ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে দেশটির অন্যতম প্রধান তেল টার্মিনালে রাতভর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পিটার্সবার্গে হামলার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তেল টার্মিনালটিকে রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলের জোগান দেওয়া প্রধান রাজস্ব অবকাঠামো হিসেবে অভিহিত করেছেন জেলেনস্কি। তেল টার্মিনালের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের প্রধান একটি রুশ নৌঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন।

সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকসান্দ্র বেগলোভ বলেছেন, শহরটি ব্যাপক ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে এবং তেল টার্মিনালে হামলার তথ্য স্বীকার করেছেন তিনি। তবে এই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। এসব হামলায় দেশটিতে ব্যাপক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। কিয়েভ বলেছে, ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর সক্ষমতার প্রায় ৪৩ শতাংশ অচল হয়ে পড়েছে।

তবে ইউক্রেনের এই দাবির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ইউক্রেন বলছে, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো তাদের বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু। কারণ মস্কো যুদ্ধ তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার জন্য খনিজ জ্বালানি রপ্তানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ইউক্রেনীয় হামলায় জ্বালানি ঘাটতি দেখা দেওয়ার বিষয়ে গত সপ্তাহে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিরল স্বীকারোক্তি দেন। এরপর শনিবার তিনি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বিলে স্বাক্ষর করে সেটিকে আইনে পরিণত করেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করেন পুতিন। শনিবার সকালের দিকে জেলেনস্কি বলেছেন, সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং এর আশপাশের অঞ্চলে যেসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, সেগুলো ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি। তবে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর দিকে উড়ে যাচ্ছে এবং আঘাত হানার পর ওই এলাকা থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলি বাতাসে ভাসছে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এই টার্মিনালকে রাশিয়ার ‌‌অন্যতম বৃহৎ স্থাপনা হিসেবে দাবি করেছে। রুশ এই টার্মিনালের বার্ষিক ১ কোটি ২৫ লাখ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা

রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা

প্রকাশিত : ১২:১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে দেশটির অন্যতম প্রধান তেল টার্মিনালে রাতভর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পিটার্সবার্গে হামলার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তেল টার্মিনালটিকে রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলের জোগান দেওয়া প্রধান রাজস্ব অবকাঠামো হিসেবে অভিহিত করেছেন জেলেনস্কি। তেল টার্মিনালের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের প্রধান একটি রুশ নৌঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন।

সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকসান্দ্র বেগলোভ বলেছেন, শহরটি ব্যাপক ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে এবং তেল টার্মিনালে হামলার তথ্য স্বীকার করেছেন তিনি। তবে এই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। এসব হামলায় দেশটিতে ব্যাপক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। কিয়েভ বলেছে, ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর সক্ষমতার প্রায় ৪৩ শতাংশ অচল হয়ে পড়েছে।

তবে ইউক্রেনের এই দাবির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ইউক্রেন বলছে, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো তাদের বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু। কারণ মস্কো যুদ্ধ তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার জন্য খনিজ জ্বালানি রপ্তানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ইউক্রেনীয় হামলায় জ্বালানি ঘাটতি দেখা দেওয়ার বিষয়ে গত সপ্তাহে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিরল স্বীকারোক্তি দেন। এরপর শনিবার তিনি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বিলে স্বাক্ষর করে সেটিকে আইনে পরিণত করেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করেন পুতিন। শনিবার সকালের দিকে জেলেনস্কি বলেছেন, সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং এর আশপাশের অঞ্চলে যেসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, সেগুলো ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি। তবে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর দিকে উড়ে যাচ্ছে এবং আঘাত হানার পর ওই এলাকা থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলি বাতাসে ভাসছে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এই টার্মিনালকে রাশিয়ার ‌‌অন্যতম বৃহৎ স্থাপনা হিসেবে দাবি করেছে। রুশ এই টার্মিনালের বার্ষিক ১ কোটি ২৫ লাখ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।