ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক হাতে বই, অন্য হাতে গাছ কলাপাড়ায় ৩৭২ শিক্ষার্থীর সবুজ স্বপ্ন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৬:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: এক হাতে বই-খাতা, অন্য হাতে একটি করে ফলদ গাছের চারা। বিদ্যালয়ের আঙিনা থেকে বাড়ির উঠান-গাছটি বড় করার দায়িত্বও যেন শিক্ষার্থীদেরই।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৩৭২ শিক্ষার্থীর হাতে ফলদ গাছের চারা তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়েছে এমনই একটি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে গাছের চারা দেওয়া হয়। আম, কাঁঠাল, জাম, আমলকি ও পেয়ারা-বিভিন্ন ধরনের ফলদ গাছের চারা পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা), নদী-খাল রক্ষা অধিকার আন্দোলন ‘ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ’ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
চারা বিতরণের সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। কার হাতে কোন গাছের চার-এ নিয়ে ছিল কৌতূহল।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিক আব্দুল্লাহ পেয়েছে একটি কাঁঠালগাছের চারা। গাছটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রোপণ করার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যার কথাও জানিয়েছে সে।
সাদিক বলে, গাছটি বড় হলে একদিকে যেমন ফল পাওয়া যাবে, অন্যদিকে পরিবেশও ভালো থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করে সে।
আয়োজকদের মতে, একটি চারা শুধু একটি গাছের শুরু নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ, পরিবেশের ভারসাম্য এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী তৈরির সম্ভাবনা।
উপকূলীয় এলাকা কলাপাড়ায় পরিবেশের ওপর নানা ধরনের চাপ রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বিষয়গুলো এ অঞ্চলের মানুষের জীবনে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব ফেলছে।

এমন বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন আয়োজকেরা।
তাঁরা বলছেন, শুধু বড়দের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করলেই হবে না। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের গাছ, নদী, মাটি ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলতে হবে।
সেই ভাবনা থেকেই শিক্ষার্থীদের হাতে সরাসরি ফলদ গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীরা বাড়িতে গিয়ে চারা রোপণ করবে এবং নিয়মিত পরিচর্যা করবে। একটি শিক্ষার্থী একটি গাছ বড় করে তুললে তার প্রভাব শুধু একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়বে পুরো এলাকায়।
কর্মসূচির আয়োজকেরা বলছেন, তাঁদের লক্ষ্য শুধু কয়েক শ শিক্ষার্থীর মধ্যে চারা বিতরণ করা নয়। উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
‘বৃক্ষরোপণ করি, সবুজ দেশ গড়ি’-এই প্রত্যয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করার পাশাপাশি তাঁদের বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে চান তাঁরা।
চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান।
এ সময় জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবনী কুমার রায়, লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস, ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা)-এর কলাপাড়া সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশের কুয়াকাটা প্রতিনিধি কামাল হাসান রনি, ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’র সংগঠক নজরুল ইসলাম এবং প্লাটেনিয়ার্স ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দেওয়ার পরই কর্মসূচির দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে কি না এবং সেগুলোর পরিচর্যা হচ্ছে কি না-সেদিকেও নজর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তাঁদের ভাষায়, একটি গাছ বাঁচিয়ে রাখা একটি চারা বিতরণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু চারা দেওয়া নয়, গাছটির দায়িত্ব নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা)-এর কলাপাড়া সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু জানান, কলাপাড়ায় এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। ধীরে ধীরে আরও শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষকে এর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
আজ যে ছোট চারাটি শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হলো, কয়েক বছর পর সেটিই হয়তো বড় হয়ে ছায়া দেবে, ফল দেবে। আর সেই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে কোনো একদিন সেই শিক্ষার্থী হয়তো মনে করবে-একদিন বিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়েছিল তার গাছ লাগানোর গল্প।

এক হাতে বই, অন্য হাতে গাছ কলাপাড়ায় ৩৭২ শিক্ষার্থীর সবুজ স্বপ্ন

প্রকাশিত : ০৬:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: এক হাতে বই-খাতা, অন্য হাতে একটি করে ফলদ গাছের চারা। বিদ্যালয়ের আঙিনা থেকে বাড়ির উঠান-গাছটি বড় করার দায়িত্বও যেন শিক্ষার্থীদেরই।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৩৭২ শিক্ষার্থীর হাতে ফলদ গাছের চারা তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়েছে এমনই একটি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে গাছের চারা দেওয়া হয়। আম, কাঁঠাল, জাম, আমলকি ও পেয়ারা-বিভিন্ন ধরনের ফলদ গাছের চারা পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা), নদী-খাল রক্ষা অধিকার আন্দোলন ‘ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ’ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
চারা বিতরণের সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। কার হাতে কোন গাছের চার-এ নিয়ে ছিল কৌতূহল।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিক আব্দুল্লাহ পেয়েছে একটি কাঁঠালগাছের চারা। গাছটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রোপণ করার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যার কথাও জানিয়েছে সে।
সাদিক বলে, গাছটি বড় হলে একদিকে যেমন ফল পাওয়া যাবে, অন্যদিকে পরিবেশও ভালো থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করে সে।
আয়োজকদের মতে, একটি চারা শুধু একটি গাছের শুরু নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ, পরিবেশের ভারসাম্য এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী তৈরির সম্ভাবনা।
উপকূলীয় এলাকা কলাপাড়ায় পরিবেশের ওপর নানা ধরনের চাপ রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বিষয়গুলো এ অঞ্চলের মানুষের জীবনে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব ফেলছে।

এমন বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন আয়োজকেরা।
তাঁরা বলছেন, শুধু বড়দের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করলেই হবে না। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের গাছ, নদী, মাটি ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলতে হবে।
সেই ভাবনা থেকেই শিক্ষার্থীদের হাতে সরাসরি ফলদ গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীরা বাড়িতে গিয়ে চারা রোপণ করবে এবং নিয়মিত পরিচর্যা করবে। একটি শিক্ষার্থী একটি গাছ বড় করে তুললে তার প্রভাব শুধু একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়বে পুরো এলাকায়।
কর্মসূচির আয়োজকেরা বলছেন, তাঁদের লক্ষ্য শুধু কয়েক শ শিক্ষার্থীর মধ্যে চারা বিতরণ করা নয়। উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
‘বৃক্ষরোপণ করি, সবুজ দেশ গড়ি’-এই প্রত্যয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করার পাশাপাশি তাঁদের বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে চান তাঁরা।
চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান।
এ সময় জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবনী কুমার রায়, লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস, ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা)-এর কলাপাড়া সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশের কুয়াকাটা প্রতিনিধি কামাল হাসান রনি, ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’র সংগঠক নজরুল ইসলাম এবং প্লাটেনিয়ার্স ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দেওয়ার পরই কর্মসূচির দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে কি না এবং সেগুলোর পরিচর্যা হচ্ছে কি না-সেদিকেও নজর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তাঁদের ভাষায়, একটি গাছ বাঁচিয়ে রাখা একটি চারা বিতরণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু চারা দেওয়া নয়, গাছটির দায়িত্ব নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা)-এর কলাপাড়া সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু জানান, কলাপাড়ায় এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। ধীরে ধীরে আরও শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষকে এর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
আজ যে ছোট চারাটি শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হলো, কয়েক বছর পর সেটিই হয়তো বড় হয়ে ছায়া দেবে, ফল দেবে। আর সেই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে কোনো একদিন সেই শিক্ষার্থী হয়তো মনে করবে-একদিন বিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়েছিল তার গাছ লাগানোর গল্প।