পটুয়াখালী প্রতিনিধি: “মাসে চার হাজার টাকায় সংসার চলে না, তবুও বছরের পর বছর সরকারি সেবা দিয়ে যাচ্ছি”— এমন অভিযোগ তুলে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে পটুয়াখালীতে বিক্ষোভ করেছেন শত শত ডাক বিভাগের কর্মচারী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে ‘বাংলাদেশ ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন’, ‘বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতি’ এবং ‘বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’-এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এলজিইডি কার্যালয়ের সামনের সড়ক থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশে পরিণত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার, রানার, পিয়নসহ বিপুলসংখ্যক কর্মচারী অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ডাক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম নিজাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুস সালাম, জেলা শাখার সভাপতি মো. নুরুল আহাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান খান, সদস্য নার্গিস আক্তার, সালমা সুলতানা ও শিউলী পারভীন।
বক্তারা বলেন, ইডি (এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল) শাখার কর্মচারীরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারি চিঠিপত্র, সঞ্চয়পত্র, পার্সেল ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেও তারা দৈনিক মাত্র ১৩৩ থেকে ১৪৭ টাকা এবং মাসিক ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৪৬০ টাকা সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন, যা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাদের দাবি, বছরের পর বছর একইভাবে দায়িত্ব পালন করলেও চাকরির স্থায়ী কোনো স্বীকৃতি কিংবা বেতন কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। এ কারণে তারা বেতন-ভাতা তিন গুণ বৃদ্ধি এবং চাকরি স্থায়ীকরণ বা জাতীয়করণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রসমাবেশে বক্তারা বলেন, তাদের দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ও কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির দিকেও যেতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন তারা।
কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। জেলা প্রশাসক তাদের বক্তব্য শোনেন এবং স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পাঠানোর আশ্বাস দেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 













