ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজার হতে পারে বিশ্ব পর্যটনের প্রবেশদ্বার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৪:৩০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটন উন্নয়নকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ বানানোর প্রয়োজন নেই। বরং পরিবেশবান্ধব পর্যটনই হতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ। একটি গাছ কাটার প্রয়োজন হলে তার পরিবেশগত মূল্যায়ন যেমন জরুরি, তেমনি বিকল্প বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাও জরুরি। কোথাও বালিয়াড়ি রক্ষা করতে হবে, কোথাও জলাভূমি রক্ষা করতে হবে, আবার কোথাও পর্যটকের জন্য নিরাপদ হাঁটার পথ তৈরি করতে হবে। সব সিদ্ধান্তই হওয়া উচিত বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে।

পর্যটন উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে স্থানীয় মানুষ। কক্সবাজারের মানুষ শুধু পর্যটকের কাছে দোকানদার বা পরিবহনকর্মী হয়ে থাকবে কেন? তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ট্যুর গাইড, লাইফগার্ড, শেফ, হোটেলকর্মী, ট্রাভেল অপারেটর, নৌযান পরিচালনাকারী, হস্তশিল্প উদ্যোক্তা এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনার অংশীদার করা সম্ভব। এতে পর্যটনের আয় স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়বে।

একজন বিদেশি পর্যটক একটি হোটেলে টাকা খরচ করবেন, রেস্টুরেন্টে খাবেন, স্থানীয় পণ্য কিনবেন, পরিবহন ব্যবহার করবেন, গাইড নেবেন। অর্থাৎ একজন পর্যটক কেবল একজন দর্শনার্থী নন, তিনি একটি অর্থনৈতিক চেইন তৈরি করেন। তাঁর ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি, মৎস্য, হস্তশিল্প এবং অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান।

আরেকটি বিষয় আমাদের গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। কক্সবাজারে শুধু পর্যটক আনলেই হবে না, তাঁকে কয়েক দিন ধরে রাখতে হবে। তিন দিনের প্যাকেজ, পাঁচ দিনের প্যাকেজ, পরিবারভিত্তিক প্যাকেজ, অ্যাডভেঞ্চার প্যাকেজ, ইকো-ট্যুরিজম প্যাকেজ, কনভেনশন ও কনফারেন্স ট্যুরিজম, ওয়েলনেস ট্যুরিজম, সামুদ্রিক খাবার ও স্থানীয় সংস্কৃতিভিত্তিক প্যাকেজ তৈরি করা যেতে পারে। কক্সবাজারের সঙ্গে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রকে যুক্ত করে সমন্বিত ট্যুর প্যাকেজ তৈরি করা হলে একজন বিদেশি পর্যটক শুধু কক্সবাজারে এসে ফিরে যাবেন না। তিনি বাংলাদেশে আরও কয়েক দিন অবস্থান করবেন। বাড়বে তাঁর ব্যয়, বাড়বে দেশের পর্যটন আয়।
রাষ্ট্রকেও কক্সবাজারকে শুধু পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প হিসেবে দেখলে চলবে না। এটিকে অর্থনীতি, বেসামরিক বিমান চলাচল, স্বরাষ্ট্র, পরিবেশ, স্থানীয় সরকার, সড়ক ও যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং বেসরকারি খাতের সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখতে হবে। সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি স্বচ্ছ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, কিন্তু সৈকত, বালিয়াড়ি, পরিবেশ ও জনস্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রেরই থাকবে। পর্যটন উন্নয়নের নামে যেন অপরিকল্পিত দখলদারিত্ব বা অবকাঠামোগত বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সে জন্য শক্তিশালী মাস্টারপ্ল্যান এবং কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।

কক্সবাজার নিয়ে আমাদের মানসিকতাও বদলাতে হবে। শুধু ঈদের ছুটিতে লাখো মানুষের ভিড় আর হোটেল ব্যবসা দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্প তৈরি হয় না। আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্প মানে সারা বছর পর্যটক, সারা বছর কর্মসংস্থান এবং সারা বছর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ। এ শিল্পে বিমানবন্দর থেকে সৈকত, হোটেল থেকে রেস্টুরেন্ট, নিরাপত্তা থেকে পরিবেশ, বিনোদন থেকে সংস্কৃতি, সবকিছুকে একটি সুতোয় বাঁধতে হয়।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা বিশাল। সরকারি নথিতে টেকসই পর্যটন উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রচার, পর্যটন অবকাঠামো আধুনিকীকরণ এবং কক্সবাজারে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সুবিধা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা রয়েছে। এখন প্রয়োজন পরিকল্পনাগুলোকে কাগজ থেকে বাস্তবে নিয়ে আসা। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়নের পথে এগোয়, তাহলে কক্সবাজার শুধু দেশের মানুষের বিনোদনের জায়গা থাকবে না, এটি হয়ে উঠতে পারে একটি বড় অর্থনৈতিক কর্মকেন্দ্র।

কক্সবাজারের সমুদ্র বাংলাদেশের মানুষের। এই সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করার অধিকারও এ দেশের মানুষের। তাই সাধারণ মানুষের জন্য সৈকত উন্মুক্ত থাকুক। পাশাপাশি এক বা একাধিক আন্তর্জাতিক মানের বিশেষ পর্যটন জোন তৈরি হোক, যেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটক অর্থের বিনিময়ে উন্নত সেবা গ্রহণ করবেন। সেই আয় থেকে সৈকতের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করা যেতে পারে। বিদেশি পর্যটক ডলার খরচ করবেন, বাংলাদেশি পর্যটক টাকা খরচ করবেন, কিন্তু উভয়ের ব্যয়ই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হবে।

কক্সবাজারকে যদি আমরা শুধু বেড়ানোর জায়গা হিসেবে দেখি, তাহলে আমরা এর সৌন্দর্য দেখব। কিন্তু যদি একে জাতীয় অর্থনীতির সম্পদ হিসেবে দেখি, তাহলে এর সম্ভাবনাও দেখতে পাব। বিশ্বের অনেক দেশ তাদের প্রাকৃতিক সম্পদকে পর্যটন অর্থনীতিতে রূপান্তর করে এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশও সেই পথে এগোতে পারে। তবে তার জন্য দরকার সাহসী সিদ্ধান্ত, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটনকে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখার মানসিকতা।
কক্সবাজারকে বদলানোর সময় এখনই। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরবর্তী ধাপ হতে হবে আন্তর্জাতিক পর্যটন সংযোগ। সমুদ্রসৈকতের পরবর্তী ধাপ হতে হবে বিশ্বমানের ব্যবস্থাপনা। পরিবেশ রক্ষার পরবর্তী ধাপ হতে হবে পরিবেশবান্ধব পর্যটন। আর পর্যটনের পরবর্তী ধাপ হতে হবে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার।

কক্সবাজারের ঢেউ প্রতিদিন আমাদের ডাকছে। প্রকৃতি আমাদের যে সম্পদ দিয়েছে, তাকে অবহেলায় ফেলে রাখার সময় শেষ। এখন প্রয়োজন জ্ঞান, পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সেই সম্পদকে দেশের অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা। কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত সমুদ্রসৈকত নয়। সঠিক পরিকল্পনা, রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগে এটি হতে পারে বাংলাদেশের বিশ্ব পর্যটনের প্রবেশদ্বার, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম নতুন দুয়ার।

সৈয়দপুরে বন্ধন শিল্পী গোষ্ঠীর ৩১ বছর পূর্তি উদযাপিত

কক্সবাজার হতে পারে বিশ্ব পর্যটনের প্রবেশদ্বার

প্রকাশিত : ০৪:৩০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটন উন্নয়নকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ বানানোর প্রয়োজন নেই। বরং পরিবেশবান্ধব পর্যটনই হতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ। একটি গাছ কাটার প্রয়োজন হলে তার পরিবেশগত মূল্যায়ন যেমন জরুরি, তেমনি বিকল্প বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাও জরুরি। কোথাও বালিয়াড়ি রক্ষা করতে হবে, কোথাও জলাভূমি রক্ষা করতে হবে, আবার কোথাও পর্যটকের জন্য নিরাপদ হাঁটার পথ তৈরি করতে হবে। সব সিদ্ধান্তই হওয়া উচিত বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে।

পর্যটন উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে স্থানীয় মানুষ। কক্সবাজারের মানুষ শুধু পর্যটকের কাছে দোকানদার বা পরিবহনকর্মী হয়ে থাকবে কেন? তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ট্যুর গাইড, লাইফগার্ড, শেফ, হোটেলকর্মী, ট্রাভেল অপারেটর, নৌযান পরিচালনাকারী, হস্তশিল্প উদ্যোক্তা এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনার অংশীদার করা সম্ভব। এতে পর্যটনের আয় স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়বে।

একজন বিদেশি পর্যটক একটি হোটেলে টাকা খরচ করবেন, রেস্টুরেন্টে খাবেন, স্থানীয় পণ্য কিনবেন, পরিবহন ব্যবহার করবেন, গাইড নেবেন। অর্থাৎ একজন পর্যটক কেবল একজন দর্শনার্থী নন, তিনি একটি অর্থনৈতিক চেইন তৈরি করেন। তাঁর ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি, মৎস্য, হস্তশিল্প এবং অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান।

আরেকটি বিষয় আমাদের গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। কক্সবাজারে শুধু পর্যটক আনলেই হবে না, তাঁকে কয়েক দিন ধরে রাখতে হবে। তিন দিনের প্যাকেজ, পাঁচ দিনের প্যাকেজ, পরিবারভিত্তিক প্যাকেজ, অ্যাডভেঞ্চার প্যাকেজ, ইকো-ট্যুরিজম প্যাকেজ, কনভেনশন ও কনফারেন্স ট্যুরিজম, ওয়েলনেস ট্যুরিজম, সামুদ্রিক খাবার ও স্থানীয় সংস্কৃতিভিত্তিক প্যাকেজ তৈরি করা যেতে পারে। কক্সবাজারের সঙ্গে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রকে যুক্ত করে সমন্বিত ট্যুর প্যাকেজ তৈরি করা হলে একজন বিদেশি পর্যটক শুধু কক্সবাজারে এসে ফিরে যাবেন না। তিনি বাংলাদেশে আরও কয়েক দিন অবস্থান করবেন। বাড়বে তাঁর ব্যয়, বাড়বে দেশের পর্যটন আয়।
রাষ্ট্রকেও কক্সবাজারকে শুধু পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প হিসেবে দেখলে চলবে না। এটিকে অর্থনীতি, বেসামরিক বিমান চলাচল, স্বরাষ্ট্র, পরিবেশ, স্থানীয় সরকার, সড়ক ও যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং বেসরকারি খাতের সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখতে হবে। সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি স্বচ্ছ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, কিন্তু সৈকত, বালিয়াড়ি, পরিবেশ ও জনস্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রেরই থাকবে। পর্যটন উন্নয়নের নামে যেন অপরিকল্পিত দখলদারিত্ব বা অবকাঠামোগত বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সে জন্য শক্তিশালী মাস্টারপ্ল্যান এবং কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।

কক্সবাজার নিয়ে আমাদের মানসিকতাও বদলাতে হবে। শুধু ঈদের ছুটিতে লাখো মানুষের ভিড় আর হোটেল ব্যবসা দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্প তৈরি হয় না। আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্প মানে সারা বছর পর্যটক, সারা বছর কর্মসংস্থান এবং সারা বছর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ। এ শিল্পে বিমানবন্দর থেকে সৈকত, হোটেল থেকে রেস্টুরেন্ট, নিরাপত্তা থেকে পরিবেশ, বিনোদন থেকে সংস্কৃতি, সবকিছুকে একটি সুতোয় বাঁধতে হয়।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা বিশাল। সরকারি নথিতে টেকসই পর্যটন উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রচার, পর্যটন অবকাঠামো আধুনিকীকরণ এবং কক্সবাজারে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সুবিধা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা রয়েছে। এখন প্রয়োজন পরিকল্পনাগুলোকে কাগজ থেকে বাস্তবে নিয়ে আসা। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়নের পথে এগোয়, তাহলে কক্সবাজার শুধু দেশের মানুষের বিনোদনের জায়গা থাকবে না, এটি হয়ে উঠতে পারে একটি বড় অর্থনৈতিক কর্মকেন্দ্র।

কক্সবাজারের সমুদ্র বাংলাদেশের মানুষের। এই সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করার অধিকারও এ দেশের মানুষের। তাই সাধারণ মানুষের জন্য সৈকত উন্মুক্ত থাকুক। পাশাপাশি এক বা একাধিক আন্তর্জাতিক মানের বিশেষ পর্যটন জোন তৈরি হোক, যেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটক অর্থের বিনিময়ে উন্নত সেবা গ্রহণ করবেন। সেই আয় থেকে সৈকতের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করা যেতে পারে। বিদেশি পর্যটক ডলার খরচ করবেন, বাংলাদেশি পর্যটক টাকা খরচ করবেন, কিন্তু উভয়ের ব্যয়ই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হবে।

কক্সবাজারকে যদি আমরা শুধু বেড়ানোর জায়গা হিসেবে দেখি, তাহলে আমরা এর সৌন্দর্য দেখব। কিন্তু যদি একে জাতীয় অর্থনীতির সম্পদ হিসেবে দেখি, তাহলে এর সম্ভাবনাও দেখতে পাব। বিশ্বের অনেক দেশ তাদের প্রাকৃতিক সম্পদকে পর্যটন অর্থনীতিতে রূপান্তর করে এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশও সেই পথে এগোতে পারে। তবে তার জন্য দরকার সাহসী সিদ্ধান্ত, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটনকে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখার মানসিকতা।
কক্সবাজারকে বদলানোর সময় এখনই। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরবর্তী ধাপ হতে হবে আন্তর্জাতিক পর্যটন সংযোগ। সমুদ্রসৈকতের পরবর্তী ধাপ হতে হবে বিশ্বমানের ব্যবস্থাপনা। পরিবেশ রক্ষার পরবর্তী ধাপ হতে হবে পরিবেশবান্ধব পর্যটন। আর পর্যটনের পরবর্তী ধাপ হতে হবে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার।

কক্সবাজারের ঢেউ প্রতিদিন আমাদের ডাকছে। প্রকৃতি আমাদের যে সম্পদ দিয়েছে, তাকে অবহেলায় ফেলে রাখার সময় শেষ। এখন প্রয়োজন জ্ঞান, পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সেই সম্পদকে দেশের অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা। কক্সবাজার শুধু বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত সমুদ্রসৈকত নয়। সঠিক পরিকল্পনা, রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগে এটি হতে পারে বাংলাদেশের বিশ্ব পর্যটনের প্রবেশদ্বার, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম নতুন দুয়ার।