ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

শাপলার স্বর্গরাজ্য সাতলা বিল: রঙিন শাপলার মোহনীয় সৌন্দর্যে মুখর বরিশালের প্রকৃতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১০:২৯:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে
বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা বিল যেন রূপকথার এক স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বিলজুড়ে ফুটে থাকা লাল, সাদা ও নীল শাপলার অপরূপ সমারোহ প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করছে। পানির বুকে সবুজ লতাপাতা আর অসংখ্য রঙিন শাপলার মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয়েছে এক অনন্য প্রাকৃতিক নকশিকাঁথা, যা সূর্যের আভাকেও যেন হার মানিয়েছে।
বর্ষার শুরু থেকেই সাতলা বিলে শাপলা ফুটতে শুরু করে। বছরের প্রায় সাত মাস শত শত একর জলাভূমি জুড়ে ছড়িয়ে থাকে নানা রঙের শাপলা। সকাল, দুপুর ও বিকেলজুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে শাপলার এই রাজ্য।
সাতলা বিল শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধারই নয়, এটি স্থানীয় মানুষের জীবিকারও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। প্রতিদিন ভোর হওয়ার আগেই ছোট ছোট নৌকা নিয়ে শাপলা তুলতে নামেন স্থানীয় স্বল্প আয়ের মানুষ। প্রায় ২০০ বছর ধরে এই বিলে প্রাকৃতিকভাবে শাপলা জন্মে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার প্রায় অর্ধেক মানুষ কোনো না কোনোভাবে সাতলা বিলের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয়দের মতে, পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও এখনও পর্যাপ্ত আবাসন ও পর্যটন সুবিধা গড়ে ওঠেনি। এ কারণে পর্যটকদের সুবিধার্থে আধুনিক আবাসন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সিকদার বাচ্চু বলেন, সাতলার শাপলা বিলকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পর্যটকদের জন্য কালবিলা এলাকায় একটি ছোট পরিসরে আবাসন নির্মাণের স্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল খালেক আজাদ বলেন, একসময় শাপলার তেমন বাজারমূল্য ছিল না। ফলে পানিতে জন্মানো শাপলা পানিতেই নষ্ট হয়ে যেত। বর্তমানে শাপলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এটি বিক্রি করে অনেক স্বল্প আয়ের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। একই সঙ্গে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ শাপলাকে খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় এর বাজারও সম্প্রসারিত হয়েছে।
শাপলা সংগ্রহকারী দিনমজুর বেলায়েত জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে তার সংসার চলে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করেও অতিরিক্ত আয় করছেন তিনি।
সাতলা বিলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ। ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক সুমান্ত বলেন, প্রকৃতির টানে এত দূর থেকে ছুটে এসেছেন তিনি, আর সাতলার শাপলার সৌন্দর্য তার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বরগুনার আমতলী থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু সুমন,ও সালমা, বলেন, “সাতলা বিলের অপরূপ সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। চারদিকে শুধু শাপলা আর শাপলা—এ যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত শিল্পকর্ম।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অনন্য সমন্বয়ে সাতলা বিল এখন দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য। যথাযথ পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন হলে শাপলার এই স্বর্গরাজ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

শাপলার স্বর্গরাজ্য সাতলা বিল: রঙিন শাপলার মোহনীয় সৌন্দর্যে মুখর বরিশালের প্রকৃতি

প্রকাশিত : ১০:২৯:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা বিল যেন রূপকথার এক স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বিলজুড়ে ফুটে থাকা লাল, সাদা ও নীল শাপলার অপরূপ সমারোহ প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করছে। পানির বুকে সবুজ লতাপাতা আর অসংখ্য রঙিন শাপলার মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয়েছে এক অনন্য প্রাকৃতিক নকশিকাঁথা, যা সূর্যের আভাকেও যেন হার মানিয়েছে।
বর্ষার শুরু থেকেই সাতলা বিলে শাপলা ফুটতে শুরু করে। বছরের প্রায় সাত মাস শত শত একর জলাভূমি জুড়ে ছড়িয়ে থাকে নানা রঙের শাপলা। সকাল, দুপুর ও বিকেলজুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে শাপলার এই রাজ্য।
সাতলা বিল শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধারই নয়, এটি স্থানীয় মানুষের জীবিকারও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। প্রতিদিন ভোর হওয়ার আগেই ছোট ছোট নৌকা নিয়ে শাপলা তুলতে নামেন স্থানীয় স্বল্প আয়ের মানুষ। প্রায় ২০০ বছর ধরে এই বিলে প্রাকৃতিকভাবে শাপলা জন্মে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার প্রায় অর্ধেক মানুষ কোনো না কোনোভাবে সাতলা বিলের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয়দের মতে, পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও এখনও পর্যাপ্ত আবাসন ও পর্যটন সুবিধা গড়ে ওঠেনি। এ কারণে পর্যটকদের সুবিধার্থে আধুনিক আবাসন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সিকদার বাচ্চু বলেন, সাতলার শাপলা বিলকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পর্যটকদের জন্য কালবিলা এলাকায় একটি ছোট পরিসরে আবাসন নির্মাণের স্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল খালেক আজাদ বলেন, একসময় শাপলার তেমন বাজারমূল্য ছিল না। ফলে পানিতে জন্মানো শাপলা পানিতেই নষ্ট হয়ে যেত। বর্তমানে শাপলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এটি বিক্রি করে অনেক স্বল্প আয়ের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। একই সঙ্গে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ শাপলাকে খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় এর বাজারও সম্প্রসারিত হয়েছে।
শাপলা সংগ্রহকারী দিনমজুর বেলায়েত জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে তার সংসার চলে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করেও অতিরিক্ত আয় করছেন তিনি।
সাতলা বিলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ। ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক সুমান্ত বলেন, প্রকৃতির টানে এত দূর থেকে ছুটে এসেছেন তিনি, আর সাতলার শাপলার সৌন্দর্য তার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বরগুনার আমতলী থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু সুমন,ও সালমা, বলেন, “সাতলা বিলের অপরূপ সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। চারদিকে শুধু শাপলা আর শাপলা—এ যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত শিল্পকর্ম।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অনন্য সমন্বয়ে সাতলা বিল এখন দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য। যথাযথ পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন হলে শাপলার এই স্বর্গরাজ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।