ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসে এসেছে ৫৮ ফুট দৈর্ঘ্যের মৃত বেলিন প্রজাতির তিমি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভেসে এসেছে বিশালাকৃতির ৫৮ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং ২০ ফুট প্রস্থের একটি মৃত তিমি মাছ। এটি ‘বেলিন প্রজাতির’ তিমি বলে জানা গেছে। আজ বুধবার দুপুর দুইটার জোয়ারে সৈকতের ঝাউ বাগান সংলগ্ন পূর্বপাশে তিমিটি ভেসে আসে।

স্থানীয় কয়েকজন জেলে জানান, এর আগে জেলেরা কুয়াকাটা থেকে ১৫ কিলোমিটার গভীর সাগরে মৃত তিমি মাছটিকে ভাসতে দেখেন জেলেরা। দুপুর দুইটায় জোয়ারের পানিতে ভেসে এসে সৈকতের ঝাউ বাগান সংলগ্ন পূর্বপাশে আটকা পড়ে।
কুয়াকাটা ঝাউ বাগানের পূর্ব পাশে বড় আকারের  মৃত তিমি মাছটি এসে আটকা পড়েছে এমন খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিমিটি উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে তিমিটি অর্ধগলিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন মৃত তিমি মাছটিকে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছেন, শেষ পর্যন্ত সেটা সম্ভব না হলে মাটি চাপা দেয়ার চিন্তা করছে উপজেলা প্রশাসন।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। তবে কি কারণে তিমিটি মারা গেছে তা খুঁজে বের করা দরকার।
বিশেষজ্ঞদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ‘বেলিন তিমি’ সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, যাদের দাঁতের পরিবর্তে মুখে ‘বেলিন’ নামের ঝালরের মতো প্লেট থাকে। এরা এই বেলিনের সাহায্যে সমুদ্রের পানি ছেঁকে অতি ক্ষুদ্র ক্রিল ও প্ল্যাঙ্কটন খেয়ে বেঁচে থাকে। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমি এই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত।
এরা মুখে থাকা কেরাটিন নির্মিত শক্ত কিন্তু নমনীয় বেলিন প্লেট দিয়ে পানি ছেঁকে খাবার খায়। এরা আকারে বিশাল হয়। দৈর্ঘ্য ২০ ফুট থেকে শুরু করে ১০০ ফুট (নীল তিমি) পর্যন্ত হতে পারে। এদের মাথার ওপর দুটি শ্বাসছিদ্র বা ব্লোহোল থাকে।
বেলিন প্রজাতির তিমি (যেমন—নীল তিমি, কুঁজপিঠ তিমি এবং রাইট তিমি) পৃথিবীর প্রায় সব মহাসাগরেই পাওয়া যায়। তবে প্রচুর খাদ্যের (ক্রিল) খোঁজে গ্রীষ্মকালে এরা মেরু অঞ্চলের আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক মহাসাগরে এবং শীতকালে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে পরিভ্রমণ করে থাকে।


শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘কুয়াকাটা উপকূলে তিমি ভেসে আসার ঘটনা সামুদ্রিক প্রতিবেশের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা বা নেক্রোপসি অত্যন্ত জরুরী। সাধারণত জালে আটকে যাওয়া, জাহাজের আঘাত, অসুস্থতা, প্লাস্টিক দূষণ, খাদ্য সংকট কিংবা সমুদ্রের স্রোতের কারণে মৃত বা দুর্বল তিমি তীরে ভেসে আসতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বারবার এ ধরণের ঘটনা ঘটলেও তিমির পেটে কী ছিল, শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে কি না, কিংবা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী; এসব বিষয়ে আমরা স্পষ্ট তথ্য পাচ্ছি না। যাঁরা তিমির দেহ সরানো বা দাফনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাঁদের মাধ্যমেও নমুনা সংগ্রহ ও কারণ অনুসন্ধানের ব্যবস্থা করা দরকার।’
একই সঙ্গে উপকূলে সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসার ঘটনা নিয়মিত মনিটরিং করা, জেলেদের সচেতন করা এবং জালে তিমি বা ডলফিন আটকে গেলে কীভাবে নিরাপদে ছাড়িয়ে দিতে হবে; সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে বন বিভাগের এক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, ‘আমরাও খবর পেয়েছি। মৃত এ তিমি মাছটিকে সংরক্ষণ করা যায় কিনা, সেটা ভেবে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ এবং মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাথে কথা বলেছি। আমরা সমুদ্রের বড় প্রাণী এ তিমিকে সর্বোপরি সংরক্ষণ করার চেষ্টা করবো। শেষ পর্যন্ত সেটা সম্ভব না হলে মাটি চাপা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
খেপুপাড়া মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাজী বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘তিমি মাছটা আসলে অনেকদিন আগে মারা গেছে। এর শরীরের বিভিন্ন অংশ পঁচে গেছে। নারী-ভূরিও বের হয়ে গেছে। এটি সংরক্ষণ করার অবস্থায় নাই। এটাকে মাটিতে পুতে ফেলাটাই যথাযথ হবে। সংশ্লিষ্ট সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসে এসেছে ৫৮ ফুট দৈর্ঘ্যের মৃত বেলিন প্রজাতির তিমি

প্রকাশিত : ০৭:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভেসে এসেছে বিশালাকৃতির ৫৮ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং ২০ ফুট প্রস্থের একটি মৃত তিমি মাছ। এটি ‘বেলিন প্রজাতির’ তিমি বলে জানা গেছে। আজ বুধবার দুপুর দুইটার জোয়ারে সৈকতের ঝাউ বাগান সংলগ্ন পূর্বপাশে তিমিটি ভেসে আসে।

স্থানীয় কয়েকজন জেলে জানান, এর আগে জেলেরা কুয়াকাটা থেকে ১৫ কিলোমিটার গভীর সাগরে মৃত তিমি মাছটিকে ভাসতে দেখেন জেলেরা। দুপুর দুইটায় জোয়ারের পানিতে ভেসে এসে সৈকতের ঝাউ বাগান সংলগ্ন পূর্বপাশে আটকা পড়ে।
কুয়াকাটা ঝাউ বাগানের পূর্ব পাশে বড় আকারের  মৃত তিমি মাছটি এসে আটকা পড়েছে এমন খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিমিটি উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে তিমিটি অর্ধগলিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন মৃত তিমি মাছটিকে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছেন, শেষ পর্যন্ত সেটা সম্ভব না হলে মাটি চাপা দেয়ার চিন্তা করছে উপজেলা প্রশাসন।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। তবে কি কারণে তিমিটি মারা গেছে তা খুঁজে বের করা দরকার।
বিশেষজ্ঞদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ‘বেলিন তিমি’ সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, যাদের দাঁতের পরিবর্তে মুখে ‘বেলিন’ নামের ঝালরের মতো প্লেট থাকে। এরা এই বেলিনের সাহায্যে সমুদ্রের পানি ছেঁকে অতি ক্ষুদ্র ক্রিল ও প্ল্যাঙ্কটন খেয়ে বেঁচে থাকে। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমি এই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত।
এরা মুখে থাকা কেরাটিন নির্মিত শক্ত কিন্তু নমনীয় বেলিন প্লেট দিয়ে পানি ছেঁকে খাবার খায়। এরা আকারে বিশাল হয়। দৈর্ঘ্য ২০ ফুট থেকে শুরু করে ১০০ ফুট (নীল তিমি) পর্যন্ত হতে পারে। এদের মাথার ওপর দুটি শ্বাসছিদ্র বা ব্লোহোল থাকে।
বেলিন প্রজাতির তিমি (যেমন—নীল তিমি, কুঁজপিঠ তিমি এবং রাইট তিমি) পৃথিবীর প্রায় সব মহাসাগরেই পাওয়া যায়। তবে প্রচুর খাদ্যের (ক্রিল) খোঁজে গ্রীষ্মকালে এরা মেরু অঞ্চলের আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক মহাসাগরে এবং শীতকালে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে পরিভ্রমণ করে থাকে।


শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘কুয়াকাটা উপকূলে তিমি ভেসে আসার ঘটনা সামুদ্রিক প্রতিবেশের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা বা নেক্রোপসি অত্যন্ত জরুরী। সাধারণত জালে আটকে যাওয়া, জাহাজের আঘাত, অসুস্থতা, প্লাস্টিক দূষণ, খাদ্য সংকট কিংবা সমুদ্রের স্রোতের কারণে মৃত বা দুর্বল তিমি তীরে ভেসে আসতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বারবার এ ধরণের ঘটনা ঘটলেও তিমির পেটে কী ছিল, শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে কি না, কিংবা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী; এসব বিষয়ে আমরা স্পষ্ট তথ্য পাচ্ছি না। যাঁরা তিমির দেহ সরানো বা দাফনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাঁদের মাধ্যমেও নমুনা সংগ্রহ ও কারণ অনুসন্ধানের ব্যবস্থা করা দরকার।’
একই সঙ্গে উপকূলে সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসার ঘটনা নিয়মিত মনিটরিং করা, জেলেদের সচেতন করা এবং জালে তিমি বা ডলফিন আটকে গেলে কীভাবে নিরাপদে ছাড়িয়ে দিতে হবে; সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে বন বিভাগের এক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, ‘আমরাও খবর পেয়েছি। মৃত এ তিমি মাছটিকে সংরক্ষণ করা যায় কিনা, সেটা ভেবে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ এবং মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাথে কথা বলেছি। আমরা সমুদ্রের বড় প্রাণী এ তিমিকে সর্বোপরি সংরক্ষণ করার চেষ্টা করবো। শেষ পর্যন্ত সেটা সম্ভব না হলে মাটি চাপা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
খেপুপাড়া মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাজী বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘তিমি মাছটা আসলে অনেকদিন আগে মারা গেছে। এর শরীরের বিভিন্ন অংশ পঁচে গেছে। নারী-ভূরিও বের হয়ে গেছে। এটি সংরক্ষণ করার অবস্থায় নাই। এটাকে মাটিতে পুতে ফেলাটাই যথাযথ হবে। সংশ্লিষ্ট সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’