ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘জাগোনারীর’ উদ্যোগে পরিষ্কার হলো দূষণে বিপর্যস্ত ডৌয়াতলা বাজারের ঐতিহ্যবাহী পুকুর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে
বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার বামনা উপজেলার প্রানকেন্দ্র ডৌয়াতলা বাজারের গোলচত্বর ও মসজিদের পাশে অবস্থিত ভূমি অফিসের মালিকানাধীন ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি পরিষ্কার করা হচ্ছে। বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘জাগোনারীর’ উদ্যোগে শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে পরিষ্কার করার কার্যক্রম শুরু হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা আর কচুরিপানায় বিপর্যস্ত ছিলো পুকুরটি। ‘জাগোনারীর’ এই প্রশংসনীয় উদ্যোগে স্থানীয়রা খুশি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুকুরটি কেবল একটি সাধারণ পুকুর নয়, এটি ডৌয়াতলা বাজারের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে দীর্ঘদিন ধরে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় পুকুরের পানি পুরোপুরি দূষিত হয়ে পড়েছিল। চারপাশের ময়লা-আবর্জনা ও ঘন কচুরিপানায় বিলীন হয়ে গিয়েছিল পুকুরের অস্তিত্ব। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পচা পানির তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষের বসবাস করাই দায় হয়ে উঠত। মশার উপদ্রব আর পরিবেশ দূষণের কারণে এটি পুরো এলাকার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সকাল সকাল থেকে শুরু অভিযান শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে পুকুরটি পুনরুদ্ধারে নামেন ‘জাগোনারীর’ নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। সকাল থেকেই পুকুরে জমে থাকা টন কে টন বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়। একই সাথে কেটে ফেলা হচ্ছে চারপাশের আগাছা ও ঘন কচুরিপানা। পানির স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুকুর পরিষ্কারের এই দৃশ্য দেখতে সকাল থেকেই ভিড় করেন স্থানীয় উৎসুক জনতা। ডৌয়াতলা বাজারের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা আশা হারিয়ে ফেলেছিলাম। এই পুকুরের সাথে আমাদের শৈশবের স্মৃতি জড়িত। ছোটবেলায় আমরা এখানে গোসল করেছি। জাগোনারীকে ধন্যবাদ। তবে কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ, একবার পরিষ্কার করে যেন ফেলে রাখা না হয়, নিয়মিত যেন এর যত্ন নেওয়া হয়।
জাগোনারীর গেটকা প্রকল্পের কর্মকর্তা জুলকার নায়েম শাহীন বলেন, জাগোনারী বিভিন্ন ধরনের সামাজিক প্রকল্প গ্রহণ করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই পুকুর পরিষ্কার করা হচ্ছে। এই পুকুরটির যত্ন নেওয়া সকলের দায়িত্ব।
রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির আশ্বাস কর্তৃপক্ষের পুকুর পরিষ্কারের এই উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডৌয়াতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. মহসীন খান বলেন- ডৌয়াতলা বাজারের ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন ও অবহেলার কারণে ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ও পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনা করে এটির গুরুত্ব অপরিসীম। জাগোনারীকে ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতে পুকুরটিকে সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ঐতিহ্য রক্ষার ইতিবাচক বার্তা পরিবেশবাদীরা ও স্থানীয় সচেতন মহল জাগোনারীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, পুকুরটি শুধু পরিষ্কার নয়, যত্ন নিতে হবে। আশেপাশের বুক থেকে হারিয়ে যাওয়া অন্যান্য জলাশয় ও পুকুরগুলোকেও এভাবে উদ্ধার করা প্রয়োজন। ডৌয়াতলা বাজারের পুকুর পরিষ্কারের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এটি ডৌয়াতলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ বিষয়ের সংশোধিত সিলেবাস ভ্যালিডেশনে কর্মশালা

‘জাগোনারীর’ উদ্যোগে পরিষ্কার হলো দূষণে বিপর্যস্ত ডৌয়াতলা বাজারের ঐতিহ্যবাহী পুকুর

প্রকাশিত : ০৯:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার বামনা উপজেলার প্রানকেন্দ্র ডৌয়াতলা বাজারের গোলচত্বর ও মসজিদের পাশে অবস্থিত ভূমি অফিসের মালিকানাধীন ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি পরিষ্কার করা হচ্ছে। বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘জাগোনারীর’ উদ্যোগে শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে পরিষ্কার করার কার্যক্রম শুরু হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা আর কচুরিপানায় বিপর্যস্ত ছিলো পুকুরটি। ‘জাগোনারীর’ এই প্রশংসনীয় উদ্যোগে স্থানীয়রা খুশি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুকুরটি কেবল একটি সাধারণ পুকুর নয়, এটি ডৌয়াতলা বাজারের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে দীর্ঘদিন ধরে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় পুকুরের পানি পুরোপুরি দূষিত হয়ে পড়েছিল। চারপাশের ময়লা-আবর্জনা ও ঘন কচুরিপানায় বিলীন হয়ে গিয়েছিল পুকুরের অস্তিত্ব। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পচা পানির তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষের বসবাস করাই দায় হয়ে উঠত। মশার উপদ্রব আর পরিবেশ দূষণের কারণে এটি পুরো এলাকার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সকাল সকাল থেকে শুরু অভিযান শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে পুকুরটি পুনরুদ্ধারে নামেন ‘জাগোনারীর’ নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। সকাল থেকেই পুকুরে জমে থাকা টন কে টন বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়। একই সাথে কেটে ফেলা হচ্ছে চারপাশের আগাছা ও ঘন কচুরিপানা। পানির স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুকুর পরিষ্কারের এই দৃশ্য দেখতে সকাল থেকেই ভিড় করেন স্থানীয় উৎসুক জনতা। ডৌয়াতলা বাজারের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা আশা হারিয়ে ফেলেছিলাম। এই পুকুরের সাথে আমাদের শৈশবের স্মৃতি জড়িত। ছোটবেলায় আমরা এখানে গোসল করেছি। জাগোনারীকে ধন্যবাদ। তবে কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ, একবার পরিষ্কার করে যেন ফেলে রাখা না হয়, নিয়মিত যেন এর যত্ন নেওয়া হয়।
জাগোনারীর গেটকা প্রকল্পের কর্মকর্তা জুলকার নায়েম শাহীন বলেন, জাগোনারী বিভিন্ন ধরনের সামাজিক প্রকল্প গ্রহণ করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই পুকুর পরিষ্কার করা হচ্ছে। এই পুকুরটির যত্ন নেওয়া সকলের দায়িত্ব।
রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির আশ্বাস কর্তৃপক্ষের পুকুর পরিষ্কারের এই উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডৌয়াতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. মহসীন খান বলেন- ডৌয়াতলা বাজারের ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন ও অবহেলার কারণে ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ও পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনা করে এটির গুরুত্ব অপরিসীম। জাগোনারীকে ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতে পুকুরটিকে সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
ঐতিহ্য রক্ষার ইতিবাচক বার্তা পরিবেশবাদীরা ও স্থানীয় সচেতন মহল জাগোনারীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, পুকুরটি শুধু পরিষ্কার নয়, যত্ন নিতে হবে। আশেপাশের বুক থেকে হারিয়ে যাওয়া অন্যান্য জলাশয় ও পুকুরগুলোকেও এভাবে উদ্ধার করা প্রয়োজন। ডৌয়াতলা বাজারের পুকুর পরিষ্কারের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এটি ডৌয়াতলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।