ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

লালমনিরহাটের আলোচিত সেই ক্লিনিক সিলগালা ঘোষণা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০২:০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

লালমনিরহাট সদরের সাপটানা এলাকার নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে সিজার অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে প্রসূতির মৃত্যুর তথ্য পেয়ে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম সেই ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করেন।

এসময় ক্লিনিকের মালিক পক্ষের কাউকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না পেয়ে ফোন ও বিভিন্ন মাধ্যমে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। তবে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে সিভিল সার্জনের নির্দেশে সদর লালমনিরহাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নওশাদ আলম ও সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলামের  উপস্থিতিতে নিউ অতিথি ক্লিনিক সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এর আগে সোমবার সকালে শহরের সাপটানা এলাকার ওই ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যুর পর তাকে রংপুরে নেওয়ার কথা বলা হয় বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।

চিকিৎসায় অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবার। তাদের অভিযোগ, ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে অস্ত্রপাচার করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মেলেনি।

নিহত আদরী বেগম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের মহিষাসুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিন সন্তানের জননী। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, গত শনিবার প্রসবব্যথা শুরু হলে আদরী বেগমকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ৪টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে রংপুর অথবা অন্য কোনো ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেয়। এ সময় বিজলী নামের এক নারী তাকে শহরের নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ওই ক্লিনিকে তাকে ভর্তি করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে তার সিজারিয়ান অপারেশন করে। অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজনের কথা জানানো হয়। স্বজনরা রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা করেন। কিন্তু সোমবার সকালে ক্লিনিকে গিয়ে তারা আদরীকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় ক্লিনিকের কাউকে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ তোলেন।

লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অতিথি ক্লিনিকের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই সংক্রান্ত কারণ দর্শানোর সন্তোষজনক জবাব প্রদানে ব্যর্থ হলে দ্রুত ক্লিনিকটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ল বেদে সম্প্রদায়ের বসতঘর : নিঃস্ব ৯ পরিবার

লালমনিরহাটের আলোচিত সেই ক্লিনিক সিলগালা ঘোষণা

প্রকাশিত : ০২:০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

লালমনিরহাট সদরের সাপটানা এলাকার নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে সিজার অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে প্রসূতির মৃত্যুর তথ্য পেয়ে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম সেই ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করেন।

এসময় ক্লিনিকের মালিক পক্ষের কাউকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না পেয়ে ফোন ও বিভিন্ন মাধ্যমে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। তবে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে সিভিল সার্জনের নির্দেশে সদর লালমনিরহাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নওশাদ আলম ও সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলামের  উপস্থিতিতে নিউ অতিথি ক্লিনিক সিলগালা করে দেওয়া হয়।

এর আগে সোমবার সকালে শহরের সাপটানা এলাকার ওই ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যুর পর তাকে রংপুরে নেওয়ার কথা বলা হয় বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।

চিকিৎসায় অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবার। তাদের অভিযোগ, ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে অস্ত্রপাচার করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মেলেনি।

নিহত আদরী বেগম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের মহিষাসুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিন সন্তানের জননী। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, গত শনিবার প্রসবব্যথা শুরু হলে আদরী বেগমকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ৪টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে রংপুর অথবা অন্য কোনো ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেয়। এ সময় বিজলী নামের এক নারী তাকে শহরের নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ওই ক্লিনিকে তাকে ভর্তি করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে তার সিজারিয়ান অপারেশন করে। অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজনের কথা জানানো হয়। স্বজনরা রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা করেন। কিন্তু সোমবার সকালে ক্লিনিকে গিয়ে তারা আদরীকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় ক্লিনিকের কাউকে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ তোলেন।

লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অতিথি ক্লিনিকের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই সংক্রান্ত কারণ দর্শানোর সন্তোষজনক জবাব প্রদানে ব্যর্থ হলে দ্রুত ক্লিনিকটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।