ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালিয়াকৈরে জমে উঠেছে ‘মাছ কাটা’র অর্থনীতি: বঁটি চালিয়ে দৈনিক আয় হাজার টাকা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০২:১৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: ফজরের আজান শেষ হতে না হতেই কর্মমুখর হয়ে ওঠে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রধান প্রধান বাজারগুলো। বাসস্ট্যান্ড, দোকানপাড়া, সফিপুর, মৌচাক ও বেনুপুর বাজারে সকাল থেকেই শুরু হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক। তবে এই পরিচিত দৃশ্যের সঙ্গেই যোগ হয়েছে এক নতুন ব্যস্ততা—মাছ কাটার ছন্দময় শব্দ।

মাছের আঁশ, পানি ও রক্তে ভেজা জায়গায় সকাল থেকেই বঁটির ঝনঝন শব্দে মুখরিত চারপাশ। আধুনিক জীবনযাত্রার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন হাটে গড়ে উঠেছে এই বিশেষ ‘মাছ কাটা সার্ভিস’। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে দেড় শতাধিক মানুষ সরাসরি এই কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

বাজারগুলোতে প্রতি কেজি সাধারণ মাছ কাটার জন্য নেওয়া হয় ২০ টাকা। পাঁচ কেজি মাছের ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক ১০০ টাকা। তবে খুব বড় আকারের মাছ কাটার ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয় তার আকার ও ওজনের ওপর নির্ভর করে।

সফিপুর বাজারের শ্রমিক রুবেল মিয়া (৩৫) জানান, “সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ করি। ভালো দিনে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। এই আয় দিয়েই সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনা ও ঘরভাড়া মেটাতে পারছি।”

এই পেশায় কেবল সাধারণ শ্রমিকই নন, যুক্ত হয়েছেন শিক্ষিত বেকার তরুণ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।

সোহেল রানা: এইচএসসি পাস করেও চাকরি না পেয়ে বিগত দুই বছর ধরে দোকানপাড়ায় মাছ কাটার কাজ করছেন। তার বাবা রিকশা চালান। সোহেল জানান, হাত কেটে যাওয়া বা রোদ-বৃষ্টির কষ্ট সহ্য করেও পেটের দায়ে নিয়মিত তাকে এ কাজে নামতে হয়।

রাকিব (১৯) কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের এই শিক্ষার্থী নিজের পড়ালেখার খরচ চালাতে অবসর সময়ে বাজারে মাছ কাটার কাজ বেছে নিয়েছেন।

ক্রেতা আয়েশা আক্তার বলেন, ”অফিসের ব্যস্ততা শেষে বাসায় গিয়ে মাছ কাটার সময় ও সুযোগ দুটোই কম থাকে। ২০ টাকা দিলেই মাছ পরিষ্কার করে কেটে দেয়, যা সময় ও মানসিক ঝক্কি দুটোই বাঁচায়।”

মাছ বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, “এই সার্ভিস চালু হওয়ার পর থেকে আমার মাছ বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। কাটাকুটির ঝামেলা না থাকায় মানুষ এখন নির্দ্বিধায় বড় মাছ কিনছে।”

কালিয়াকৈর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, “মাছ কাটার এই সেবা সাধারণ মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে যেমন ক্রেতারা উপকৃত হচ্ছেন, তেমনি শতাধিক মানুষের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে কাজের স্থান পরিষ্কার রাখা, বঁটি-ছুরি পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মাছের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা অত্যন্ত জরুরি।”

শ্রমিক নেতা বাবুল হোসেন জানান, “আমাদের রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করতে হয়। প্রায়ই বঁটির কোপে হাত কেটে যায়। পৌরসভা থেকে যদি একটি স্থায়ী টিনের শেড ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়, তবে শ্রমিকরা নিরাপদে ও স্বস্তিতে কাজ করতে পারবেন।”

বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও একমত প্রকাশ করে জানান, মাছ কাটার এই সেবাটি এখন বাজার ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিকদের মৌলিক সুবিধার জন্য তারা শিগগিরই পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

কালিয়াকৈরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

কালিয়াকৈরে জমে উঠেছে ‘মাছ কাটা’র অর্থনীতি: বঁটি চালিয়ে দৈনিক আয় হাজার টাকা

প্রকাশিত : ০২:১৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: ফজরের আজান শেষ হতে না হতেই কর্মমুখর হয়ে ওঠে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রধান প্রধান বাজারগুলো। বাসস্ট্যান্ড, দোকানপাড়া, সফিপুর, মৌচাক ও বেনুপুর বাজারে সকাল থেকেই শুরু হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক। তবে এই পরিচিত দৃশ্যের সঙ্গেই যোগ হয়েছে এক নতুন ব্যস্ততা—মাছ কাটার ছন্দময় শব্দ।

মাছের আঁশ, পানি ও রক্তে ভেজা জায়গায় সকাল থেকেই বঁটির ঝনঝন শব্দে মুখরিত চারপাশ। আধুনিক জীবনযাত্রার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন হাটে গড়ে উঠেছে এই বিশেষ ‘মাছ কাটা সার্ভিস’। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে দেড় শতাধিক মানুষ সরাসরি এই কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

বাজারগুলোতে প্রতি কেজি সাধারণ মাছ কাটার জন্য নেওয়া হয় ২০ টাকা। পাঁচ কেজি মাছের ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক ১০০ টাকা। তবে খুব বড় আকারের মাছ কাটার ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয় তার আকার ও ওজনের ওপর নির্ভর করে।

সফিপুর বাজারের শ্রমিক রুবেল মিয়া (৩৫) জানান, “সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ করি। ভালো দিনে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। এই আয় দিয়েই সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনা ও ঘরভাড়া মেটাতে পারছি।”

এই পেশায় কেবল সাধারণ শ্রমিকই নন, যুক্ত হয়েছেন শিক্ষিত বেকার তরুণ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।

সোহেল রানা: এইচএসসি পাস করেও চাকরি না পেয়ে বিগত দুই বছর ধরে দোকানপাড়ায় মাছ কাটার কাজ করছেন। তার বাবা রিকশা চালান। সোহেল জানান, হাত কেটে যাওয়া বা রোদ-বৃষ্টির কষ্ট সহ্য করেও পেটের দায়ে নিয়মিত তাকে এ কাজে নামতে হয়।

রাকিব (১৯) কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের এই শিক্ষার্থী নিজের পড়ালেখার খরচ চালাতে অবসর সময়ে বাজারে মাছ কাটার কাজ বেছে নিয়েছেন।

ক্রেতা আয়েশা আক্তার বলেন, ”অফিসের ব্যস্ততা শেষে বাসায় গিয়ে মাছ কাটার সময় ও সুযোগ দুটোই কম থাকে। ২০ টাকা দিলেই মাছ পরিষ্কার করে কেটে দেয়, যা সময় ও মানসিক ঝক্কি দুটোই বাঁচায়।”

মাছ বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, “এই সার্ভিস চালু হওয়ার পর থেকে আমার মাছ বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। কাটাকুটির ঝামেলা না থাকায় মানুষ এখন নির্দ্বিধায় বড় মাছ কিনছে।”

কালিয়াকৈর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, “মাছ কাটার এই সেবা সাধারণ মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে যেমন ক্রেতারা উপকৃত হচ্ছেন, তেমনি শতাধিক মানুষের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে কাজের স্থান পরিষ্কার রাখা, বঁটি-ছুরি পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মাছের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা অত্যন্ত জরুরি।”

শ্রমিক নেতা বাবুল হোসেন জানান, “আমাদের রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করতে হয়। প্রায়ই বঁটির কোপে হাত কেটে যায়। পৌরসভা থেকে যদি একটি স্থায়ী টিনের শেড ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়, তবে শ্রমিকরা নিরাপদে ও স্বস্তিতে কাজ করতে পারবেন।”

বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও একমত প্রকাশ করে জানান, মাছ কাটার এই সেবাটি এখন বাজার ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিকদের মৌলিক সুবিধার জন্য তারা শিগগিরই পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।