নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর বুক চিরে বয়ে চলা ছোট যমুনা, তুলসীগঙ্গা, আত্রাই, নাগর ও শিব নদীর অস্তিত্ব এখন চরম সংকটাপন্ন । একদিকে দখলদারদের আগ্রাসনে নদী সংকুচিত হয়ে পড়া এবং অন্যদিকে দীর্ঘদিনের খনন না থাকায় নদীবক্ষ ভরাট হয়ে মরা খালে পরিণত হওয়া—এই দ্বিমুখী সংকটে বিপর্যস্ত জেলার কৃষি ব্যবস্থা ও পরিবেশ। নদীতীরবর্তী কৃষকদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে নদী খনন এবং দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ‘পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি’ ও ‘বাংলাদেশ নদী খাল বিল রক্ষা কমিটি’।
সরেজমিনে দেখা যায়, নওগাঁ সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার নদীতীর দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছেন পাকা বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বহুতল ভবন। আইন-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নদীর জায়গা ভরাট করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বর্ষাকালে যেমন বন্যার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে মাঠের পর মাঠ কৃষিজমি চাষাবাদ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
নদীপাড়ের কৃষক মোহাম্মদ সাদেক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নদীর জায়গায় প্রভাবশালীরা বাড়ি বানিয়েছে, আর আমরা নদীর পানি না পেয়ে সেচের জন্য হাহাকার করছি। আগে এই নদীই আমাদের ফসলের প্রাণ ছিল, এখন সেটি দখলদারদের কবলে পড়ে ভরাট হয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে।”

একই সুর তুলসীগঙ্গা পাড়ের কৃষক শামসুল হকের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “দখলদাররা নদী গিলে খাচ্ছে, প্রশাসন নিরব। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দিনে আমাদের কৃষি কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। নদী খনন না করলে আমাদের ফসলের মাঠ মরুভূমি হয়ে যাবে।”
নদীর করুণ দশা ও দখলদারদের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। ‘পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি’, নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি নাহিদুজ্জামান রনি অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “নওগাঁর সব কটি নদী আজ মৃতপ্রায়। প্রভাবশালীরা নদী দখল করে বাড়ি নির্মাণ করছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা শুধু খননের দাবি জানাচ্ছি না, নদীখেকোদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”
তিনি আরও বলেন, “নদীতে পানি না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। কৃষিপ্রধান নওগাঁর অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে হলে ছোট যমুনা, তুলসীগঙ্গা, আত্রাই, নাগর ও শিব নদী খননের কোনো বিকল্প নেই। আমরা ‘বাংলাদেশ নদী খাল বিল রক্ষা কমিটি’র পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে উচ্ছেদ অভিযান ও খনন প্রকল্প গ্রহণের জোরালো দাবি জানাচ্ছি।”
পরিবেশবাদী ও ভুক্তভোগী কৃষকদের মতে, নওগাঁর নদী রক্ষা কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, এটি জেলার খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নদী দখলমুক্ত করা এবং নাব্যতা ফেরানোর মাধ্যমে এই অঞ্চলের কৃষিকে বাঁচাতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















