ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

পীরগঞ্জে ক্যানসারের মতো ছড়াচ্ছে মাদক, ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: পুলিশ, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক অভিযানের পরও ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় থামছে না মাদক ব্যবসা। দিন-রাতের আঁধারে পৌর শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের অলিগলি, বাসাবাড়ি, রেললাইন এলাকা, বাস টার্মিনাল, বাঁশঝাড়, কবরস্থান এলাকা, পরিত্যক্ত ভবন, এমনকি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশেও বিক্রি হচ্ছে মাদকদ্রব্য। মোবাইল ফোনভিত্তিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মাদক সরবরাহের নতুন কৌশল নিয়েছে কারবারিরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে মাদকের বেচাকেনা কয়েকগুণ বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় কিশোর সমাজে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে; এলাকায় বাড়ছে ছিনতাই, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

পীরগঞ্জ উপজেলাটি ভারত সীমান্ত ঘেঁষা। এ উপজেলায় বিজিবির ছয়টি ক্যাম্প রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও নানা কৌশলে ভারতীয় মদ, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেট দেশে ঢুকছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে সেনগা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, “আমার ইউনিয়নে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা দুটি বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সহায়তায় প্রায় সময় সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকদ্রব্য আসে। বিজিবি শক্ত অবস্থানে থাকলেও মাদক ব্যবসায়ীদের নিত্যনতুন কৌশলের সঙ্গে পেরে উঠছে না।”
জাবরহাট ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন, “আমার ইউনিয়নেও দুটি বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে। তবে মনে হয় বিজিবির সংখ্যা কম। মাদক ব্যবসায়ীরা ভারতীয় সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন কৌশলে মাদক এ উপজেলায় নিয়ে আসছে।”
অবশ্য বিজিবি জানিয়েছে, দেশের কিছু এলাকায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভারতীয় গরু পাচার রোধের পাশাপাশি মাদক প্রবেশ ঠেকাতেও তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
পীরগঞ্জ পৌর শহর ও গ্রামাঞ্চলে মাদক এখন সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। ফলে যুবক, কিশোর, নারী এমনকি বয়স্কদের একটি অংশও মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকাসক্তদের কারণে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক অবক্ষয় এবং অপরাধপ্রবণতা।

পৌর বিএনপি ও পূর্ব চৌরাস্তা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজা বলেন, “শহরে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। অলিতে-গলিতে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এভাবে চললে কিশোর অপরাধ আরও বেড়ে যাবে।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন, “এই উপজেলায় মাদক ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আমাদের দলের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যদি ভুলেও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে এবং তথ্য আসে, তাৎক্ষণিকভাবে তার পদ স্থগিত করা হবে।”
সূত্রে জানাচ্ছে, মাদক কারবারিরা এখন সরাসরি বিক্রির পরিবর্তে মোবাইল ফোনভিত্তিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। ক্রেতারা ফোনে অবস্থান জানালে বিক্রেতা বা তার সহযোগীরা নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেলেই তারা মাদক ফেলে বা দ্রুত সরিয়ে চম্পট দেয়।
বর্তমানে পীরগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় ‘টাপেন্টাডল’ ট্যাবলেট। চিকিৎসকদের মতে, টাপেন্টাডল মূলত একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ। বাংলাদেশে একসময় এটি বাজারজাত হলেও অপব্যবহারের কারণে সরকার তা নিষিদ্ধ করে। বর্তমানে বেশিরভাগ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট দিনাজপুর জেলার হিলি থেকে বিভিন্ন কৌশলে পীরগঞ্জে ঢুকছে। এটি কিছু ওষুধের দোকানেও পাওয়া যায়। কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় তরুণদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই নেশা।
এক মাদক সেবনকারী জানান, পীরগঞ্জে বর্তমানে প্রতি বোতল ফেনসিডিল ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকায়, প্রতিটি ইয়াবা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, টাপেন্টাডল ট্যাবলেট ১১০ থেকে ১২০ টাকায়, গাঁজার পুরিয়া ৫০ টাকায় এবং চোলাই মদ প্রতি গ্লাস ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অভিযান পরিচালনাকারী দলগুলোর সূত্রে জানা যায়, সোর্সের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেই মূলত অভিযান চালাতে হয়। কিন্তু সোর্স পরিচালনার জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গিয়ে অনেক সময় ঝুঁকির মধ্যেও কাজ করতে হয়।
ঠাকুরগাঁও জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুনর রশিদ বলেন, “জেলা শহর থেকে পীরগঞ্জ উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। সরকারি গাড়ির সংকট থাকায় কোনো সংবাদ পেলেও তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তবে সম্প্রতি উপজেলার মাদকবিরোধী অভিযানে ৪২২ পিস ইয়াবা ও নগদ ৬০ হাজার টাকাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।”
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন প্রামাণিক বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। নির্বাচনের পর থানার অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের রদবদল হয়েছে এবং নতুন সদস্যরা যোগদান করেছেন। জনবল সংকট থাকলেও মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে সরকারি কোনো বিশেষ বরাদ্দ নেই। তারপরও আমরা অভিযান অব্যাহত রাখব। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, “গত ১৫ দিনে সাতটি ভ্রাম্যমাণ আদালতে মামলা হয়েছে। এছাড়া একটি নিয়মিত বড় ধরনের ইয়াবার মামলা দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিষয়ে আমার কাছে কোনো ছাড় নেই।”
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) বেলাল হোসেন বলেন, “আমি বর্তমানে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে ব্যস্ত আছি। তবে মাদক নিয়ে আমাদের পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
সম্প্রতি পীরগঞ্জে স্থানীয় সুধীজন ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক সারা দেশে মাদক পরিস্থিতিকে ভয়াবহ উল্লেখ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাদক এখন ক্যানসারের থার্ড স্টেজে চলে গেছে। তাই পীরগঞ্জের মাদক ব্যবসায়ীদের এখন ‘কেমোথেরাপি’ দিতে হবে।”

দুর্গম পাহাড়ে ৩ বিজিবি-র বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান

পীরগঞ্জে ক্যানসারের মতো ছড়াচ্ছে মাদক, ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন

প্রকাশিত : ০৯:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: পুলিশ, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক অভিযানের পরও ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় থামছে না মাদক ব্যবসা। দিন-রাতের আঁধারে পৌর শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের অলিগলি, বাসাবাড়ি, রেললাইন এলাকা, বাস টার্মিনাল, বাঁশঝাড়, কবরস্থান এলাকা, পরিত্যক্ত ভবন, এমনকি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশেও বিক্রি হচ্ছে মাদকদ্রব্য। মোবাইল ফোনভিত্তিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মাদক সরবরাহের নতুন কৌশল নিয়েছে কারবারিরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে মাদকের বেচাকেনা কয়েকগুণ বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় কিশোর সমাজে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে; এলাকায় বাড়ছে ছিনতাই, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

পীরগঞ্জ উপজেলাটি ভারত সীমান্ত ঘেঁষা। এ উপজেলায় বিজিবির ছয়টি ক্যাম্প রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও নানা কৌশলে ভারতীয় মদ, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেট দেশে ঢুকছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে সেনগা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, “আমার ইউনিয়নে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা দুটি বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সহায়তায় প্রায় সময় সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকদ্রব্য আসে। বিজিবি শক্ত অবস্থানে থাকলেও মাদক ব্যবসায়ীদের নিত্যনতুন কৌশলের সঙ্গে পেরে উঠছে না।”
জাবরহাট ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন, “আমার ইউনিয়নেও দুটি বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে। তবে মনে হয় বিজিবির সংখ্যা কম। মাদক ব্যবসায়ীরা ভারতীয় সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন কৌশলে মাদক এ উপজেলায় নিয়ে আসছে।”
অবশ্য বিজিবি জানিয়েছে, দেশের কিছু এলাকায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভারতীয় গরু পাচার রোধের পাশাপাশি মাদক প্রবেশ ঠেকাতেও তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
পীরগঞ্জ পৌর শহর ও গ্রামাঞ্চলে মাদক এখন সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। ফলে যুবক, কিশোর, নারী এমনকি বয়স্কদের একটি অংশও মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকাসক্তদের কারণে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক অবক্ষয় এবং অপরাধপ্রবণতা।

পৌর বিএনপি ও পূর্ব চৌরাস্তা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজা বলেন, “শহরে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। অলিতে-গলিতে মাদক বিক্রি হচ্ছে। এভাবে চললে কিশোর অপরাধ আরও বেড়ে যাবে।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন, “এই উপজেলায় মাদক ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আমাদের দলের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যদি ভুলেও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে এবং তথ্য আসে, তাৎক্ষণিকভাবে তার পদ স্থগিত করা হবে।”
সূত্রে জানাচ্ছে, মাদক কারবারিরা এখন সরাসরি বিক্রির পরিবর্তে মোবাইল ফোনভিত্তিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। ক্রেতারা ফোনে অবস্থান জানালে বিক্রেতা বা তার সহযোগীরা নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেলেই তারা মাদক ফেলে বা দ্রুত সরিয়ে চম্পট দেয়।
বর্তমানে পীরগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় ‘টাপেন্টাডল’ ট্যাবলেট। চিকিৎসকদের মতে, টাপেন্টাডল মূলত একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ। বাংলাদেশে একসময় এটি বাজারজাত হলেও অপব্যবহারের কারণে সরকার তা নিষিদ্ধ করে। বর্তমানে বেশিরভাগ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট দিনাজপুর জেলার হিলি থেকে বিভিন্ন কৌশলে পীরগঞ্জে ঢুকছে। এটি কিছু ওষুধের দোকানেও পাওয়া যায়। কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় তরুণদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই নেশা।
এক মাদক সেবনকারী জানান, পীরগঞ্জে বর্তমানে প্রতি বোতল ফেনসিডিল ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকায়, প্রতিটি ইয়াবা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, টাপেন্টাডল ট্যাবলেট ১১০ থেকে ১২০ টাকায়, গাঁজার পুরিয়া ৫০ টাকায় এবং চোলাই মদ প্রতি গ্লাস ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অভিযান পরিচালনাকারী দলগুলোর সূত্রে জানা যায়, সোর্সের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেই মূলত অভিযান চালাতে হয়। কিন্তু সোর্স পরিচালনার জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গিয়ে অনেক সময় ঝুঁকির মধ্যেও কাজ করতে হয়।
ঠাকুরগাঁও জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুনর রশিদ বলেন, “জেলা শহর থেকে পীরগঞ্জ উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। সরকারি গাড়ির সংকট থাকায় কোনো সংবাদ পেলেও তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তবে সম্প্রতি উপজেলার মাদকবিরোধী অভিযানে ৪২২ পিস ইয়াবা ও নগদ ৬০ হাজার টাকাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।”
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন প্রামাণিক বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। নির্বাচনের পর থানার অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের রদবদল হয়েছে এবং নতুন সদস্যরা যোগদান করেছেন। জনবল সংকট থাকলেও মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে সরকারি কোনো বিশেষ বরাদ্দ নেই। তারপরও আমরা অভিযান অব্যাহত রাখব। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, “গত ১৫ দিনে সাতটি ভ্রাম্যমাণ আদালতে মামলা হয়েছে। এছাড়া একটি নিয়মিত বড় ধরনের ইয়াবার মামলা দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিষয়ে আমার কাছে কোনো ছাড় নেই।”
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) বেলাল হোসেন বলেন, “আমি বর্তমানে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে ব্যস্ত আছি। তবে মাদক নিয়ে আমাদের পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
সম্প্রতি পীরগঞ্জে স্থানীয় সুধীজন ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক সারা দেশে মাদক পরিস্থিতিকে ভয়াবহ উল্লেখ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাদক এখন ক্যানসারের থার্ড স্টেজে চলে গেছে। তাই পীরগঞ্জের মাদক ব্যবসায়ীদের এখন ‘কেমোথেরাপি’ দিতে হবে।”