চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের লিখন মণ্ডল, স্থানীয়দের কাছে পরিচিত হেবুল নামে। একসময় ছিলেন চায়ের টং দোকানি। ২০০৪ সালে মাত্র দুই লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে ১২টি গাড়ল দিয়ে শুরু করেছিলেন খামার। এখন তাঁর খামারে দুই জাতের ৫৫০টিরও বেশি গাড়ল রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
প্রতিবছর তিনি ৩০–৩৫ লাখ টাকার গাড়ল বিক্রি করেন। ৩ জন রাখালের বেতন ও খরচ বাদেও তাঁর বার্ষিক লাভ থাকে ৫–৬ লাখ টাকা। গাড়ল খামারের আয় দিয়ে তিনি বাড়ি নির্মাণ, জমি কেনা, মোটরসাইকেল ও মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত দিয়েছেন।
গাড়লের বাচ্চা বিক্রি, বড় গাড়ল ও মাংস রাজধানী ও বিভাগীয় শহরের রেস্তোরাঁগুলোতে সরবরাহ করেন তিনি। দেড় মাস বয়সী বাচ্চা ৮–৯ হাজার এবং পরিপূর্ণ গাড়ল ৫০–৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। চুয়াডাঙ্গায় গাড়ল পালনের পরিবেশ ভালো হওয়ায় তাঁর দেখাদেখি এলাকায় প্রায় ২০ জন নতুন উদ্যোক্তা গাড়ল পালনে আগ্রহী হয়েছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানায়, চুয়াডাঙ্গায় বর্তমানে ৪২ হাজার ৭২১টি গাড়ল পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে দামুড়হুদাতেই রয়েছে ২১ হাজার ৩৯৭টি। নিয়মিত টিকাদান, কৃমিনাশক ও পরামর্শ দিয়ে খামারিদের সহায়তা করা হচ্ছে।
হেবুল বলেন, গাড়ল শান্ত প্রকৃতির প্রাণী; সঠিক পরিচর্যা, শীতকালে নিরাপদ আশ্রয় এবং নিয়মিত টিকা দিলে রোগের ঝুঁকি কম থাকে। সবুজ ঘাস, খড়কুটো ও ভুট্টায় দ্রুত বাড়ে। চাহিদা বেশি হওয়ায় এটি লাভজনক একটি খাত। তিনি আরও বলেন,
প্রাণীরগাড়ল ও ভেড়া দেখতে প্রায় একই রকম। গাড়ল মূলত ভেড়ার জাত। এর দেহ সুঠাম, আকারে বড়, কান ও লেজ লম্বা হয়। আর ভেড়ার কান, লেজ ছোট এবং ওজন কম। গাড়ল বছরে দুবার সর্বোচ্চ তিনটি বাচ্চা দেয়। প্রথমবার এক বছর বয়সে বাচ্চা দেয়। একটি পরিপূর্ণ গাড়লের ওজন হয় ৬০ থেকে ৮০ কেজি।
দামুড়হুদা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নীলিমা আক্তার হ্যাপি জানান, হেবুল মণ্ডল জেলার সফল গাড়ল উদ্যোক্তাদের একজন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত তাঁর খামারের সার্বিক খোঁজ রাখে ও সহায়তা দেয়।
হয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক আ হ ম শামীমুজ্জামান জানান, গাড়লের সাধারণত পিপিআর ও কৃমি-সংক্রান্ত রোগবালাই হয়। এ রোগ প্রতিরোধে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে নিয়মিত টিকা দিয়ে সহযোগিতাসহ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























