ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালিয়াকৈরে অটোরিকশার বেপরোয়া দৌরাত্ম্য: যানজট ও দুর্ঘটনায় বিপন্ন জনজীবন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৬:১৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ বার দেখা হয়েছে

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে শুরু করে কালিয়াকৈর পৌরসভার অলিগলি—সর্বত্রই বেড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া দৌরাত্ম্য। নিয়ম-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, হঠাৎ ইউটার্ন, বিপরীতমুখী চলাচল ও অতিরিক্ত গতির কারণে প্রতিনিয়তই বাড়ছে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ যাত্রীরা।

কালিয়াকৈর-চন্দ্রা ও কালিয়াকৈর-নবীনগর মহাসড়কের সফিপুর, মৌচাক এবং পৌর এলাকার কালিয়াকৈর সদর বাজার, চান্দরা, পল্লিবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা যায় অটোরিকশার একচ্ছত্র আধিপত্য। প্রধান সড়কের পাশাপাশি অলিগলি ও আবাসিক এলাকাগুলোর ফুটপাত বা রাস্তার একাংশ দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে রিকশাগুলো। ব্যস্ত সময়ে—বিশেষ করে সকাল ৭টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত এই ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করে। ৫ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে কখনো কখনো ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় পথচারী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, চালকরা কোনো ধরনের ট্রাফিক আইন মানছেন না। বিশেষ করে বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে হঠাৎ গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া কিংবা মাঝরাস্তায় ব্রেক করার কারণে দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বলিয়াদীর এক অভিভাবক বলেন, “অলিগলিতে দুটি গাড়ি পাশাপাশি চললেই হাঁটার জায়গা থাকে না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলের সময় পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নেয়।”

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা দেওয়ান জসিম উদ্দিন বলেন, “কালিয়াকৈরের রাস্তাঘাট আজ অটোরিকশার দখলে। কোনো নিয়ম-নীতি নেই, ফলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। আমরা আর এই বিশৃঙ্খলা দেখতে চাই না। জনগণের সেবায় আসার সুযোগ পেলে আমার প্রথম কাজই হবে নির্দিষ্ট রুট, স্ট্যান্ড নির্ধারণ এবং চালকদের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা।”

তিনি অবিলম্বে রাস্তায় পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয় ও বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন : রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণ: সুনির্দিষ্ট রুট ভাগ করে দেওয়া এবং পৌরসভার তত্ত্বাবধানে ডেডিকেটেড অটো স্ট্যান্ড নির্মাণ করা, লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ: চালকদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বৈধ কাগজপত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করা, মহাসড়কে প্রবেশ নিষেধ: ঢাকা-টাঙ্গাইলসহ প্রধান মহাসড়কগুলোতে রিকশা চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, নিয়মিত অভিযান: ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি ও জরিমানা আদায় করা। স্থায়ী সমন্বিত পরিকল্পনা: সাময়িক অভিযানের বদলে দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, একটি শিল্পাঞ্চল হিসেবে কালিয়াকৈরে অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে অটোরিকশার গুরুত্ব রয়েছে। তবে অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে মূল সড়কের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। শিল্পকারখানা ও আবাসিক এলাকা বৃদ্ধির সাথে সাথে সড়কের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে নীতিমালা বাস্তবায়ন ও সমন্বিত প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

অতিভারী বৃষ্টির শঙ্কা চট্টগ্রামে, বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি

কালিয়াকৈরে অটোরিকশার বেপরোয়া দৌরাত্ম্য: যানজট ও দুর্ঘটনায় বিপন্ন জনজীবন

প্রকাশিত : ০৬:১৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে শুরু করে কালিয়াকৈর পৌরসভার অলিগলি—সর্বত্রই বেড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া দৌরাত্ম্য। নিয়ম-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, হঠাৎ ইউটার্ন, বিপরীতমুখী চলাচল ও অতিরিক্ত গতির কারণে প্রতিনিয়তই বাড়ছে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ যাত্রীরা।

কালিয়াকৈর-চন্দ্রা ও কালিয়াকৈর-নবীনগর মহাসড়কের সফিপুর, মৌচাক এবং পৌর এলাকার কালিয়াকৈর সদর বাজার, চান্দরা, পল্লিবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা যায় অটোরিকশার একচ্ছত্র আধিপত্য। প্রধান সড়কের পাশাপাশি অলিগলি ও আবাসিক এলাকাগুলোর ফুটপাত বা রাস্তার একাংশ দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে রিকশাগুলো। ব্যস্ত সময়ে—বিশেষ করে সকাল ৭টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত এই ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করে। ৫ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে কখনো কখনো ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় পথচারী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, চালকরা কোনো ধরনের ট্রাফিক আইন মানছেন না। বিশেষ করে বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে হঠাৎ গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া কিংবা মাঝরাস্তায় ব্রেক করার কারণে দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বলিয়াদীর এক অভিভাবক বলেন, “অলিগলিতে দুটি গাড়ি পাশাপাশি চললেই হাঁটার জায়গা থাকে না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলের সময় পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নেয়।”

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা দেওয়ান জসিম উদ্দিন বলেন, “কালিয়াকৈরের রাস্তাঘাট আজ অটোরিকশার দখলে। কোনো নিয়ম-নীতি নেই, ফলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। আমরা আর এই বিশৃঙ্খলা দেখতে চাই না। জনগণের সেবায় আসার সুযোগ পেলে আমার প্রথম কাজই হবে নির্দিষ্ট রুট, স্ট্যান্ড নির্ধারণ এবং চালকদের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা।”

তিনি অবিলম্বে রাস্তায় পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয় ও বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন : রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণ: সুনির্দিষ্ট রুট ভাগ করে দেওয়া এবং পৌরসভার তত্ত্বাবধানে ডেডিকেটেড অটো স্ট্যান্ড নির্মাণ করা, লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ: চালকদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বৈধ কাগজপত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করা, মহাসড়কে প্রবেশ নিষেধ: ঢাকা-টাঙ্গাইলসহ প্রধান মহাসড়কগুলোতে রিকশা চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, নিয়মিত অভিযান: ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি ও জরিমানা আদায় করা। স্থায়ী সমন্বিত পরিকল্পনা: সাময়িক অভিযানের বদলে দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, একটি শিল্পাঞ্চল হিসেবে কালিয়াকৈরে অভ্যন্তরীণ যাতায়াতে অটোরিকশার গুরুত্ব রয়েছে। তবে অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে মূল সড়কের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। শিল্পকারখানা ও আবাসিক এলাকা বৃদ্ধির সাথে সাথে সড়কের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে নীতিমালা বাস্তবায়ন ও সমন্বিত প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রয়োজন।