ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

গাজীপুরে তীব্র গ্যাস সংকট: শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১০:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ ​দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকা ও সিএনজি পাম্প—সবখানেই গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। এর ফলে একদিকে যেমন কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুর সদর, কালিয়াকৈর, মৌচাক, কোনাবাড়ী, সফিপুর, রাজেন্দ্রপুর, শ্রীপুর ও মাওনা সহ পুরো শিল্প এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পোশাক খাতসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানার মালিকেরা। পর্যাপ্ত প্রেশার না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন প্রায় বন্ধের উপক্রম। নির্ধারিত সময়ে শিপমেন্ট করা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এলাকার সিএনজি পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। ফলে পাম্পগুলোর সামনে গ্যাস নিতে আসা গাড়ির মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চালকেরা কাঙ্ক্ষিত গ্যাস পাচ্ছেন না, যার প্রভাব পড়ছে গণপরিবহনেও। শুধু শিল্প বা পরিবহন খাতই নয়, আবাসিক এলাকাগুলোতেও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাসা-বাড়িতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই এলপিজি সিলিন্ডার বা মাটির চুলায় রান্না করছেন, যা সাধারণ মানুষের খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
গাজীপুরের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম এম মামুন-অর-রশিদ বলেন, গ্যাস সংকটের বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে। তবে কতটি কারখানা কী পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়েছে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, গ্যাস সংকট একটি চলমান সমস্যা এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
তিতাস গ্যাসের গাজীপুর জোনের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. গোলাম ফারুক জানান, গাজীপুর জেলা ও মহানগরে প্রতিদিন প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ৩০ কোটি ঘনফুট। চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধানই বর্তমান সংকটের মূল কারণ।
​স্থানীয় বাসিন্দারা ও ব্যবসায়ী নেতারা দ্রুত এই গ্যাস সংকট নিরসনে এবং শিল্পাঞ্চল সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে সিভিল সার্জনের জামিনা কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন, সেবার মান বাড়াতে তাগিদ

গাজীপুরে তীব্র গ্যাস সংকট: শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক

প্রকাশিত : ১০:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ ​দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকা ও সিএনজি পাম্প—সবখানেই গ্যাসের জন্য হাহাকার চলছে। এর ফলে একদিকে যেমন কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুর সদর, কালিয়াকৈর, মৌচাক, কোনাবাড়ী, সফিপুর, রাজেন্দ্রপুর, শ্রীপুর ও মাওনা সহ পুরো শিল্প এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পোশাক খাতসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানার মালিকেরা। পর্যাপ্ত প্রেশার না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন প্রায় বন্ধের উপক্রম। নির্ধারিত সময়ে শিপমেন্ট করা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এলাকার সিএনজি পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। ফলে পাম্পগুলোর সামনে গ্যাস নিতে আসা গাড়ির মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চালকেরা কাঙ্ক্ষিত গ্যাস পাচ্ছেন না, যার প্রভাব পড়ছে গণপরিবহনেও। শুধু শিল্প বা পরিবহন খাতই নয়, আবাসিক এলাকাগুলোতেও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাসা-বাড়িতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই এলপিজি সিলিন্ডার বা মাটির চুলায় রান্না করছেন, যা সাধারণ মানুষের খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
গাজীপুরের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম এম মামুন-অর-রশিদ বলেন, গ্যাস সংকটের বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে। তবে কতটি কারখানা কী পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়েছে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, গ্যাস সংকট একটি চলমান সমস্যা এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
তিতাস গ্যাসের গাজীপুর জোনের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. গোলাম ফারুক জানান, গাজীপুর জেলা ও মহানগরে প্রতিদিন প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ৩০ কোটি ঘনফুট। চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধানই বর্তমান সংকটের মূল কারণ।
​স্থানীয় বাসিন্দারা ও ব্যবসায়ী নেতারা দ্রুত এই গ্যাস সংকট নিরসনে এবং শিল্পাঞ্চল সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।