ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

কৃত্রিম পদ্ধতিতে পাকানো হচ্ছে কলা, জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১১:১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈর সদর বাজার, চন্দ্রা, মৌচাক ও সফিপুর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ কাঁচা কলা কৃত্রিম উপায়ে পাকিয়ে বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে।

অধিক লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ফরমালিন ও ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে কলা পাকাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

শনিবার (১৬ মে) সকালে সরেজমিনে কালিয়াকৈর সদর বাজারের ‘শাহ এনায়েতপুরী (রহঃ) কলা আড়ত’সহ চন্দ্রা, মৌচাক ও সফিপুর বাজারসংলগ্ন কয়েকটি আড়তে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরের ভেতরে মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কাঁচা কলা। অধিকাংশ কলার বোটা সবুজ থাকলেও বাইরের অংশ অস্বাভাবিকভাবে হলুদ দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে গোপনে রাসায়নিক ব্যবহার করে দ্রুত কলা পাকিয়ে ভোরে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

কালিয়াকৈর বাজারের আব্দুল করিম জানান, “প্রতিদিন ট্রাকভর্তি কাঁচা কলা এসব আড়তে আসে। পরে রাতের আঁধারে কার্বাইড,  বিভিন্ন রাসায়নিক স্প্রে করে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলা পাকিয়ে বাজারে সরবরাহ করা হয়। অথচ প্রাকৃতিকভাবে কলা পাকতে সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগে।”

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা স্কুল শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, “বাচ্চাদের জন্য কলা কিনতে এখন ভয় লাগে। বাইরে হলুদ কিন্তু বোটা সবুজ। শুনছি ওষুধ দিয়ে পাকানো হয়। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি দরকার।”

গৃহিণী সালমা বেগম বলেন, “গত সপ্তাহে বাজার থেকে কলা কিনে বাসায় নেওয়ার পর দেখি ভেতরে শক্ত ও স্বাদহীন। পরে আমার ছেলের পেটে সমস্যা দেখা দেয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কালিয়াকৈরের কলা ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, সব ব্যবসায়ী কৃত্রিমভাবে কলা পাকায় না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত বাজারজাত করার জন্য অনিয়ম করে থাকতে পারে। আমরা চাই প্রশাসন নিয়মিত বাজার তদারকি করুক, যাতে ভোক্তারা নিরাপদ ফল কিনতে পারেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন বলেন, “ফরমালিন মূলত সংরক্ষণে ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক, যা খাদ্যে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি মানবদেহের লিভার, কিডনি ও ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। অন্যদিকে ক্যালসিয়াম কার্বাইড থেকে উৎপন্ন গ্যাস স্নায়ুতন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। দীর্ঘমেয়াদে এসব রাসায়নিক ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, সংক্রমণসহ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উৎপলা রানী বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। খুব দ্রুত বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে নিরাপদ খাদ্য আইন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, “কলা ও আম ব্যাবসায়ীদের নজরে রাখা হয়েছে , অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। কৃত্রিমভাবে কলাসহ ফল পাকানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।”

এদিকে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না করলে বাজারে বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে ফল পাকানোর প্রবণতা বন্ধ হবে না। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

ম্যানসিটি এফএ কাপ জিতে ট্রেবলের আশা বাঁচিয়ে রাখল

কৃত্রিম পদ্ধতিতে পাকানো হচ্ছে কলা, জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকি

প্রকাশিত : ১১:১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈর সদর বাজার, চন্দ্রা, মৌচাক ও সফিপুর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ কাঁচা কলা কৃত্রিম উপায়ে পাকিয়ে বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে।

অধিক লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ফরমালিন ও ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে কলা পাকাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

শনিবার (১৬ মে) সকালে সরেজমিনে কালিয়াকৈর সদর বাজারের ‘শাহ এনায়েতপুরী (রহঃ) কলা আড়ত’সহ চন্দ্রা, মৌচাক ও সফিপুর বাজারসংলগ্ন কয়েকটি আড়তে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরের ভেতরে মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কাঁচা কলা। অধিকাংশ কলার বোটা সবুজ থাকলেও বাইরের অংশ অস্বাভাবিকভাবে হলুদ দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে গোপনে রাসায়নিক ব্যবহার করে দ্রুত কলা পাকিয়ে ভোরে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

কালিয়াকৈর বাজারের আব্দুল করিম জানান, “প্রতিদিন ট্রাকভর্তি কাঁচা কলা এসব আড়তে আসে। পরে রাতের আঁধারে কার্বাইড,  বিভিন্ন রাসায়নিক স্প্রে করে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলা পাকিয়ে বাজারে সরবরাহ করা হয়। অথচ প্রাকৃতিকভাবে কলা পাকতে সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগে।”

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা স্কুল শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, “বাচ্চাদের জন্য কলা কিনতে এখন ভয় লাগে। বাইরে হলুদ কিন্তু বোটা সবুজ। শুনছি ওষুধ দিয়ে পাকানো হয়। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি দরকার।”

গৃহিণী সালমা বেগম বলেন, “গত সপ্তাহে বাজার থেকে কলা কিনে বাসায় নেওয়ার পর দেখি ভেতরে শক্ত ও স্বাদহীন। পরে আমার ছেলের পেটে সমস্যা দেখা দেয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কালিয়াকৈরের কলা ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, সব ব্যবসায়ী কৃত্রিমভাবে কলা পাকায় না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত বাজারজাত করার জন্য অনিয়ম করে থাকতে পারে। আমরা চাই প্রশাসন নিয়মিত বাজার তদারকি করুক, যাতে ভোক্তারা নিরাপদ ফল কিনতে পারেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন বলেন, “ফরমালিন মূলত সংরক্ষণে ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক, যা খাদ্যে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি মানবদেহের লিভার, কিডনি ও ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। অন্যদিকে ক্যালসিয়াম কার্বাইড থেকে উৎপন্ন গ্যাস স্নায়ুতন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। দীর্ঘমেয়াদে এসব রাসায়নিক ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, সংক্রমণসহ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উৎপলা রানী বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। খুব দ্রুত বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে নিরাপদ খাদ্য আইন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, “কলা ও আম ব্যাবসায়ীদের নজরে রাখা হয়েছে , অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। কৃত্রিমভাবে কলাসহ ফল পাকানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।”

এদিকে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না করলে বাজারে বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে ফল পাকানোর প্রবণতা বন্ধ হবে না। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।