ঝংনানহাইয়ের সেই প্রাচীন রাজকীয় উদ্যানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন কিছু গাছ দেখিয়ে মুগ্ধ করার চেষ্টা করলেন, যেগুলো খোদ আমেরিকার ইতিহাসের চেয়েও বয়সে অনেক পুরোনো।
কমিউনিস্ট পার্টির সদরদপ্তর হিসেবে পরিচিত ওই সংরক্ষিত এলাকায় শুক্রবার কেবল নিজেদের দোভাষীদের নিয়ে পায়চারি করার সময় একটি গাছের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্পকে শি জিনপিং বলেন, ‘‘ওই পাশের মোটা গাছটির বয়স ৪০০ বছর।’’
দুই হাত নেড়ে বেশ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে শি বলেন, ‘‘দেখুন, এর মধ্যে কী অদম্য প্রাণশক্তি আর ইতিহাস জড়িয়ে আছে!’’

এই কথোপকথন মূলত বিশেষ একটি বার্তারই বহিঃপ্রকাশ ছিল; যা ট্রাম্পের পুরো সফরজুড়ে তাকে দিতে চেয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট। সেই বার্তাটি হলো, উভয় নেতা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন এবং দুই দেশকে সংঘাতের পথ থেকে দূরে রাখার দায়িত্ব তাদেরই।
এর আগের দিন ‘টেম্পল অব হেভেনে’ আশা প্রকাশ করে শি জিনপিং বলেছিলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র যেন ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ (উদীয়মান শক্তির সঙ্গে বিদ্যমান শক্তির সংঘাত অনিবার্য) এড়াতে পারে।
ঝংনানহাইয়ের সেই উদ্যানের বৃক্ষছায়ায় শি জিনপিংয়ের এই কথায় বেশ মজা পান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘বাহ, এগুলো এত বছর বেঁচে থাকতে পারে!’’ এরপর তিনি জানতে চাইলেন শি আর কতজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে এই উদ্যানে নিয়ে এসেছেন। এই প্রশ্নের মাধ্যমে বোঝাই যাচ্ছিল ট্রাম্প যাচাই করতে চাইছিলেন, তিনি কতটা বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছেন।
চীনা নেতা উত্তর দেন, ‘‘খুব কম।’’শি হয়তো জানতেন না যে ট্রাম্প গাছপালার ব্যাপারে খুব একটা আবেগপ্রবণ নন। গত বছরই হোয়াইট হাউসের মাঠে তার পরিকল্পিত বিশাল বলরুম তৈরির জায়গা করতে সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট ওয়ারেন হার্ডিং এবং ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের স্মৃতিবিজড়িত কয়েক দশকের পুরোনো ম্যাগনোলিয়া গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছিল।
এই ঘটনাটি দুই নেতার মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বেরই প্রতিফলন। শি যখন ইতিহাস এবং পরাশক্তির দায়বদ্ধতার কথা ভাবছিলেন, ট্রাম্প তখন সেই মুহূর্ত থেকে নিজের জন্য তাৎক্ষণিক কী অর্জন করা যায় তা দিয়েই সবকিছু পরিমাপ করছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















