মেহেদী হাসান শান্ত, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার সংলগ্ন হযরত সুমাইয়া (রা:) মহিলা মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া ছাত্রী নূরতারার সন্ধান পেয়েছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।
(৬ জুলাই) সোমবার রাত ১টায় যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ নূরতারার পরিবারকে তার সন্ধানের বিষয়টি জানায়। (৭ জুলাই) মঙ্গলবার তার স্বজনরা ঢাকা থেকে তাকে পটুয়াখালীর দুমকিতে নিয়ে আসেন। দীর্ঘ ২২ দিন পরে নূর তারার সন্ধান মেলায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
‘বাংলা কাগজ’ এর অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদ্রাসায় নূরতারাকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের কাজ করানো হতো। কাজে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো। এমনকি খাবার খেতে না দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে সহপাঠীদের সহযোগিতায় মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান তিনি।
পালিয়ে ঢাকায় গিয়ে ধোলাইপাড় এলাকায় রাস্তায় কাঁদতে দেখে এক রিকশা চালকের মায়া হয়। পরে ওই রিকশা চালক নূরতারাকে তার বাসায় নিয়ে আশ্রয় দেন। সেখানে নূরতারা প্রাথমিকভাবে নিজের পরিচয় গোপন করে। এক পর্যায়ে বাড়ি ফিরতে চাইলে সে আসল পরিচয় দেয়। তখন রিকশা চালক ও তার স্ত্রী তাকে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে যান। সেখান থেকে পুলিশ পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে।

নূরতারার বাবা বাদল ফরাজী বলেন, “আমি মেয়েকে পড়াশোনার জন্য মাদ্রাসায় দিয়েছি। কিন্তু তারা মেয়েকে দিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করিয়েছে এবং অত্যাচার করেছে। যেদিন পালিয়েছে সেদিন মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি আহমাদুল্লাহ সোহাগ এর স্ত্রী ও মাদ্রাসার শিক্ষক নূরতারার গলা চেপে ধরেন এবং হত্যার হুমকি দেন। মৃত্যুর ভয়েই মেয়ে মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছে।”
ঢাকায় আশ্রয় দেয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিকশা চালকের স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামী মেয়েটিকে রাস্তায় কাঁদতে দেখে বাসায় নিয়ে আসে। পরিচয় জানতে চাইলে নূরতারা সঠিক পরিচয় দেয়নি।” নূরতারার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নূরতারার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এবং মুখেও আঘাতের চিহ্ন দেখেছি।”
এ ব্যাপারে মাদ্রাসা পরিচালক মুফতি আহমাদুল্লাহ সোহাগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নূরতারাকে অত্যাচারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমার এখানে রান্নার জন্য আলাদা মহিলা বাবুর্চি রাখা আছে। ছাত্রীদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়টি সত্য নয়।”

ডেস্ক রিপোর্ট 






















