ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

উৎকণ্ঠায় গাইবান্ধার কৃষকরা,চাহিদা মতো মিলছে না জ্বালানি তেল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৪:১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের শুরু থেকেই প্রভাব পড়েছে উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে। তেল সংকটের কারণে সঠিকভাবে পানি সেচ দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের। বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ দামে ডিজেল ক্রয়ে বেড়েছে খরচের পরিমাণ। এর সঙ্গে নতুন করে ধানে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ত্রিমুখী সংকটে পড়েছেন গাইবান্ধার কৃষকরা। সেচ সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও রোগবালাই এই তিন চাপে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকেই কৃষিপণ্যের চাষাবাদে খরচের পরিমাণ ঊর্ধ্বমুখী। বন্যা, খরা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতির পর এবার জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলসহ ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিননির্ভর চাষিরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। এছাড়াও সম্প্রতি ধানে ব্লাস্ট রোগ শুরু হওয়ায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে কয়েকগুণ। সমাধান পেতে কৃষি কর্মকর্তা ও কীটনাশকের বিভিন্ন দোকানে দৌঁড়াচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও ক্ষতির শঙ্কায় পড়া কৃষকরা। দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে উৎপাদনে বড় ধাক্কার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে চাষবাদে আগাম পরামর্শ কিংবা পদক্ষেপ না থাকলেও ব্লাস্টের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় তৎপরতা বাড়িয়েছে কৃষি বিভাগ।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে গাইবান্ধার সাত উপজেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে গাইবান্ধার কৃষি বিভাগ। যার সমপরিমাণ জমিতে চাষাবাদও হয়েছে। এই ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ২৫ হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন ধান।

সরেজমিনে বুধবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠে মাঠে সবুজ ধানক্ষেত। অধিকাংশ জমিতে ধানের শীষ বের হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেতে বের হচ্ছে। তুলনামূলক কিছুটা দেরিতে রোপণ করা এবং হাইব্রিড জাতের ধান এখনো বের হয়নি। তবে থোর হচ্ছে।

পলাশবাড়ী উপজেলার কুমেদপুর থেকে তেল কিনতে আসা বাবলু মন্ডল বলেন, দুই ঘণ্টা হলো লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রোদে গা ভিজে যাচ্ছে।  গ্রামে ১ লিটার তেল ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেয়। ৪ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন তিনি।

বোয়ালী ইউনিয়নের রাধাকৃষ্ণপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কুলসুম বলেন, ওই এলাকার আগাম ধান লাগানো কিছু জমিতে ব্লাস্ট রোগটি দেখা দিয়েছে। মূলত আবহাওয়াজনিত কারণে রোগটি হয়ে থাকে। ওই সকল আক্রান্ত জমি পরিদর্শন করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্যদের আগাম পদক্ষেপ নিতেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাদেকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে কোন কোন এলাকয় ব্লাস্ট তা জেনে নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন এবং তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাণীশংকৈলে আধুনিক কৃষিতে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রদর্শন

উৎকণ্ঠায় গাইবান্ধার কৃষকরা,চাহিদা মতো মিলছে না জ্বালানি তেল

প্রকাশিত : ০৪:১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের শুরু থেকেই প্রভাব পড়েছে উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে। তেল সংকটের কারণে সঠিকভাবে পানি সেচ দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের। বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ দামে ডিজেল ক্রয়ে বেড়েছে খরচের পরিমাণ। এর সঙ্গে নতুন করে ধানে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ত্রিমুখী সংকটে পড়েছেন গাইবান্ধার কৃষকরা। সেচ সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও রোগবালাই এই তিন চাপে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকেই কৃষিপণ্যের চাষাবাদে খরচের পরিমাণ ঊর্ধ্বমুখী। বন্যা, খরা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতির পর এবার জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলসহ ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিননির্ভর চাষিরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। এছাড়াও সম্প্রতি ধানে ব্লাস্ট রোগ শুরু হওয়ায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে কয়েকগুণ। সমাধান পেতে কৃষি কর্মকর্তা ও কীটনাশকের বিভিন্ন দোকানে দৌঁড়াচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও ক্ষতির শঙ্কায় পড়া কৃষকরা। দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে উৎপাদনে বড় ধাক্কার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে চাষবাদে আগাম পরামর্শ কিংবা পদক্ষেপ না থাকলেও ব্লাস্টের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় তৎপরতা বাড়িয়েছে কৃষি বিভাগ।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে গাইবান্ধার সাত উপজেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে গাইবান্ধার কৃষি বিভাগ। যার সমপরিমাণ জমিতে চাষাবাদও হয়েছে। এই ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ২৫ হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন ধান।

সরেজমিনে বুধবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠে মাঠে সবুজ ধানক্ষেত। অধিকাংশ জমিতে ধানের শীষ বের হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেতে বের হচ্ছে। তুলনামূলক কিছুটা দেরিতে রোপণ করা এবং হাইব্রিড জাতের ধান এখনো বের হয়নি। তবে থোর হচ্ছে।

পলাশবাড়ী উপজেলার কুমেদপুর থেকে তেল কিনতে আসা বাবলু মন্ডল বলেন, দুই ঘণ্টা হলো লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রোদে গা ভিজে যাচ্ছে।  গ্রামে ১ লিটার তেল ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেয়। ৪ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন তিনি।

বোয়ালী ইউনিয়নের রাধাকৃষ্ণপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কুলসুম বলেন, ওই এলাকার আগাম ধান লাগানো কিছু জমিতে ব্লাস্ট রোগটি দেখা দিয়েছে। মূলত আবহাওয়াজনিত কারণে রোগটি হয়ে থাকে। ওই সকল আক্রান্ত জমি পরিদর্শন করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্যদের আগাম পদক্ষেপ নিতেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাদেকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে কোন কোন এলাকয় ব্লাস্ট তা জেনে নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন এবং তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।