ঢাকা ০৪:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

রাঙামাটি-রাঙ্গুনিয়া লিচুবাগান ফেরিঘাটে ভোগান্তি চরমে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০২:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ আশপাশের জেলার হাজারো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ রাঙ্গুনিয়ার লিচুবাগান ফেরিঘাট। কর্ণফুলী নদীর ওপর অবস্থিত এই ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অসংখ্য যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হয়। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় চার দশকেও এখানে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

‎খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে কর্ণফুলী নদীর লিচুবাগান এলাকায় ফেরি চলাচল শুরু হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ ফেরি চলাচল চালু করলেও ফেরিঘাটটির দেখভাল ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ, রাঙ্গামাটি। প্রায় ৩৯ বছর ধরে এই ফেরির ওপর নির্ভর করেই চলাচল করছেন এ অঞ্চলের মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ বছর ধরে এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এতে প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রী ও যানবাহন চালকদের। কখনও নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে গেলে বা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

‎ফেরিঘাট পার হতে আসা  কয়েকজন যাত্রী জানান, একটি সেতুর অভাবে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কখনও দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ফেরির জন্য। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন ব্যয়ও।



‎ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মেহের আলী ও শরীফ বলেন, আমরা ঢাকা থেকে ফেনী হয়ে রামগড় হয়ে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি ঘুরতে এসেছি। লিচুবাগান ফেরিঘাট পার হয়ে বান্দরবান থেকে কক্সবাজার যাওয়া সহজ হলেও এখানে সেতু না থাকায় অনেক সময় নষ্ট হয়। এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে পর্যটন শিল্পেরও ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।

‎ফেরিঘাটে অপেক্ষমাণ মাইক্রোবাসের চালক সেলিম উদ্দিন বলেন, দুই-তিন ঘণ্টা ধরে বসে আছি ফেরি পার হতে পারছি না। কখনও জোয়ারের পানি বাড়ে, আবার কখনও ফেরি নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমাদের প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

‎বাসচালক বিষু ও শিশির জানান, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান থেকে যাত্রী নিয়ে এসে প্রায়ই দীর্ঘ সময় ফেরিঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। তাদের দাবি, দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।

‎এ বিষয়ে রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, লিচুবাগান ফেরিঘাটে সেতু নির্মাণের জন্য ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি জানান, সেতু নির্মাণ নিয়ে আগামী ০৯ মার্চ মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আরও অগ্রগতি জানা যাবে।

‎স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত লিচুবাগান ফেরিঘাটে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে শুধু যাত্রীদের দুর্ভোগই কমবে না বরং রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও আশপাশের অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পর্যটন শিল্পও আরও গতিশীল হবে।

রাঙামাটি-রাঙ্গুনিয়া লিচুবাগান ফেরিঘাটে ভোগান্তি চরমে

প্রকাশিত : ০২:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ আশপাশের জেলার হাজারো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ রাঙ্গুনিয়ার লিচুবাগান ফেরিঘাট। কর্ণফুলী নদীর ওপর অবস্থিত এই ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অসংখ্য যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হয়। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় চার দশকেও এখানে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

‎খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে কর্ণফুলী নদীর লিচুবাগান এলাকায় ফেরি চলাচল শুরু হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ ফেরি চলাচল চালু করলেও ফেরিঘাটটির দেখভাল ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ, রাঙ্গামাটি। প্রায় ৩৯ বছর ধরে এই ফেরির ওপর নির্ভর করেই চলাচল করছেন এ অঞ্চলের মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ বছর ধরে এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এতে প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রী ও যানবাহন চালকদের। কখনও নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে গেলে বা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

‎ফেরিঘাট পার হতে আসা  কয়েকজন যাত্রী জানান, একটি সেতুর অভাবে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কখনও দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ফেরির জন্য। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন ব্যয়ও।



‎ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মেহের আলী ও শরীফ বলেন, আমরা ঢাকা থেকে ফেনী হয়ে রামগড় হয়ে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি ঘুরতে এসেছি। লিচুবাগান ফেরিঘাট পার হয়ে বান্দরবান থেকে কক্সবাজার যাওয়া সহজ হলেও এখানে সেতু না থাকায় অনেক সময় নষ্ট হয়। এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে পর্যটন শিল্পেরও ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।

‎ফেরিঘাটে অপেক্ষমাণ মাইক্রোবাসের চালক সেলিম উদ্দিন বলেন, দুই-তিন ঘণ্টা ধরে বসে আছি ফেরি পার হতে পারছি না। কখনও জোয়ারের পানি বাড়ে, আবার কখনও ফেরি নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমাদের প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

‎বাসচালক বিষু ও শিশির জানান, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান থেকে যাত্রী নিয়ে এসে প্রায়ই দীর্ঘ সময় ফেরিঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। তাদের দাবি, দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।

‎এ বিষয়ে রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, লিচুবাগান ফেরিঘাটে সেতু নির্মাণের জন্য ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি জানান, সেতু নির্মাণ নিয়ে আগামী ০৯ মার্চ মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আরও অগ্রগতি জানা যাবে।

‎স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত লিচুবাগান ফেরিঘাটে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে শুধু যাত্রীদের দুর্ভোগই কমবে না বরং রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও আশপাশের অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পর্যটন শিল্পও আরও গতিশীল হবে।