ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোয় পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনে ইসরো থেকে শতাধিক বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ একসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন। এর ফলে ভারতের মহাকাশ গবেষণা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, যারা গুরুত্বপূর্ণ মিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
• কেন এই সংকট?
ভারতের মহাকাশ গবেষণা গত দুই দশকে এমন কর্মীসংকটে কখনো পড়েনি। কেন্দ্রীয় সরকারের মহাকাশ বিষয়ক দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, গবেষণার জন্য ২০ হাজারের বেশি পদ বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এখন ১৫ হাজারও কর্মী নেই। সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি পদ খালি। অর্থাৎ এক-চতুর্থাংশের বেশি পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। অতীতেও পদের তুলনায় কম সংখ্যক কর্মী যুক্ত ছিলেন মহাকাশ গবেষণায়। তবে এখনকার মতো পরিস্থিতি গত বছর ছাড়া আর কখনো হয়নি।
চাকরি ছাড়ার তালিকায় অন্যতম বড় নাম ছিল ভিএসএসসির লঞ্চ ভেহিকল মার্ক-৩ প্রকল্পের তৎকালীন পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ভিক্টর জোসেফ টি। এই রকেটটিই গগনযান মিশনে ব্যবহার করা হবে, অথচ প্রকল্পের প্রধান হিসেবে ১৩ মাস দায়িত্ব পালনের পরে ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি পদত্যাগ করেন।
ইসরোতে গণ-পদত্যাগের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ এর অন্যতম কারণ। ২০২০ সালে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রকে বেসরকারি সংস্থার জন্য খুলে দেওয়ার পর থেকে গড়ে উঠেছে এই বিষয়ক স্টার্টআপ। ২০১৪ সালে মাত্র একটি মহাকাশ স্টার্টআপ ছিল, ২০২৫ সালের মধ্যে তার সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। এসব সংস্থা উপগ্রহ প্রযুক্তি, প্রপালশন ব্যবস্থা, ইমেজিং ও গবেষণার অন্য ক্ষেত্রে কাজ করছে।
স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস, বেলাট্রিক্স অ্যারোস্পেস, ধ্রুব স্পেসের মতো কোম্পানিতে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই এসেছে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার। এর ফলে সংস্থাগুলো আকর্ষণীয় বেতনের প্রস্তাব দিতে পারছে।
ইসরোতে কাজ শুরু করা বিজ্ঞানীর বার্ষিক প্রাপ্তি আনুমানিক ১০-১২ লাখ টাকা। ২০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীর সর্বোচ্চ বেতন বছরে ২৫ লাখের মতো। খোদ ইসরোর চেয়ারম্যানের বার্ষিক বেতন প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এর তুলনায় বেসরকারি স্টার্টআপে অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের অনেক বেশি বেতন লাভের সুযোগ রয়েছে।
ইসরোর সাবেক চেয়ারম্যান সি মাধবন নায়ার বলেন, সরকারি নীতির ফলে এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বেসরকারি সংস্থা মহাকাশ শিল্পে উঠে আসছে এই নীতিকে কাজে লাগিয়ে, তারা চার-পাঁচগুণ বেতন ও সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এতে ছাত্রছাত্রীরা আকৃষ্ট হতেই পারেন। যদিও এভাবে সুবিধা দেয়া অনৈতিক বলে আমি মনে করি।

ডেস্ক রিপোর্ট 























