ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে ডুয়েটে বিশেষ দোয়া ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:৩৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে
গাজীপুর প্রতিনিধি: ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এর কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের মসজিদে বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই  বাদ যোহর বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহান জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করা হয়। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামের উপর স্থাপিত জায়ান্ট স্ক্রিনে জুলাই আন্দোলনের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষ্যে ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল এক বাণীতে বলেন,মহান জুলাই শহীদ দিবসটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক গৌরবময় ও বেদনাবিধুর দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহিদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল, তার স্মরণে আজ গোটা জাতি গভীর শ্রদ্ধায় অবনত। আজকের এই বিশেষ দিনে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই সব শহীদ ভাইবোনকে, যারা বৈষম্য, জুলুম-নির্যাতন ও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে শাহাদাতবরণ করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণআন্দোলন আমাদের ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী অধ্যায়, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের পেশাজীবী মানুষ অভিন্ন দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। এই আন্দোলনে সারাদেশে শত শত ছাত্র-জনতা প্রাণ হারান এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন, যাদের অনেকে আজও শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগছেন। এই আন্দোলনে ডুয়েটের শিক্ষার্থীরাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাদের সাহসিকতা ও ঐক্য আমাদের প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। আমি সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং হতাহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।”
উপাচার্য আরও বলেন, “সরকারি চাকরিতে বিতর্কিত কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের সূচনা করে, ১৬ জুলাই রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে তা এক নতুন মোড় নেয়। সারাদেশের ছাত্র-জনতার মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে পরের দিনগুলোতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, কারফিউ জারি করা হয় এবং আন্দোলন দমনে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করা হয়। এতকিছু সত্ত্বেও আন্দোলন থেমে থাকেনি, বরং ছাত্রদের শুরু করা স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ক্রমান্বয়ে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সর্বাত্মক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। একপর্যায়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।”
উপাচার্য বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকার গুরুত্ব। আজ দেশের জনগণ মুক্ত ও স্বাধীনভাবে নিজের মতামত প্রকাশ কর। এসবই জুলাই গণআন্দোলনের শহীদদের বুকের তাজা রক্ত উৎসর্গের অর্জন। তারা জাতিকে মহৎ ঋণে আবদ্ধ করে গেছেন। আমরা তাদের কাছে চিরঋণী।”
উপাচার্য এই মুক্তি ও ন্যায়বিচারের চেতনাকে ধারণ করে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে ভুয়া নাম দিয়ে ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারী গ্রেফতার

জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে ডুয়েটে বিশেষ দোয়া ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত : ১২:৩৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
গাজীপুর প্রতিনিধি: ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এর কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের মসজিদে বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই  বাদ যোহর বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহান জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করা হয়। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামের উপর স্থাপিত জায়ান্ট স্ক্রিনে জুলাই আন্দোলনের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষ্যে ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল এক বাণীতে বলেন,মহান জুলাই শহীদ দিবসটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক গৌরবময় ও বেদনাবিধুর দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহিদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল, তার স্মরণে আজ গোটা জাতি গভীর শ্রদ্ধায় অবনত। আজকের এই বিশেষ দিনে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই সব শহীদ ভাইবোনকে, যারা বৈষম্য, জুলুম-নির্যাতন ও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে শাহাদাতবরণ করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণআন্দোলন আমাদের ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী অধ্যায়, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের পেশাজীবী মানুষ অভিন্ন দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। এই আন্দোলনে সারাদেশে শত শত ছাত্র-জনতা প্রাণ হারান এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন, যাদের অনেকে আজও শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগছেন। এই আন্দোলনে ডুয়েটের শিক্ষার্থীরাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাদের সাহসিকতা ও ঐক্য আমাদের প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। আমি সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং হতাহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।”
উপাচার্য আরও বলেন, “সরকারি চাকরিতে বিতর্কিত কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের সূচনা করে, ১৬ জুলাই রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে তা এক নতুন মোড় নেয়। সারাদেশের ছাত্র-জনতার মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে পরের দিনগুলোতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, কারফিউ জারি করা হয় এবং আন্দোলন দমনে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করা হয়। এতকিছু সত্ত্বেও আন্দোলন থেমে থাকেনি, বরং ছাত্রদের শুরু করা স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ক্রমান্বয়ে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সর্বাত্মক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। একপর্যায়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।”
উপাচার্য বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকার গুরুত্ব। আজ দেশের জনগণ মুক্ত ও স্বাধীনভাবে নিজের মতামত প্রকাশ কর। এসবই জুলাই গণআন্দোলনের শহীদদের বুকের তাজা রক্ত উৎসর্গের অর্জন। তারা জাতিকে মহৎ ঋণে আবদ্ধ করে গেছেন। আমরা তাদের কাছে চিরঋণী।”
উপাচার্য এই মুক্তি ও ন্যায়বিচারের চেতনাকে ধারণ করে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।