বিরুদ্ধে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে আলো খান একই এলাকার বিএনপি নেতা বাচ্চু খানের সহযোগিতায় পূর্বের ন্যায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু করেছে বলে এলাকায় বিস্তার অভিযোগ রয়েছে।


স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বাচ্চু খান, আলমগীর হাওলাদার, মোস্তফা খান, আলো খান ভেদুরিয়া তথা চরকালেখান ইউনিয়নের আতঙ্ক। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, চুরি ডাকাতির বিস্তার অভিযোগ রয়েছে।

এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিত্বে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

হামলার ব্যাপারে জানতে চরকালেখান ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলো খানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বাচ্চু খান হামলার সাথে নিজেকে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, আমার মাধ্যমে কোন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এলাকায় ফিরে আসেনি। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার করছে।