ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নীলফামারীর মির্জাগঞ্জ স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ দাবিতে রেললাইন অবরোধ, ৪ ঘন্টা চলাচল বন্ধ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে
নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মির্জাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহীগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস এবং খুলনাগামী রুপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ দাবিতে রেললাইন অবরোধ করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত এই অবরোধের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে চিলাহাটি স্টেশনে খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেন এবং ডোমার স্টেশনে খুলনা থেকে আসা  চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ে। অবরোধ শেষে প্রায় সাড়ে ৪ ঘন্টা বিলম্বে ওই ট্রেন দুইটি ছেড়ে যায়। এই দীর্ঘ সময় এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ রেললাইনে অবস্থান নেন।
ডোমারের জোড়াবাড়ি ইউনিয়নের এই স্টেশনে লোকাল ট্রেন থামলেও আন্তঃনগর কোন ট্রেন থামেনা। ফলে এই এলাকার লোকজনকে চিলাহাটি বা ডোমার স্টেশনে গিয়ে ট্রেন ধরতে হয়। তাছাড়া লোকাল ট্রেনও স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে না  দাঁড়িয়ে মাঝখানের ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। এতে ট্রেনে উঠানামায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। তাই প্লাটফর্মের সাথে ১ নম্বর লাইনে ট্রেন দাঁড় করানোরও দাবি জানান তারা।
অবরোধকারীরা বলেন, নীলফামারী জেলার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন মির্জাগঞ্জ। অথচ এখানে তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। স্টেশনটি জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইউনিয়ন এবং পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও দূরপাল্লায় মালামাল পরিবহনে এ স্টেশন ব্যবহার করেন।

তারা আরও বলেন, বর্তমানে স্টেশনটিতে যে ট্রেনটি থামে, সেটিও ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। ফলে নিচ থেকে উঁচুতে উঠে ট্রেনে ওঠানামা করতে গিয়ে নারী, বয়স্ক ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ অবস্থায় ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানো জরুরি । মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানোসহ তিতুমীর, রূপসা ও বরেন্দ্র ট্রেনকে থামানোর দাবি যদি ৭২ ঘণ্টা মধ্যে মেনে না নেওয়া হয়, তাহলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রহমত আলী বলেন, আমরা এই এলাকার মানুষ ছাড়া আশপাশের পাঁচ ছয়টি ইউনিয়নের সাধারণ যাত্রীরা এ স্টেশন ব্যবহার করে যাতায়াত করি। অনেক ব্যবসায়ীও এখান থেকে দূরদূরান্তে মালামাল নিয়ে যান। তাই আমাদের প্রধান দাবি, ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামাতে হবে। বর্তমানে যে ট্রেনটি থামে, সেটি ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায় নিচ থেকে ঝুলে ঝুলে ট্রেনে উঠতে গিয়ে নারীসহ সব যাত্রীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা আমাদের বাবা-চাচাদের কাছে শুনেছি, একসময় এ স্টেশনে ৩-৪টি ট্রেন থামত। তারা এসব ট্রেনে করে যাতায়াত করতেন। সকালে একটি ও বিকেলে একটি ট্রেন থামত। আমরা এখনো সেই সুবিধা ফিরে পাওয়ার দাবি জানাই। তিতুমীর, বরেন্দ্র ও রূপসা ট্রেনকে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থামাতে হবে।

এ বিষয়ে ডোমার রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রুবেল ইসলাম বাবু বলেন, রুপসা ট্রেনটি সকাল ৬টা থেকে এখানে দাঁড়িয়ে আছে, আমি বিষয়টি জেনেছি প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে চিলাহাটি স্টেশনে রকেট মেইল ট্রেনটি আটকে আছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রতন সরকার জানান, বেলা ১১ টার দিকে মির্জাগঞ্জ স্টেশনে আন্দোলনকারীরা অবরোধ শেষ করে। পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। একারণে প্রায় সাড় ৪ ঘন্টা বিলম্বে সাড়ে ১১ টার দিকে সৈয়দপুর স্টেশনে এসে পৌঁছেছে খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেনটি। একই কারণে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনও দেড়িতে চিলাহাটি স্টেশনে পৌঁছেছে। তাই ফিরতি পথেও এই বিলম্ব হবে ট্রেনটি খুলনায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ বিষয়ের সংশোধিত সিলেবাস ভ্যালিডেশনে কর্মশালা

নীলফামারীর মির্জাগঞ্জ স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ দাবিতে রেললাইন অবরোধ, ৪ ঘন্টা চলাচল বন্ধ

প্রকাশিত : ০৯:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মির্জাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহীগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস এবং খুলনাগামী রুপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ দাবিতে রেললাইন অবরোধ করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত এই অবরোধের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে চিলাহাটি স্টেশনে খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেন এবং ডোমার স্টেশনে খুলনা থেকে আসা  চিলাহাটিগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ে। অবরোধ শেষে প্রায় সাড়ে ৪ ঘন্টা বিলম্বে ওই ট্রেন দুইটি ছেড়ে যায়। এই দীর্ঘ সময় এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ রেললাইনে অবস্থান নেন।
ডোমারের জোড়াবাড়ি ইউনিয়নের এই স্টেশনে লোকাল ট্রেন থামলেও আন্তঃনগর কোন ট্রেন থামেনা। ফলে এই এলাকার লোকজনকে চিলাহাটি বা ডোমার স্টেশনে গিয়ে ট্রেন ধরতে হয়। তাছাড়া লোকাল ট্রেনও স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে না  দাঁড়িয়ে মাঝখানের ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। এতে ট্রেনে উঠানামায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। তাই প্লাটফর্মের সাথে ১ নম্বর লাইনে ট্রেন দাঁড় করানোরও দাবি জানান তারা।
অবরোধকারীরা বলেন, নীলফামারী জেলার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন মির্জাগঞ্জ। অথচ এখানে তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। স্টেশনটি জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইউনিয়ন এবং পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও দূরপাল্লায় মালামাল পরিবহনে এ স্টেশন ব্যবহার করেন।

তারা আরও বলেন, বর্তমানে স্টেশনটিতে যে ট্রেনটি থামে, সেটিও ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। ফলে নিচ থেকে উঁচুতে উঠে ট্রেনে ওঠানামা করতে গিয়ে নারী, বয়স্ক ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ অবস্থায় ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানো জরুরি । মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানোসহ তিতুমীর, রূপসা ও বরেন্দ্র ট্রেনকে থামানোর দাবি যদি ৭২ ঘণ্টা মধ্যে মেনে না নেওয়া হয়, তাহলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রহমত আলী বলেন, আমরা এই এলাকার মানুষ ছাড়া আশপাশের পাঁচ ছয়টি ইউনিয়নের সাধারণ যাত্রীরা এ স্টেশন ব্যবহার করে যাতায়াত করি। অনেক ব্যবসায়ীও এখান থেকে দূরদূরান্তে মালামাল নিয়ে যান। তাই আমাদের প্রধান দাবি, ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামাতে হবে। বর্তমানে যে ট্রেনটি থামে, সেটি ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায় নিচ থেকে ঝুলে ঝুলে ট্রেনে উঠতে গিয়ে নারীসহ সব যাত্রীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা আমাদের বাবা-চাচাদের কাছে শুনেছি, একসময় এ স্টেশনে ৩-৪টি ট্রেন থামত। তারা এসব ট্রেনে করে যাতায়াত করতেন। সকালে একটি ও বিকেলে একটি ট্রেন থামত। আমরা এখনো সেই সুবিধা ফিরে পাওয়ার দাবি জানাই। তিতুমীর, বরেন্দ্র ও রূপসা ট্রেনকে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থামাতে হবে।

এ বিষয়ে ডোমার রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রুবেল ইসলাম বাবু বলেন, রুপসা ট্রেনটি সকাল ৬টা থেকে এখানে দাঁড়িয়ে আছে, আমি বিষয়টি জেনেছি প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে চিলাহাটি স্টেশনে রকেট মেইল ট্রেনটি আটকে আছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রতন সরকার জানান, বেলা ১১ টার দিকে মির্জাগঞ্জ স্টেশনে আন্দোলনকারীরা অবরোধ শেষ করে। পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। একারণে প্রায় সাড় ৪ ঘন্টা বিলম্বে সাড়ে ১১ টার দিকে সৈয়দপুর স্টেশনে এসে পৌঁছেছে খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেনটি। একই কারণে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনও দেড়িতে চিলাহাটি স্টেশনে পৌঁছেছে। তাই ফিরতি পথেও এই বিলম্ব হবে ট্রেনটি খুলনায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে।