ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোরগঞ্জ শহরজুড়ে বসছে ২৫০ সিসি ক্যামেরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১০:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, হত্যা ও সংঘর্ষের ঘটনায় কিশোরগঞ্জ শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ অবস্থায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে শহরজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়াচ্ছে জেলা পুলিশ।

শহরের প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়ক ও অলিগলিতে বসানো হচ্ছে ২৫০টি সিসি ক্যামেরা। প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া এ উদ্যোগের প্রথম ধাপে ৫০টি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে গাইটাল বাসস্ট্যান্ডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টকে ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অপরাধের পর ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের পাশাপাশি সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজর রাখা হবে।

ক্যামেরার ফুটেজ এক জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় তৈরি করা হচ্ছে সার্ভার স্টেশন। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টের ক্যামেরার ফুটেজ সেখানে সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

জানা গেছে, চলতি বছরে শহরে বেশ কয়েকটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর অনলাইনে জুয়া খেলা ও প্রতারণার অভিযোগে ২১ জনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ কিশোরকে আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, রাতের আড্ডা ও কিশোর গ্যাং-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছিল। পরে অভিভাবকদের মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

২৭ এপ্রিল হারুয়া এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলায় একজন নিহত হন। ৩১ মার্চ রাতে আখড়াবাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

শহরের নরসুন্দা নদীর লেকপাড়, জেলা স্মরণী মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া দোকানের এসি ও বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনাও ঘটেছে।

ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের বাসিন্দারা। তবে তাদের প্রত্যাশা, স্থাপনের পর ক্যামেরাগুলো যেন নিয়মিত সচল রাখা হয়।

আখড়াবাজারের ইমরান হোসেন বলেন, বিভিন্ন এলাকায় আগে ক্যামেরা বসানো হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক সময় সেগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে।

গাইটাল এলাকার বাসিন্দা মাহফুজ মিয়া বলেন, উদ্যোগটি ভালো। তবে ক্যামেরাগুলো সচল রাখার পাশাপাশি কোনো ঘটনা শনাক্ত হলে দ্রুত পুলিশি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

জেলা স্মরণী এলাকার বাসিন্দা সাজিদ বলেন, নিয়মিত নজরদারি থাকলে দোকানপাটে চুরি ও বৈদ্যুতিক তার চুরির মতো ঘটনা কমার পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করাও সহজ হবে।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূইয়া বলেন, ক্যামেরার ফুটেজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো এলাকায় সন্দেহজনক জটলা, বখাটেদের উৎপাত বা অপরাধের চেষ্টা নজরে এলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত জানানো হবে। তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভব হলে আগেই তা প্রতিরোধ করাই পুলিশের লক্ষ্য।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, অপরাধীরা অনেক সময় রাতের অন্ধকারকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে। নতুন ক্যামেরাগুলো কম আলোতেও রঙিন ও স্পষ্ট ফুটেজ ধারণ করতে পারবে। সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধ সংঘটনের পর জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত—দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ক্যামেরার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ২৫০টি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন ক্যামেরাগুলো কতটা নিয়মিত সচল রাখা যায়, ফুটেজ কত দ্রুত বিশ্লেষণ করা হয় এবং সেখান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কতটা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়—তার ওপরই নির্ভর করবে এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কার্যকারিতা।

চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুর মধ্যে আবারও বাড়ছে হাম, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকট

কিশোরগঞ্জ শহরজুড়ে বসছে ২৫০ সিসি ক্যামেরা

প্রকাশিত : ১০:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, হত্যা ও সংঘর্ষের ঘটনায় কিশোরগঞ্জ শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ অবস্থায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে শহরজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়াচ্ছে জেলা পুলিশ।

শহরের প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়ক ও অলিগলিতে বসানো হচ্ছে ২৫০টি সিসি ক্যামেরা। প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া এ উদ্যোগের প্রথম ধাপে ৫০টি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে গাইটাল বাসস্ট্যান্ডসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টকে ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অপরাধের পর ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের পাশাপাশি সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজর রাখা হবে।

ক্যামেরার ফুটেজ এক জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় তৈরি করা হচ্ছে সার্ভার স্টেশন। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টের ক্যামেরার ফুটেজ সেখানে সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

জানা গেছে, চলতি বছরে শহরে বেশ কয়েকটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর অনলাইনে জুয়া খেলা ও প্রতারণার অভিযোগে ২১ জনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ কিশোরকে আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, রাতের আড্ডা ও কিশোর গ্যাং-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছিল। পরে অভিভাবকদের মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

২৭ এপ্রিল হারুয়া এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলায় একজন নিহত হন। ৩১ মার্চ রাতে আখড়াবাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

শহরের নরসুন্দা নদীর লেকপাড়, জেলা স্মরণী মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া দোকানের এসি ও বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনাও ঘটেছে।

ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের বাসিন্দারা। তবে তাদের প্রত্যাশা, স্থাপনের পর ক্যামেরাগুলো যেন নিয়মিত সচল রাখা হয়।

আখড়াবাজারের ইমরান হোসেন বলেন, বিভিন্ন এলাকায় আগে ক্যামেরা বসানো হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক সময় সেগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে।

গাইটাল এলাকার বাসিন্দা মাহফুজ মিয়া বলেন, উদ্যোগটি ভালো। তবে ক্যামেরাগুলো সচল রাখার পাশাপাশি কোনো ঘটনা শনাক্ত হলে দ্রুত পুলিশি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

জেলা স্মরণী এলাকার বাসিন্দা সাজিদ বলেন, নিয়মিত নজরদারি থাকলে দোকানপাটে চুরি ও বৈদ্যুতিক তার চুরির মতো ঘটনা কমার পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করাও সহজ হবে।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূইয়া বলেন, ক্যামেরার ফুটেজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো এলাকায় সন্দেহজনক জটলা, বখাটেদের উৎপাত বা অপরাধের চেষ্টা নজরে এলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত জানানো হবে। তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভব হলে আগেই তা প্রতিরোধ করাই পুলিশের লক্ষ্য।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, অপরাধীরা অনেক সময় রাতের অন্ধকারকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে। নতুন ক্যামেরাগুলো কম আলোতেও রঙিন ও স্পষ্ট ফুটেজ ধারণ করতে পারবে। সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধ সংঘটনের পর জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত—দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ক্যামেরার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ২৫০টি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন ক্যামেরাগুলো কতটা নিয়মিত সচল রাখা যায়, ফুটেজ কত দ্রুত বিশ্লেষণ করা হয় এবং সেখান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কতটা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়—তার ওপরই নির্ভর করবে এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কার্যকারিতা।