পটুয়াখালী প্রতিনিধি: ধান কাটার পর উপকূলীয় অঞ্চলের অধিকাংশ জমি দীর্ঘদিন পতিত পড়ে থাকে। সেই পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে বিনা চাষে রসুনসহ বিভিন্ন রবিশস্য আবাদ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পটুয়াখালীর এক শিক্ষার্থী কৃষক। কম খরচে অধিক লাভের এই পদ্ধতি দেখে স্থানীয় অনেক কৃষকই এখন একই ধরনের চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
রোববার পটুয়াখালী সদর ও কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের এসব পরীক্ষামূলক রবিশস্য ক্ষেত পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান। মাঠ পরিদর্শন শেষে তিনি কৃষকদের সফলতার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, ধান কাটার পর উপকূলীয় জেলাগুলোতে সাধারণত মুগডাল ও তরমুজ ছাড়া অধিকাংশ জমিই পতিত পড়ে থাকে। এসব পতিত জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিনা চাষে রসুনসহ বিভিন্ন রবিশস্য আবাদ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। এতে কম খরচে এবং কম সময়েই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব জৈনকাঠী ইউনিয়নের কৃষক আবু রায়হান এই পদ্ধতিতে সফলতা পেয়েছেন। প্রায় ১ হেক্টর জমিতে আমন ধান কাটার পর ভেজা মাটিতেই বিনা চাষে রসুন, মিষ্টিকুমড়া ও অন্যান্য রবি ফসল আবাদ করেছেন তিনি।
আবু রায়হান এহসাক মডেল ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী । রায়হান বলেন, “আমার বাবা ছিলেন একজন কৃষক। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে ছোট। বোনের বিয়ে হয়েছে। দুই বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি আমাকে কৃষিকাজে যুক্ত হতে হয়। জেলা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরামর্শে আমন ধান কাটার পর ভেজা মাটিতেই রসুনের বীজ ছিটিয়ে আবাদ শুরু করি। প্রথমে নিজের দুই বিঘা জমিতে বিনা চাষে রসুন চাষ করি।”
তিনি আরও জানান, রসুন চাষে তার প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ মণ রসুন উৎপাদনের আশা করছেন, যা বিক্রি করে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি আড়াই বিঘা জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছেন তিনি। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রি হয়েছে এবং ক্ষেতে আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকার কুমড়া রয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, উপকূলীয় পটুয়াখালী জেলায় বিনা চাষে রসুন, মিষ্টিকুমড়া, আলু, সূর্যমুখী ও কাউনসহ বিভিন্ন রবি ফসল চাষে কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
মাঠ পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার কারণে অনেক জমি পতিত পড়ে থাকে। আমরা চাই এসব পতিত জমিতে লবণ সহিষ্ণু বিভিন্ন জাতের ফসল চাষ করে কৃষকরা লাভবান হোক। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা যদি এগিয়ে আসে, তাহলে দেশের খাদ্য উৎপাদনও বাড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের প্রযুক্তি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন প্রযুক্তি ও জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে উপকূলীয় কৃষিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।”
স্থানীয় কৃষকরাও বলছেন, বিনা চাষে ফসল উৎপাদনের এই পদ্ধতি সফল হলে পতিত জমির ব্যবহার বাড়বে এবং কৃষকের উৎপাদন খরচও কমে আসবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























