পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফাঁদ না পেতে অভিনব পদ্ধতিতে খেত থেকে পাখি তাড়াচ্ছেন কৃষকরা। পাখির হাত থেকে বীজ রক্ষায় জমির চারপাশে রং-বেরঙের পলিথিন টাঙিয়ে দিচ্ছেন তারা। বাতাসে দুলতে থাকা এসব পলিথিনের শো-শো শব্দে পাখির ঝাঁক ভয়ে উড়ে যাচ্ছে। এতে ফসলের বীজ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমেছে এবং স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্র্ণ এলাকায় এখন তরমুজ, সূর্যমুখী, ভুট্টা ও মুগ ডালের আবাদ শুরু হয়েছে। তবে জমিতে বীজ বপনের পরই শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ঝাঁক এসে বীজ খেয়ে ফেলায় বিপাকে পড়ছিলেন কৃষকরা। অনেকেই কয়েকবার বীজ রোপণ করেও তা ধরে রাখতে পারছিলেন না।
এ অবস্থায় কৃষকরা ফাঁদের পরিবর্তে জমির বিভিন্ন স্থানে লাঠি পুঁতে ছোট-বড় রং-বেরঙের পলিথিন টাঙিয়ে দিচ্ছেন। বাতাসে পলিথিনের শব্দ ও নড়াচড়ায় পাখিরা ভয়ে জমিতে বসছে না। শুধু পলিথিনই নয়, অনেক স্থানে পুরোনো ক্যাসেটের ফিতা, প্লাস্টিকের বস্তা এবং কাকতাড়–য়ার ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক সোহরাব হোসেন জানান, তিনি তার জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন। দুইবার বীজ রোপণ করেও পাখির আক্রমণে তা ধরে রাখতে পারেননি। পরে বাধ্য হয়ে জমিতে পলিথিন টাঙানোর পদ্ধতি গ্রহণ করেন। এতে এখন বীজ অনেকটাই নিরাপদ রয়েছে।

কৃষক জলিল প্যাদা বলেন, “ঝাঁক বেঁধে আসা পাখিরা বীজ নষ্ট করে দিচ্ছিল। তাই খেতের চারদিকে পলিথিন টাঙিয়ে দিয়েছি। এখন আর পাখি জমিতে বসছে না।”
আরেক কৃষক দীপক বলেন, “আগে আমরা এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানতাম না। তাই দুই-তিনবার করে বীজ রোপণ করতে হয়েছে। এতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। এবার বীজ বপনের পরই সবাই খেতের চারপাশে পলিথিন টাঙিয়ে দিয়েছে। ফলে পাখিরা আর বীজ নষ্ট করতে পারছে না।”
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন জানান, পাখির কবল থেকে ফসলের বীজ রক্ষায় কৃষকদের এই পদ্ধতিটি বেশ কার্যকর। তিনি বলেন, “এটি একটি সহজ ও কম খরচের পদ্ধতি। আমরা চাই কৃষকদের মধ্যে এই পদ্ধতিটি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























