ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

ইরান ইস্যুতে মার্কিন পার্লামেন্টে রেজল্যুশন পাসে ব্যাপক ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০২:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • ৯ বার দেখা হয়েছে

ইরানে যুদ্ধ থামানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসে রেজল্যুশন পাসের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রেজল্যুশনটিকে ‘নিরর্থক’ এবং ‘দেশপ্রেমহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি, সেই সঙ্গে দলের যেসব এমপি রেজল্যুশনটিকে সমর্থন করে ভোট দিয়েছেন, তাদেরও কঠোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “গতকাল কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে একটি নিরর্থক রেজল্যুশন পাস হয়েছে। ৪ জন বাজে রিপাবলিকান এমপি তাতে ভোটও দিয়েছেন। আমার যুদ্ধ সংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করতেই এই রেজল্যুশন আনা হয়েছে এবং এমন এক সময়ে এটি পাস করা হয়েছে, যখন আমরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবসান সংক্রান্ত আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি।”

গতকাল বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে একটি রেজল্যুশন বিল উত্থাপন করে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। বিলটির বক্তব্য ছিল, ইরান যুদ্ধের জন্য যেসব মার্কিন সেনা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থান করছে— তাদের এই অবস্থান অব্যাহত রাখতে হলে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে। আরও বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদনের আগ পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের জন্য মোতায়েনকৃত সব মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহার করে আনতে হবে।

ভোটপর্ব শেষে দেখা যায়, প্রতিনিধি পরিষদের ২১৫ জন এমপি বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন, আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২০৮ জন এমপি। বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির উত্থাপিত এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন সরকারি দল রিপাবলিকান পার্টির ৪ জন এমপিও।

রিপাবলিক পার্টির যে চার এমপি রেজল্যুশনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তারা হলেন মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর এমপি ডেভিডসন, পেনসিলভেনিয়ার এমপি ফিটজপ্যাট্রিক এবং কেন্টাকির এমপি টমাস ম্যাসি।

প্রতিনিধি পরিষদের এমপি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য গ্রেগরি মিকস রয়টার্সকে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে উল্লেখ আছে যে, কংগ্রেসের অনুমোদন ব্যতীত প্রেসিডেন্ট কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবেন না। ইরান যুদ্ধ ঘোষণার আগে কংগ্রেসের সঙ্গে এ ইস্যুতে কোনো প্রকার আলোচনাই করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।”

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “এমন দেশদ্রোহী কাজ কারা করতে পারে? আলোচনা কোন পর্যায়ে আছে তা তারা জানে? ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প-বিদ্বেষী মানসিকতায় চালিত হচ্ছে। আমাকে আরও একটি, এবং আরও অনেক বিজয় দেওয়ার চেয়ে তারা বরং আমাদের দেশের ব্যর্থতাকেই শ্রেয় মনে করে।”

“আর ওই চারজন রিপাবলিকান এমপির ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন – তারা শুধু লোক দেখানো কাজ করে! তাদের নিজেদেরই লজ্জিত হওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দু’দশকের মতবিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। তারপর টানা ৪০ দিনের সংঘাত শেষে গত ৮ এপ্রিল ইরানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখনও সেই বিরতি চলছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি করা; কিন্তু বিরতির পর প্রায় ২ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও এ ব্যাপারে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

আপাতত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য স্বস্তির ব্যাপার হলো— রেজল্যুশনটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। কারণ প্রতিনিধি পরিষদে পাসের পর এটি এখন যাবে উচ্চকক্ষ সিনেটে। সেখানে এই রেজল্যুশন নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক পর্ব শেষে ভোট হবে। সেই ভোটেও যদি রেজল্যুশনটি পাস হয়— তখন সেটি কার্যকর হবে।

ইরান ইস্যুতে মার্কিন পার্লামেন্টে রেজল্যুশন পাসে ব্যাপক ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

প্রকাশিত : ০২:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

ইরানে যুদ্ধ থামানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসে রেজল্যুশন পাসের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রেজল্যুশনটিকে ‘নিরর্থক’ এবং ‘দেশপ্রেমহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি, সেই সঙ্গে দলের যেসব এমপি রেজল্যুশনটিকে সমর্থন করে ভোট দিয়েছেন, তাদেরও কঠোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “গতকাল কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে একটি নিরর্থক রেজল্যুশন পাস হয়েছে। ৪ জন বাজে রিপাবলিকান এমপি তাতে ভোটও দিয়েছেন। আমার যুদ্ধ সংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করতেই এই রেজল্যুশন আনা হয়েছে এবং এমন এক সময়ে এটি পাস করা হয়েছে, যখন আমরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবসান সংক্রান্ত আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি।”

গতকাল বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে একটি রেজল্যুশন বিল উত্থাপন করে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। বিলটির বক্তব্য ছিল, ইরান যুদ্ধের জন্য যেসব মার্কিন সেনা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থান করছে— তাদের এই অবস্থান অব্যাহত রাখতে হলে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে। আরও বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদনের আগ পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের জন্য মোতায়েনকৃত সব মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহার করে আনতে হবে।

ভোটপর্ব শেষে দেখা যায়, প্রতিনিধি পরিষদের ২১৫ জন এমপি বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন, আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২০৮ জন এমপি। বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির উত্থাপিত এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন সরকারি দল রিপাবলিকান পার্টির ৪ জন এমপিও।

রিপাবলিক পার্টির যে চার এমপি রেজল্যুশনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তারা হলেন মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর এমপি ডেভিডসন, পেনসিলভেনিয়ার এমপি ফিটজপ্যাট্রিক এবং কেন্টাকির এমপি টমাস ম্যাসি।

প্রতিনিধি পরিষদের এমপি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য গ্রেগরি মিকস রয়টার্সকে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে উল্লেখ আছে যে, কংগ্রেসের অনুমোদন ব্যতীত প্রেসিডেন্ট কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবেন না। ইরান যুদ্ধ ঘোষণার আগে কংগ্রেসের সঙ্গে এ ইস্যুতে কোনো প্রকার আলোচনাই করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।”

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “এমন দেশদ্রোহী কাজ কারা করতে পারে? আলোচনা কোন পর্যায়ে আছে তা তারা জানে? ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প-বিদ্বেষী মানসিকতায় চালিত হচ্ছে। আমাকে আরও একটি, এবং আরও অনেক বিজয় দেওয়ার চেয়ে তারা বরং আমাদের দেশের ব্যর্থতাকেই শ্রেয় মনে করে।”

“আর ওই চারজন রিপাবলিকান এমপির ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন – তারা শুধু লোক দেখানো কাজ করে! তাদের নিজেদেরই লজ্জিত হওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দু’দশকের মতবিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। তারপর টানা ৪০ দিনের সংঘাত শেষে গত ৮ এপ্রিল ইরানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখনও সেই বিরতি চলছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি করা; কিন্তু বিরতির পর প্রায় ২ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও এ ব্যাপারে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

আপাতত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য স্বস্তির ব্যাপার হলো— রেজল্যুশনটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। কারণ প্রতিনিধি পরিষদে পাসের পর এটি এখন যাবে উচ্চকক্ষ সিনেটে। সেখানে এই রেজল্যুশন নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক পর্ব শেষে ভোট হবে। সেই ভোটেও যদি রেজল্যুশনটি পাস হয়— তখন সেটি কার্যকর হবে।