ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়াদের পুনর্বিবেচনার দাবি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের পুনর্বিবেচনা ও নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্যগত ভুল বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কোনো যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধন, আপিল ও শুনানির সুযোগ নিশ্চিত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন প্রার্থীরা।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’-এর পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের দীর্ঘ আট মাসের প্রতীক্ষা, মানসিক চাপ ও প্রশাসনিক টালবাহানার পর ভেরিফিকেশনের নামে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অনেক যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের নিয়োগপত্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেওয়া হয়নি।

প্রার্থীরা এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত করা অমানবিক এবং এতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের অধিকার ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘ আট মাস ধরে এসব প্রার্থী অন্য চাকরির সুযোগ ছেড়ে বা নতুন চাকরিতে যোগ না দিয়ে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। কারও আগের চাকরি ছাড়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আবার অনেকের বয়স এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নতুন করে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ সীমিত বা শেষ হয়ে গেছে। অনেক প্রার্থীর কাছে প্রাথমিক শিক্ষকতা শুধু চাকরি নয়, স্বপ্নের পেশা ও জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রার্থীদের দাবি, আকস্মিকভাবে নিয়োগপত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনেক পরিবার আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছে। কারও উপার্জনের পথ বন্ধ হয়েছে, কারও বাবা-মায়ের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ অনাহারে দিন কাটানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়। দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং হঠাৎ নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় অনেক প্রার্থী চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একজন নাগরিকের জীবিকা, ভবিষ্যৎ ও বহু বছরের পরিশ্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অস্পষ্টতা, প্রশাসনিক ভুল বা একতরফা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয়। প্রতিটি প্রার্থীর বিষয় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগতভাবে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রার্থীরা আরও বলেন, তারা কোনো অনিয়মকারী বা অযোগ্য ব্যক্তির নিয়োগের সুপারিশ করছেন না। তবে প্রশাসনিক ভুল, অসম্পূর্ণ তদন্ত, তথ্যগত ভুল কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের কারণে কোনো নিরপরাধ ও যোগ্য প্রার্থী যেন বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুনঃযাচাইযোগ্য প্রক্রিয়ায় অবিলম্বে পুনরায় যাচাই করা; তথ্যগত ভুল বা অসঙ্গতির শিকার প্রার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা করা, কোনো দপ্তর বা কর্মকর্তার গাফিলতি, ভুল তথ্য কিংবা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কেউ বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধন করে তার নিয়োগ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ এখনো নিয়োগপত্র পাননি — এমন সব প্রার্থীর বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। কোনো অযৌক্তিক কারণে প্রক্রিয়াটি আর বিলম্বিত না করারও দাবি রয়েছে।

পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এতসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়েছেন, সে বিষয়ে জনসম্মুখে সুস্পষ্ট ও দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে।

প্রার্থীরা বলেন, একজন নাগরিকের অধিকার ও বহু বছরের কঠোর পরিশ্রমকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নস্যাৎ হতে দেওয়া যায় না। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। যোগ্য প্রার্থীদের প্রাপ্য নিয়োগপত্র ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানান তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দাবি পূরণ না হলে বাদ পড়া প্রার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন আরও কঠিন পর্যায়ে যেতে বাধ্য হবে।

কিশোরগঞ্জ শহরজুড়ে বসছে ২৫০ সিসি ক্যামেরা

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়াদের পুনর্বিবেচনার দাবি

প্রকাশিত : ০৯:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের পুনর্বিবেচনা ও নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্যগত ভুল বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কোনো যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধন, আপিল ও শুনানির সুযোগ নিশ্চিত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন প্রার্থীরা।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’-এর পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের দীর্ঘ আট মাসের প্রতীক্ষা, মানসিক চাপ ও প্রশাসনিক টালবাহানার পর ভেরিফিকেশনের নামে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অনেক যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের নিয়োগপত্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেওয়া হয়নি।

প্রার্থীরা এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত করা অমানবিক এবং এতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের অধিকার ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘ আট মাস ধরে এসব প্রার্থী অন্য চাকরির সুযোগ ছেড়ে বা নতুন চাকরিতে যোগ না দিয়ে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। কারও আগের চাকরি ছাড়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আবার অনেকের বয়স এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নতুন করে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ সীমিত বা শেষ হয়ে গেছে। অনেক প্রার্থীর কাছে প্রাথমিক শিক্ষকতা শুধু চাকরি নয়, স্বপ্নের পেশা ও জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রার্থীদের দাবি, আকস্মিকভাবে নিয়োগপত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনেক পরিবার আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছে। কারও উপার্জনের পথ বন্ধ হয়েছে, কারও বাবা-মায়ের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ অনাহারে দিন কাটানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়। দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং হঠাৎ নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় অনেক প্রার্থী চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একজন নাগরিকের জীবিকা, ভবিষ্যৎ ও বহু বছরের পরিশ্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অস্পষ্টতা, প্রশাসনিক ভুল বা একতরফা সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয়। প্রতিটি প্রার্থীর বিষয় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগতভাবে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রার্থীরা আরও বলেন, তারা কোনো অনিয়মকারী বা অযোগ্য ব্যক্তির নিয়োগের সুপারিশ করছেন না। তবে প্রশাসনিক ভুল, অসম্পূর্ণ তদন্ত, তথ্যগত ভুল কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের কারণে কোনো নিরপরাধ ও যোগ্য প্রার্থী যেন বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুনঃযাচাইযোগ্য প্রক্রিয়ায় অবিলম্বে পুনরায় যাচাই করা; তথ্যগত ভুল বা অসঙ্গতির শিকার প্রার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা করা, কোনো দপ্তর বা কর্মকর্তার গাফিলতি, ভুল তথ্য কিংবা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কেউ বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধন করে তার নিয়োগ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ এখনো নিয়োগপত্র পাননি — এমন সব প্রার্থীর বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। কোনো অযৌক্তিক কারণে প্রক্রিয়াটি আর বিলম্বিত না করারও দাবি রয়েছে।

পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এতসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়েছেন, সে বিষয়ে জনসম্মুখে সুস্পষ্ট ও দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে।

প্রার্থীরা বলেন, একজন নাগরিকের অধিকার ও বহু বছরের কঠোর পরিশ্রমকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নস্যাৎ হতে দেওয়া যায় না। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। যোগ্য প্রার্থীদের প্রাপ্য নিয়োগপত্র ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানান তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দাবি পূরণ না হলে বাদ পড়া প্রার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন আরও কঠিন পর্যায়ে যেতে বাধ্য হবে।