ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

খেলাপি ঋণ জাহাজ নির্মাণ খাতের পুনঃতফসিলে বড় ছাড়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০১:৫২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

জাহাজ নির্মাণ খাতের খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলে বড় ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো সহজ শর্তে ঋণ পুনঃতফসিলের পাশাপাশি দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবে। শিল্পটি সচল রাখা ও রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে এ বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধার জন্য আবেদন করা যাবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ইউরোপে সামরিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের নগদ প্রবাহে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় এনে বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রেণিকৃত ঋণ (খেলাপি ঋণ) পুনঃতফসিল করতে হলে মোট ঋণের ওপর ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। এর মধ্যে ১.৫ শতাংশ আবেদনকালে এবং বাকি ১.৫ শতাংশ পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

এর আগে ২০২৩ সালের সার্কুলারের আওতায় যেসব ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছিল, সেগুলো নতুন করে পুনর্গঠন করতে চাইলে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে সর্বোচ্চ আরও দুই বছর সময় বাড়ানো যাবে।

গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে গ্রাহককে মূল ঋণের ওপর ধার্য সুদ মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। আগের বকেয়া সুদ আলাদা ব্লকড হিসাবে রাখা হবে এবং গ্রেস পিরিয়ড শেষে তা সুদবিহীন কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ আবার নিয়ম অনুযায়ী খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণ থাকলেও ব্যবসা ও রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ঋণ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তবে জালিয়াতি, প্রতারণা বা ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন ও বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি সম্ভাবনার কারণে জাহাজ নির্মাণ শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই শিল্পকে সচল রাখা এবং একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় নিশ্চিত করতে এ বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খেলাপি ঋণ জাহাজ নির্মাণ খাতের পুনঃতফসিলে বড় ছাড়

প্রকাশিত : ০১:৫২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

জাহাজ নির্মাণ খাতের খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলে বড় ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো সহজ শর্তে ঋণ পুনঃতফসিলের পাশাপাশি দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবে। শিল্পটি সচল রাখা ও রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে এ বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধার জন্য আবেদন করা যাবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ইউরোপে সামরিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের নগদ প্রবাহে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় এনে বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রেণিকৃত ঋণ (খেলাপি ঋণ) পুনঃতফসিল করতে হলে মোট ঋণের ওপর ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। এর মধ্যে ১.৫ শতাংশ আবেদনকালে এবং বাকি ১.৫ শতাংশ পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

এর আগে ২০২৩ সালের সার্কুলারের আওতায় যেসব ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছিল, সেগুলো নতুন করে পুনর্গঠন করতে চাইলে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে সর্বোচ্চ আরও দুই বছর সময় বাড়ানো যাবে।

গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে গ্রাহককে মূল ঋণের ওপর ধার্য সুদ মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। আগের বকেয়া সুদ আলাদা ব্লকড হিসাবে রাখা হবে এবং গ্রেস পিরিয়ড শেষে তা সুদবিহীন কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ আবার নিয়ম অনুযায়ী খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণ থাকলেও ব্যবসা ও রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ঋণ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তবে জালিয়াতি, প্রতারণা বা ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন ও বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি সম্ভাবনার কারণে জাহাজ নির্মাণ শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই শিল্পকে সচল রাখা এবং একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় নিশ্চিত করতে এ বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া হয়েছে।